বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৪ পি.এম
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) অভিযোগ করেছে যে, বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছে, যা মানবাধিকার সুরক্ষায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার ফল। সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তিনটি আইন, যা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার দ্বারা তৈরি সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে, সে সম্পর্কে এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডাব্লিউ জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে, নির্বাচিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা কমিয়ে দিয়েছে এবং এর তদন্তের ক্ষমতাও দুর্বল করেছে বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডাব্লিউ।
এইচআরডাব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, "বাংলাদেশের প্রকৃত নিরাপত্তা খাত সংস্কার প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "একটি স্বাধীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান দরকার, যার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।" নিরাপত্তা বাহিনীকে নজরদারি ও জবাবদিহির বাইরে রাখার সরকারি উদ্যোগ জনগণের মধ্যে এই আস্থা তৈরি করবে না যে হত্যা ও গুমের ঘটনা অতীতেই থেকে যাবে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, সমালোচকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে এইচআরডাব্লিউ। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, গুম ও হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও তারেক রহমানের সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত শত শত ব্যক্তিকে নির্বিচারে আটক করে রেখেছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। তবে, সংস্থাটির স্বাধীনতা সীমিত ছিল এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতাও ছিল না। কমিশনের নিয়োগ কমিটিতে সরকার ও সরকারঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন কেবল সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে এবং সুপারিশ করতে পারত।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনের সদস্য নিয়োগে আরও স্বাধীন ব্যবস্থা, স্বাধীন অর্থায়ন ও জনবল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে আটককেন্দ্রগুলো পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছিল, যা নির্যাতনবিরোধী ঐচ্ছিক প্রটোকলের অধীনে প্রয়োজনীয়।
ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর অধ্যাদেশটি বহাল রাখা অথবা কার্যকারিতা হারানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু এইচআরডাব্লিউ জানিয়েছে, বিএনপি সরকার সেটি বহাল রাখেনি।
৬ সেপ্টেম্বর বিরোধীদের সংসদ বর্জনের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত নতুন আইন পাস হয়েছে। এই আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা কমিশনের নেই। কমিশন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। তবে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রতিবেদন না দিলে অথবা দেওয়া প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে কমিশন নিজস্ব তদন্ত করতে পারবে, এমন একটি অস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি এর বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতাও কমানো হয়েছে এবং জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থার মর্যাদা ও স্বাধীনতা হ্রাস করা হয়েছে। এইচআরডাব্লিউয়ের মতে, তদন্তের ক্ষমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও পর্যাপ্ত সম্পদের দিক থেকে নতুন আইনটি প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে হচ্ছে।
৬ সেপ্টেম্বর সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনও পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইনে সেই ক্ষমতা বাদ দিয়ে অভিযুক্ত সংস্থা ছাড়া অন্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে কমিশনকে আটককেন্দ্র, এমনকি গোপন আটকস্থল হিসেবে সন্দেহ করা জায়গাও পর্যবেক্ষণ, পরিদর্শন ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইনে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের অধ্যাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিধিতে থাকা কমান্ডের দায়বদ্ধতার মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল। সেখানে কোনো কর্মকর্তা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জানার কথা থাকা সত্ত্বেও তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে দায়ী হতে পারতেন। নতুন আইনে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়ী করতে তার সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ প্রয়োজন হবে।
১০ সেপ্টেম্বর সংসদ বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন আইন পাস করে। এর মাধ্যমে র্যাবের নাম পরিবর্তন করে বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন করা হয়। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংস্থাটির সাত সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। এ ছাড়া র্যাবের কয়েকজন সাবেক সদস্যের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যার মধ্যে গুমের অভিযোগও রয়েছে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।
বিএনপি আগে র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচও র্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।
নতুন আইনে র্যাবের সদস্য, ক্ষমতা, সম্পদ ও নথিপত্র বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়নের কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাহিনীটির প্রতীকেও র্যাবের পরিবর্তে শুধু বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়নের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
গত মে মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, নাম পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা নতুন বাহিনীটিতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, তদারকি ও জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে এইচআরডাব্লিউ।
এইচআরডাব্লিউ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়নের বিধিমালা প্রণয়নের সময় মানবাধিকার যাচাই, স্বাধীন বাহ্যিক তদারকি, গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষেত্রে সুরক্ষা, র্যাবের নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণ এবং বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত সামরিক সদস্য মোতায়েন বন্ধের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর চাপ দিতে।
সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের উদীয়মান মানবাধিকার পরিস্থিতি ও নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
এলেইন পিয়ারসন বলেন, "ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আগের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তারেক রহমান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।" কিন্তু নতুন সরকার দ্রুত শেখ হাসিনা সরকারের ‘নিপীড়নমূলক পদাঙ্ক’ অনুসরণ করছে দেখে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ তিনি সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অধিবেশনে যোগ দেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের আসনগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো থাকায় ‘বি’ আদ্যাক্ষরের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রথম সারিতে আসন লাভ করে।
মিলনায়তনে প্রবেশ করার পর প্রধানমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানান। এরপর তিনি নিজের আসন গ্রহণ করেন। ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২ জুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তিনি ৯৯ ভোট অর্জন করেন। জাতিসংঘের নথিতে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নিজের আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
এবারের সাধারণ বিতর্কে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতিসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ হবে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাষণটি তিনি বাংলায় দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।
সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া ভাষণে বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরার কথা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কালিয়াকৈরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দৈনিক ইনকিলাব এবং বাংলা টিভির সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সেমিনার কক্ষে (২২ই সেপ্টেম্বর ২৬ ইং) অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক আব্দুল মান্নান জানান, বাংলাদেশ বন বিভাগের কালিয়াকৈর ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন চান্দরা বন বিটের হরতকিতলা মৌজার সিএস ৭৫ আরএস ১০৯ দাগে ০.৮০ একর জমির একটি উডলট বাগানের প্লট রক্ষণা বেক্ষণের জন্য ২০০৭ সালে উপকারীভোগী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত সময়ে সুন্দরভাবে উডলট বাগান রক্ষণাবেক্ষণসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালন করায় পুনরায় ২০২০-২০২১ সালে সৃজিত বাগানের উপকারভোগী হিসেবে ২৭ নং প্লটে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তিনি জানান, "এবারও আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছি।" ইতিমধ্যেই তার সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার স্থানীয় ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতারক ও লোভী কুচক্রী মহল তার রক্ষণাবেক্ষণকৃত উডলট বাগানের প্লটে গাছ নষ্ট করে জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে তিনি আইনগতভাবে প্রতিবাদ করেন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, "আমি উক্ত অপচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়ারত হোসেন জানান, সাংবাদিক মান্নানকে বন বিভাগের একটি প্লট দেখাশোনা করার জন্য দলিল করে দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে বেলায়েত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এই মানববন্ধনটি আমি একা করি নাই, এলাকার কিছু লোকজন আয়োজন করেছে, আমি তাদের সাথে ছিলাম।"
কালিয়াকৈর চন্দ্র বিটের কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, "আমরা সাংবাদিক মান্নানকে একটি উডলট বাগান প্লট দিয়েছি, সে দেখাশোনার দায়িত্বে আছে। ওই প্লটে কিছু ঝামেলা হয়েছে, আমরা জানতে পেরেছি, এই বিষয়ে বন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, "বনের জমির গাছ নষ্ট করে কোন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি সরজমিনে গিয়ে দেখবো, আইনগত ব্যবস্থা নেব।"
প্রতিবাদ সভা শেষে সাংবাদিক মান্নান কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলার প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
আব্দুল আলীম অভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ডের বিলপাড় ডুয়াইগাঁওয়ের কাজী শামসুল আলমের নিকটবর্তী একটি ব্রিজ এবং ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ইটের রাস্তা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই রাস্তা ব্যবহার করে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার লোক প্রতিদিন খুব কষ্টে চলাফেরা করে আসছে। ব্রিজটির প্রায়ই ভেঙে থাকার কারণে রাতের বেলায় পথচারীদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সিএনজি অটো এবং বাইক এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে উল্টে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে গ্রামবাসীদের মধ্যে রইছ উদ্দিন, আলী আকবরসহ অনেকেই গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ৩০ বছর আগে একজন ব্যক্তি সরকারি বরাদ্দ এনে রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। সেইসাথে ব্রিজটিও সরকারি বরাদ্দে নির্মিত হয়েছিল। গত ২০ বছর ধরে এই ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার ফলে তাদের চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারা জানতে চান, আদৌ কি গ্রামীণ অবকাঠামোগত এই রাস্তা পুনর্নির্মাণ হবে?
এদিকে উপজেলার সরারচর থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তা ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে। অন্যদিকে, সিনেমা হল মোড় থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তারও একই অবস্থা বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি করেছেন, এলজিডির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই রাস্তা উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ বিষয়ে জরিমানা এবং ভবিষ্যতে রুট পারমিট প্রদান নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী আরও জানান, নতুন নির্ধারিত বাসভাড়ার প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবারই প্রকাশিত হবে। গেজেট প্রকাশের পর নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের একটি দীর্ঘকালীন পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতি অনুসারে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম এক টাকা বাড়লে প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া এক পয়সা বাড়ানোর যৌক্তিকতা রয়েছে।
এবার জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর বাস মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি উঠেছিল। পরিবহন মালিকেরা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও এক্সেসরিজের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, আগেরবার জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী ১৫ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ছিল। তবে আলোচনা করে তখন প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।
এবারও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ২০ পয়সার পরিবর্তে ১৭ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “ভাড়া বাড়ানো জনগণের জন্য চাপ। না বাড়াতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পরিবহন সেক্টরের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি ওঠা স্বাভাবিক।
বাসভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে পরিবহন মালিকদের প্রতিনিধি, মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। বৈঠকে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন।
বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা
নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর কোনো বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যদি কেউ এই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়, তার রুট পারমিট ক্যানসেল হবে, ফাইনের ব্যবস্থা থাকবে এবং আগামীতে রুট পারমিট থাকবে কি না, পাবে কি না সেটা নিয়েও জবাবদিহি করতে হবে।”
ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগেরবার ভাড়া বাড়ানোর পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এবারও ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হবে না।
তবে বিচ্ছিন্নভাবে দু-এক জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। পরিবহন খাত সব জায়গায় পুরোপুরি নিয়ম ও নীতিমালা মেনে চলে না বলেও মন্তব্য করেন শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে। তবে এর সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রেলের ভাড়া বাড়ছে না, লঞ্চ নিয়ে বৈঠক ২৪ সেপ্টেম্বর
রেলের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগেরবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবারও এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানোর চিন্তা নেই।
তবে রেল ও লঞ্চের ভাড়া নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বৈঠক হবে বলে জানান তিনি। লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর দাবি রয়েছে। ওই বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সবকিছু বিবেচনায় সরকার বাসভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছে। পরিবহন খাতের ব্যয় ও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ, দুই দিক বিবেচনা করেই প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ