০৪:৩৫ পি.এম
বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক দুর্দশা ঘিরে নেপাল আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশটির তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও ক্ষোভ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। গত তিন দিনে দেশটিতে তিন যুবক শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আর তৃতীয়জন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার পর 'বালেন' নামে পরিচিত দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। দেশটির প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, দেশের তরুণদের মনে আশা ও আস্থা জাগাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে বালেন্দ্র শাহর সরকার। খবরটি এনডিটিভির।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের তরুণ প্রজন্মের সংগঠন 'জেন-জি নেপাল' প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর বিরুদ্ধে গণবিরোধী ও স্বৈরাচারী কায়দায় সরকার পরিচালনার অভিযোগ করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বাজেট ও নীতিমালায় বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় ২০২৩ সালে প্রেম আচার্য নামের এক ব্যক্তির আত্মাহুতির বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। उस সময় কাঠমান্ডুর তৎকালীন মেয়র বালেন্দ্র শাহ ওই ঘটনাকে 'রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার রহস্যজনক নীরবতা বিরোধী দল এবং বিক্ষোভকারী উভয় পক্ষের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।
এই ঘটনা তরুণদের অবনতিশীল মানসিক স্বাস্থ্য, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং সরকারি নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে বাড়িয়ে করেছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজ সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই বিক্ষোভ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
২০২২ সালে মেয়র হওয়ার পর বালেন শাহ শহর পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। সেই সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কারণে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হলেও রাস্তার পাশে থাকা হকার এবং বস্তিবাসীদের কাছ থেকে তাকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
তবে বালেন শাহর প্রভাব কেবল প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের সময় তার গানগুলো তরুণদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং ধীরগতির অর্থনীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের কারণে সৃষ্ট এই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। সেই সময় আন্দোলনকারীরা বালেনের 'নেপাল হাসেকো' (হাসছে নেপাল) গানটিকে তাদের প্রতিবাদের প্রতীক বানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এবং পরে গত ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে তার দল বিশাল জয় লাভ করে; যা নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। বালেন শাহ ঝাপা-৫ আসনে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক শক্তির জানান দেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন