ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, চবিতে চাকসুর বিক্ষোভ


প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, চবিতে চাকসুর বিক্ষোভ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশনের নামে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। চাকসুর নেতারা দাবি করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্য বন্ধ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা এ সময় ‘প্ল্যান প্ল্যান কিসের প্ল্যান, ভেরিফিকেশনের মাস্টার প্ল্যান’, ‘আবু সাঈদের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ এবং ‘চাকরি নিয়ে প্রহসন, চলবে না চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন কর্পোরেশন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, জুট কর্পোরেশন ও ওভারসিজ এমপ্লয়িজসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে। সাঈদ বিন হাবিব দাবি করেন, এসব পদ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও সেখানে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটির পর একটি এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। সাঈদ বিন হাবিব বলেন, বিএনপি অতীতেও ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যতেও এমন কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেবে না।"

সাঈদ বিন হাবিব আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ যেভাবে চায়, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশ পরিচালনা করুন। তাহলে জনগণ ও সব রাজনৈতিক দল সহযোগিতা করবে।"

চাকসুর সাধারণ সম্পাদক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার একটি কমিটির মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিতে চেয়েছিল। তবে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এখন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সুপারিশ বা গেজেট প্রকাশ না করে ভেরিফিকেশনের অজুহাতে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি মন্তব্য করেন, বারবার মানুষকে ক্ষুব্ধ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তবে চাকসুর এই নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর পর পাওয়া ম্যান্ডেট সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাবে।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন দেয়। ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, "নির্বাচন-পরবর্তী সরকারও একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণকে হতাশ করেছে।"

দেশের তেল-গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, এসব সংকটে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা ও ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নতুন নতুন বাধার মুখে পড়ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের যোগদানের সময় ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে এই পরিকল্পনাও ব্যর্থ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইসহাক ভূঁইয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে চাইলে ছাত্রসমাজ ও জনগণের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। তিনি সতর্ক করেন, "অন্যথায় সরকারকে জনরোষের মুখে পড়তে হতে পারে।"

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

বিক্ষোভ মিছিলে চাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিসের ইতিহাস গড়া জয়, জার্মানিকে হারাল ১-০ ব্যবধানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


গ্রিসের ইতিহাস গড়া জয়, জার্মানিকে হারাল ১-০ ব্যবধানে

গ্রিস ইতিহাস গড়েছে জার্মানিকে হারিয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়লাভ করেছে তারা। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু হওয়া দ্বৈরথে গ্রিসের এটি ছিল ১১তম ম্যাচ এবং এই প্রথমবার তারা জয়ের স্বাদ পেল।

অগসবুর্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে জার্মানির আধিপত্য ছিল। যদিও তারা গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে, গ্রিসের রক্ষণ ভাঙতে তারা সক্ষম হয়নি। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে জার্মানির পোস্টে গ্রিসের শট ছিল মাত্র একটি, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।

ক্রিস্টোস জোলিস ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন। জার্মানির ডান প্রান্ত দিয়ে জোশা ভাগনোমানকে কাটিয়ে কুরবেলিসের কাছে বল বাড়ান আর্সেনালের এই উইঙ্গার। এরপর ফেলিক্স নেমেচাকে ফাঁকি দিয়ে নিচু শট নেন জোলিস। তার নেওয়া শট জার্মান অধিনায়ক জোশুয়া কিমিচের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে।

জার্মানি গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও গ্রিসের শক্তিশালী রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গ্রিস।

জার্মানির দায়িত্ব নেওয়ার পর ইয়ুর্গেন ক্লপের জন্য এটি সুখকর সময় নয়। নতুন দায়িত্বে প্রথম দুই ম্যাচেই তিনি জয়হীন রয়ে গেলেন। আগের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ১-১ গোলে ড্র করেছিল জার্মানি। এবার ঘরের মাঠে গ্রিসের কাছে হারতে হলো তাদের।

এই জয়ের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ এ-২-এ গ্রিস দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, যারা চার পয়েন্ট নিয়ে আছে। আর এক পয়েন্ট নিয়ে জার্মানির অবস্থান তৃতীয়। একই রাতে নেদারল্যান্ডস ১-০ গোলে সার্বিয়াকে পরাজিত করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মজীবী নারীদের যাতায়াতে চালু হচ্ছে ১০০টি নতুন পিংক বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


কর্মজীবী নারীদের যাতায়াতে চালু হচ্ছে ১০০টি নতুন পিংক বাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, নারীদের স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য ১৩টি রুটে চলমান ১৪টি পিংক বাসের সংখ্যা অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। এ কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও ১০০টি বাস চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেগুলোকে সোজা ও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পগুলোর জন্যও স্ট্রেইট লাইন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বৈঠকে জানানো হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমীন দুলাল, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও মো. মতিয়ার রহমান অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ আমন্ত্রণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানও বৈঠকে যোগদান করেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং স্থায়ী কমিটির সব সদস্যের সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাবৃন্দের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভাগ ও দপ্তরসমূহের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দকে অবহিত করা হয়। এছাড়া, সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কমিটি কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এলাকায় ৭২ একর জমির ওপর নির্মিত অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রিসোর্টের বর্তমান অবস্থা সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করে।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, সেতু বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোকে বেঞ্চে রেখে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারাল পর্তুগাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


রোনালদোকে বেঞ্চে রেখে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারাল পর্তুগাল

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বাধীন নরওয়েকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে পর্তুগাল। অসলোতে অনুষ্ঠিত নেশনস লিগের ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে ছিলেন পর্তুগিজ তারকা। তার পরিবর্তে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া গনসালো রামোস গোল করে দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে শুরু করে পর্তুগাল। ১৭তম মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রস থেকে নিচু কোনাকুনি শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জোয়াও ফেলিক্স। আগের ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করে জয় নিশ্চিত করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।

তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরে নরওয়ে। ৫১তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান সমতায় ফেরান আর্লিং হালান্ড। এটি ছিল নেশনস লিগে তার ২২তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রোনালদো ও সার্বিয়ার আলেক্সান্দার মিত্রোভিচের চেয়ে সাত গোল এগিয়ে গেলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।

হালান্ডের গোলের মাত্র তিন মিনিট পর পর্তুগাল আবারও এগিয়ে যায়। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নিল্যান্ডের ভুল পাস কেড়ে নিয়ে গোল করেন গনসালো রামোস। শেষ পর্যন্ত তার সেই গোলই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।

দ্বিতীয়ার্ধে রামোস আরও একটি গোল করেন। নিল্যান্ডের আরেকটি ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে রামোস মন্তব্য করেন, "প্রত্যেক মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমি ডাক পেলে কী করতে পারি এবং দলে কী অবদান রাখতে পারি, সেটা দেখানো। এটা ছিল দলের জন্য আমার নিদর্শন, শুধু গোল নয়, মাঠে আমি যা করি সবকিছুই।"

এদিকে, পর্তুগালের হয়ে ওয়েলসের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকা রোনালদো এবার পুরো ম্যাচই কাটিয়েছেন বেঞ্চে। আগের ম্যাচে তাকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।

এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে পর্তুগাল। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নরওয়ে। একই পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, যারা ২-০ গোলে ওয়েলসকে পরাজিত করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোরআন-হাদিসের আলোকে বিয়ের ১০টি উপকারিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


কোরআন-হাদিসের আলোকে বিয়ের ১০টি উপকারিতা

বিয়ে মানুষের জীবনে কেবল একজন জীবনসঙ্গী পাওয়ার উপায় নয়। বরং এর মাধ্যমে গড়ে ওঠে পরিবার, দাম্পত্য সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন। ইসলামে বিয়েকে বৈধ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে শান্তি, ভালোবাসা, পবিত্রতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নেক সন্তান লাভের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপকারিতা হলো-

১. দ্বীন ও ইমানের পূর্ণতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, "কোনো বান্দা যখন বিবাহ করে, তখন সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে নেয়। এরপর অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে তাকে আল্লাহকে ভয় করতে হবে।" (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ৫৪৮৬)

এছাড়া, বিয়ের মাধ্যমে দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হেফাজত করা সহজ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যুবকদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ এটি দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে অধিক সহায়ক।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৯৩)

২. নবী-রাসুলদের সুন্নত পালন

বিয়ে নবী-রাসুলদের সুন্নতগুলোর অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে বিবাহ করেছেন এবং সাহাবিদেরও বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। বিশেষ করে সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

অতএব, ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে কেবল সামাজিক একটি প্রথা নয়; বরং এটি সুন্নাহসম্মত জীবনব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

মানুষের স্বাভাবিক জৈবিক চাহিদা রয়েছে। ইসলাম এই চাহিদাকে অস্বীকার করেনি; বরং বৈধভাবে তা পূরণের ব্যবস্থা করেছে। বিয়ে মানুষকে অবৈধ সম্পর্ক ও নানা ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ বিয়ে দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে সহায়ক।" আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, তাকে রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারি)

৪. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি

কোরআনে দাম্পত্য সম্পর্ককে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করে। আর তিনি তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।" (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)

অর্থাৎ বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, মমতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

৫. আত্মিক প্রশান্তি লাভ

দাম্পত্য জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরস্পরের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করা। সুরা আর-রুমের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ দাম্পত্য জীবন কেবল একসঙ্গে বসবাসের বিষয় নয়; বরং এটি মানসিক শান্তি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক।

৬. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ঢাল

কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বোঝাতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।" (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭)

পোশাক যেমন মানুষকে আচ্ছাদিত ও সুরক্ষিত রাখে, তেমনি স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের জন্য নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও আস্থার আশ্রয় হতে পারেন। পরস্পরের দুর্বলতা গোপন রাখা, বিপদে পাশে থাকা এবং সম্মান বজায় রাখা দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

৭. রিজিকে বরকতের মাধ্যম

বিয়ে জীবনে রিজিক ও কল্যাণের মাধ্যম হতে পারে। কোরআনে অবিবাহিতদের বিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, "তারা দরিদ্র হলে তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।" (সুরা আন-নুর, আয়াত: ৩২)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শুধু আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় বৈধ বিয়েকে অসম্ভব মনে না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিয়ের পর প্রত্যেকের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন একইভাবে ঘটবে; রিজিক ও কল্যাণ মূলত আল্লাহর হাতে।

৮. বৈধ সন্তান ও বংশধারা

বিয়ের মাধ্যমে বৈধ পরিবার ও সন্তান-সন্ততির ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ বলেন, "তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের মাধ্যমে সন্তান ও নাতি-নাতনি দিয়েছেন।" (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৭২)

সন্তান কেবল বংশধারা অব্যাহত রাখে না; সঠিক ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিকতার মাধ্যমে তারা পরিবার ও সমাজে কল্যাণের ধারাও এগিয়ে নিতে পারে।

৯. নেককার জীবনসঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগী

ইসলামে নেককার জীবনসঙ্গীর গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "দুনিয়ার সামগ্রীর মধ্যে নেককার স্ত্রী সর্বোত্তম সম্পদ।" (সহিহ মুসলিম)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, "কোনো নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর বৈধ অধিকার আদায় করে, তাকে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে বলা হবে।" (মিশকাতুল মাসাবিহ)

এ থেকে বোঝা যায়, নেককার জীবনসঙ্গী দুনিয়ার জীবনে যেমন সহযোগী হতে পারেন, তেমনি আল্লাহর আনুগত্যের পথেও সহায়ক হতে পারেন।

১০. নেককার সন্তান মৃত্যুর পরও উপকারে আসে

সন্তান নেককার ও আল্লাহভীরু হয়ে বেড়ে উঠলে তার দোয়া বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরও উপকারের কারণ হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।" (সহিহ মুসলিম)

সুতরাং, বিয়ের মাধ্যমে শুধু একটি পরিবার গঠনই নয়, বরং নেক সন্তান প্রতিপালনের সুযোগও তৈরি হয়। সেই সন্তান পরবর্তী সময়ে বাবা-মায়ের জন্য দোয়া ও কল্যাণের কারণ হতে পারে।

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে তাই কেবল সামাজিক বন্ধন নয়; বরং এটি পবিত্রতা রক্ষা, পারিবারিক শান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা, সন্তান-সন্ততির সুশিক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%