ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জেন-জি বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়েছে নেপাল


জেন-জি বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়েছে নেপাল

বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক দুর্দশা ঘিরে নেপাল আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশটির তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও ক্ষোভ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। গত তিন দিনে দেশটিতে তিন যুবক শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আর তৃতীয়জন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনার পর 'বালেন' নামে পরিচিত দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। দেশটির প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, দেশের তরুণদের মনে আশা ও আস্থা জাগাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে বালেন্দ্র শাহর সরকার। খবরটি এনডিটিভির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের তরুণ প্রজন্মের সংগঠন 'জেন-জি নেপাল' প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর বিরুদ্ধে গণবিরোধী ও স্বৈরাচারী কায়দায় সরকার পরিচালনার অভিযোগ করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বাজেট ও নীতিমালায় বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় ২০২৩ সালে প্রেম আচার্য নামের এক ব্যক্তির আত্মাহুতির বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। उस সময় কাঠমান্ডুর তৎকালীন মেয়র বালেন্দ্র শাহ ওই ঘটনাকে 'রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার রহস্যজনক নীরবতা বিরোধী দল এবং বিক্ষোভকারী উভয় পক্ষের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

এই ঘটনা তরুণদের অবনতিশীল মানসিক স্বাস্থ্য, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং সরকারি নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে বাড়িয়ে করেছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজ সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই বিক্ষোভ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

২০২২ সালে মেয়র হওয়ার পর বালেন শাহ শহর পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। সেই সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কারণে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হলেও রাস্তার পাশে থাকা হকার এবং বস্তিবাসীদের কাছ থেকে তাকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

তবে বালেন শাহর প্রভাব কেবল প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের সময় তার গানগুলো তরুণদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং ধীরগতির অর্থনীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের কারণে সৃষ্ট এই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। সেই সময় আন্দোলনকারীরা বালেনের 'নেপাল হাসেকো' (হাসছে নেপাল) গানটিকে তাদের প্রতিবাদের প্রতীক বানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এবং পরে গত ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে তার দল বিশাল জয় লাভ করে; যা নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। বালেন শাহ ঝাপা-৫ আসনে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক শক্তির জানান দেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মান্দায় লিজ নেওয়া পুকুর দখলচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


মান্দায় লিজ নেওয়া পুকুর দখলচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সরকারি নিয়মনীতি মেনে ইজারা নেওয়া একটি পুকুর জোরপূর্বক দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। এই কারণে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ এবং মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানববন্ধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমএসইউ) মান্দা শাখা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সংবাদ সম্মেলনে ‘নাপিতপাড়া-পারকুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, সমিতির ২১ জন নিবন্ধিত খেটে-খাওয়া মৎস্যজীবী সদস্য সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে নাপিতপাড়া মৌজার দাগ নং ৬৫১ ও ৭৩৯-এর মোট ৯ দশমিক ৩৬ একর পুকুর ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য সরকারিভাবে ইজারা গ্রহণ করেন। ইজারা পাওয়ার পর পুকুরটির সীমানা নির্ধারণ ও দখল বুঝে পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করা হলে, ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার সীমানা নির্ধারণ করে সমিতিকে দখল বুঝিয়ে দেন।

তিনি দাবি করেন যে, সমিতির কাছে সরকার প্রদত্ত ডিসিআর (DCR), টিসিআর (TCR), ব্যাংক চালান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁরা আইনগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, চলতি বছর ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ও বহিরাগত ব্যক্তি পুকুরটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। মো. হেলাল উদ্দিন, সাহেব আলী ও মো. মঞ্জু নামক কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও পুকুর দখলের চেষ্টা, মাছ আহরণে বাধা সৃষ্টি, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা মানববন্ধনের আয়োজনের অভিযোগ তোলা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয় যে, প্রশাসন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আইনগতভাবে পুকুরের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সমিতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁদের অব্যাহত হুমকি ও হয়রানির কারণে সমিতির ২১টি দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরপূর্বক দখলচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান। পাশাপাশি বৈধ ইজারার আওতায় নির্বিঘ্নে মাছ চাষ ও জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য নতুন কমিটি গঠন, সভাপতিত্ব প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য নতুন কমিটি গঠন, সভাপতিত্ব প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন কমিটি গঠন করেছে। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। উক্ত কমিটির নাম ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ এবং এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রোববার (১২ জুলাই) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। ১১ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত আছেন।

প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কমিটির সভাপতি থাকবেন। সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। কমিটির ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন।

অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক। ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সহায়তা করার জন্য কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি এবং অন্যান্য সংস্থা প্রধান।

কমিটির কার্যপরিধিতে এটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের তদারকি করবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট করতে এটি কাজ করবে।

এছাড়া, প্রধান সমন্বয়কের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের উচ্চতর ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কৌশল তৈরি করবে। এই বিশেষ ‘পর্ষদ’ আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে তাদের কৌশল জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। তবে, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরবর্তীতে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থানকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডা বসে এই মাদরাসায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডা বসে এই মাদরাসায়

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দক্ষিণ সোনাতনকাটি গ্রামের সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদরাসা একসময় এলাকার মানুষের স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে এখন এটি পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ভবনে। স্থানীয় সংগঠিতরা অভিযোগ করছেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে সেখানে নিয়মিত কোনো শিক্ষার্থী নেই, নেই পাঠদানও। কিন্তু কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটি সচল রয়েছে।

মাদরাসাটিতে বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৭ জন। প্রতি বছর সরকারি বইয়ের চাহিদা দেওয়া হচ্ছে এবং উপবৃত্তির সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্থানীয়দের ভাষ্যে, দিনের বেলায় শ্রেণিকক্ষগুলো গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং রাতে সেখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয়রা ৩২ শতক জমি দান করেছিলেন, সেটি শিক্ষা কার্যক্রম হারিয়ে ফেলায়, এখন সেই জমি ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জমি দাতারা।

উপজেলার দক্ষিণ সোনাতনকাটি গ্রামে ১৯৯৮ সালে স্থানীয়দের দান করা ৩২ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদরাসা। জমিদাতা রেখা বেগম, আনোয়ারা বেগম এবং আকবর মোড়লসহ অন্যান্যরা জানিয়েছেন, জমি দানের সময় শর্ত ছিল- যদি কোনোদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে জমি দাতা বা তাদের উত্তরাধিকারীদের কাছে জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

জমিদাতা আকবর মোড়লের অভিমত, প্রতিষ্ঠার পরে কিছু বছর মাদরাসাটি স্বাভাবিকভাবে চললেও পরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ধ্বংস হয়ে যায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর থেকে কোনো শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীও নেই। নেই নিয়মিত ক্লাস, নেই কার্যকর শিক্ষা উপকরণ। তবে প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে সচল দেখিয়ে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস মাদরাসাটির উদ্বোধন করেন এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। কিন্তু পরে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সচল দেখিয়ে সরকারি সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে।

এবং অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরেও শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি পাঠ্যবইয়ের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, এই বছর ২২৫ সেট বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির জন্য ১৫ সেট এবং ষষ্ঠ থেকে দাখিল দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির জন্য ১০ সেট বই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মীর নুরে আলম বলেন, এটি একটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান। তাদের আরও বেশি বইয়ের চাহিদা ছিল, তবে কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপবৃত্তির সুবিধাও তারা পেয়ে আসছে। কীভাবে এসব সুবিধা পাচ্ছে, সেটি তদন্তের বিষয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসার শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে রাখা হয়েছে গোখাদ্য। কিছু কক্ষে ছাগল বাঁধা রয়েছে। এমনকি কোথাও কোনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল না। অধিকন্তু, প্রতিষ্ঠানের কার্যকর অফিস কক্ষও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার সহকারী শিক্ষিকা রাশিদা খাতুন বাড়ির উঠানে ধান শুকাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, "আমি এইমাত্র ক্লাস নিয়ে এলাম।" কিন্তু মাদরাসার কোথাও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রভাষক শফিয়ার রহমান বলেন, "এত বড় জালিয়াতি ও অনিয়ম আমি আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। এখানে যা কিছু সরকারি বরাদ্দ আসে, সবই স্বামী-স্ত্রী মিলে আত্মসাৎ করেন বলে এলাকায় ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।"

দাতা আকবর মোড়ল বলেন, "আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে জমি দিয়েছিলাম। এখন সেখানে বছরের পর বছর কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাই আমি শর্ত অনুযায়ী জমি ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছি।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একবার ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই বলেন, "পরে কথা বলছি।" এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার বাড়িতে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, "এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান পাইকগাছায় রয়েছে, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা সিআইডির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা সিআইডির

বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে, হরিদাস চন্দ্র তরণী, যিনি তৌহিদ ইসলাম নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ বিষয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র তরণী ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। জনগণের মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তিনি নিজে ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি, পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকল প্রদর্শন করতেন।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্তের বৈধ কোনো আয়ের উৎস নেই। তবে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে মোট ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ব্যক্তি তার হিসাবে অর্থ জমা করেছেন, যা তার পেশা ও পরিচয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধির প্রয়োজনীয় ধারা অনুযায়ী প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%