প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, পরিবারের দায়িত্ববোধ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি কুমিল্লার শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, "একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা-মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকার কথা, তা তিনি লক্ষ্য করেননি।" রাষ্ট্রপতির মতে, এ ঘটনা সমাজের গভীরে থাকা মানসিক সংকট ও উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "সমাজে নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হলেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।" কন্যাশিশুর প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীল আচরণ, তাদের চলাফেরায় নিরাপত্তা এবং বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তাজমিন হত্যার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, "একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ, অথচ তার বাবা-মায়ের মধ্যে স্বাভাবিক যে উদ্বেগ থাকার কথা, তা লক্ষ্য করা যায়নি।" তিনি এ ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে সমাজের মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের সংকটের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।
কন্যাশিশুর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি এবং দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি।" অবহেলা থাকলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, "অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের স্কুলের বাইরে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত না হওয়ায় মায়েদের ফুটপাথে কাগজ বিছিয়ে অপেক্ষা করতে হয়।" তাঁর মতে, এ পরিস্থিতি সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, "শুধু আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এ জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।" নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা যাতে ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কন্যাশিশু ও কিশোরীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন