ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী


নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে দেশের সবার প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বৃদ্ধি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তারা। একইসঙ্গে, ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিরা তাকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।”

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।”

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তারেক রহমান বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।”

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও সেখানে ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সহযোগিতায় ‘ক্লিন চাঁদপুর’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সহযোগিতায় ‘ক্লিন চাঁদপুর’

মা ইলিশের ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীর মিঠা পানিতে আসা মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে ‘ক্লিন চাঁদপুর’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত শহরের পুরান বাজার রনাগোয়াল, হরিসভা, দোকানঘর, বহরিয়া এলাকায় জেলেদের মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

সংগঠনের সদস্যরা এ সময় জেলেদেরকে অসাধু উপায়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার না করার এবং মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ জানান। একই সাথে এসব এলাকার প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

‘ক্লিন চাঁদপুর’ এর প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সরকারের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ইলিশ না ধরার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "কারণ ইলিশ জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।"

তিনি আরও বলেন, "২২ দিনের জন্য সরকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। তারপরেও জেলেদের পাশে আমরা ক্ষুদ্র উপহার নিয়ে এসেছি। তাদের যেন কিছুটা হলেও সহায়ক হয়।"

‘ক্লিন চাঁদপুর’ সংগঠনটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছে। চাঁদপুর শহরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ‘বর্জ্যরে বিনিময়ে খাদ্য ও গাছ বিতরণ কর্মসূচি’ পরিচালনা করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ও সড়ক সংস্কার সহ যে কোন দূর্যোগে সরকারের পাশাপাশি এই সংগঠনের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকভাবে কাজ করে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশের বিশাল জনগণের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়, এ কথা উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগণের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’

রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জানান, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’

তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’

তিনি উল্লেখ করেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’

তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’

জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’

নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’

অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান।

নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।

এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়।

এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন।

নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস:

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন দিন ধরে মেয়ে নেই, বাবা-মায়ের উদ্বেগ লক্ষ্য করিনি: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


তিন দিন ধরে মেয়ে নেই, বাবা-মায়ের উদ্বেগ লক্ষ্য করিনি: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, পরিবারের দায়িত্ববোধ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি কুমিল্লার শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, "একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা-মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকার কথা, তা তিনি লক্ষ্য করেননি।" রাষ্ট্রপতির মতে, এ ঘটনা সমাজের গভীরে থাকা মানসিক সংকট ও উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "সমাজে নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হলেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।" কন্যাশিশুর প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীল আচরণ, তাদের চলাফেরায় নিরাপত্তা এবং বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তাজমিন হত্যার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, "একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ, অথচ তার বাবা-মায়ের মধ্যে স্বাভাবিক যে উদ্বেগ থাকার কথা, তা লক্ষ্য করা যায়নি।" তিনি এ ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে সমাজের মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের সংকটের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি এবং দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি।" অবহেলা থাকলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, "অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের স্কুলের বাইরে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত না হওয়ায় মায়েদের ফুটপাথে কাগজ বিছিয়ে অপেক্ষা করতে হয়।" তাঁর মতে, এ পরিস্থিতি সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, "শুধু আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এ জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।" নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা যাতে ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কন্যাশিশু ও কিশোরীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জের সুধাংশু বিশ্বাস হত্যা মামলায় রবিন বিশ্বাসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


সুনামগঞ্জের সুধাংশু বিশ্বাস হত্যা মামলায় রবিন বিশ্বাসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের সুধাংশু বিশ্বাস হত্যা মামলায় রবিন বিশ্বাস নামের একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের জেলা দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এই রায় প্রদান করেন। আদালতের পি.পি অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রবিন বিশ্বাস বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর লখনা গ্রামের রতিশ বিশ্বাসের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় রবিন বিশ্বাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামি রবিনের মা চিনু রানী বিশ্বাসকে মামলা থেকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ জুন আসামি রবিন বিশ্বাসের বোন শিপ্ৰা রানী বিশ্বাস ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এই ঘটনার পর থেকে চিনু রানী বিশ্বাস প্রায়ই প্রতিবেশী সুধাংশু বিশ্বাসকে অলক্ষী বলে অপবাদ দিতেন। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২৫ আগস্ট দুপুর ১২ টার সময় চিনু রানী বিশ্বাস এবং তার ছেলে আসামি রবিন বিশ্বাস সুধাংশু বিশ্বাসকে অলক্ষী বলে গালিগালাজ করেন। সুধাংশু বিশ্বাস প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এ সময় একই গ্রামের মহেন্দ্র বিশ্বাস প্রকাশ মঙ্গল ও সজলা বিশ্বাসসহ স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সাক্ষী মহেন্দ্র বিশ্বাস সুধাংশু বিশ্বাসকে নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সময় আসামি চিনু রানী বিশ্বাস তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি ছেলে আসামি রবিন বিশ্বাসের হাতে তুলে দিয়ে সুধাংশু বিশ্বাসকে খুন করার নির্দেশ দেন। তখন আসামি রবিন বিশ্বাস ওই লাঠি নিয়ে সুধাংশু বিশ্বাসের পিছু ধাওয়া করে সজলা বিশ্বাসের ঘরের সামনে পৌঁছে তার মাথার পিছনে আঘাত করেন। এতে সুধাংশু বিশ্বাসের মাথায় গুরুতর জখম হয়। গুরুতর আহত সুধাংশু বিশ্বাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

এই ঘটনায় রবিন বিশ্বাস এবং তার মা চিনু রানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত শুনানী শেষে আসামি রবিন বিশ্বাসকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ডের অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি রবিন বিশ্বাস পলাতক ছিলেন। মামলার অন্য আসামি রবিন বিশ্বাসের মা চিনু রানী বিশ্বাস দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় তাকে খালাস প্রদান করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%