বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৫ পি.এম
কালিয়াকৈরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দৈনিক ইনকিলাব এবং বাংলা টিভির সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সেমিনার কক্ষে (২২ই সেপ্টেম্বর ২৬ ইং) অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক আব্দুল মান্নান জানান, বাংলাদেশ বন বিভাগের কালিয়াকৈর ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন চান্দরা বন বিটের হরতকিতলা মৌজার সিএস ৭৫ আরএস ১০৯ দাগে ০.৮০ একর জমির একটি উডলট বাগানের প্লট রক্ষণা বেক্ষণের জন্য ২০০৭ সালে উপকারীভোগী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত সময়ে সুন্দরভাবে উডলট বাগান রক্ষণাবেক্ষণসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালন করায় পুনরায় ২০২০-২০২১ সালে সৃজিত বাগানের উপকারভোগী হিসেবে ২৭ নং প্লটে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তিনি জানান, "এবারও আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছি।" ইতিমধ্যেই তার সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার স্থানীয় ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতারক ও লোভী কুচক্রী মহল তার রক্ষণাবেক্ষণকৃত উডলট বাগানের প্লটে গাছ নষ্ট করে জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে তিনি আইনগতভাবে প্রতিবাদ করেন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, "আমি উক্ত অপচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়ারত হোসেন জানান, সাংবাদিক মান্নানকে বন বিভাগের একটি প্লট দেখাশোনা করার জন্য দলিল করে দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে বেলায়েত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এই মানববন্ধনটি আমি একা করি নাই, এলাকার কিছু লোকজন আয়োজন করেছে, আমি তাদের সাথে ছিলাম।"
কালিয়াকৈর চন্দ্র বিটের কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, "আমরা সাংবাদিক মান্নানকে একটি উডলট বাগান প্লট দিয়েছি, সে দেখাশোনার দায়িত্বে আছে। ওই প্লটে কিছু ঝামেলা হয়েছে, আমরা জানতে পেরেছি, এই বিষয়ে বন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, "বনের জমির গাছ নষ্ট করে কোন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি সরজমিনে গিয়ে দেখবো, আইনগত ব্যবস্থা নেব।"
প্রতিবাদ সভা শেষে সাংবাদিক মান্নান কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলার প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
আব্দুল আলীম অভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ডের বিলপাড় ডুয়াইগাঁওয়ের কাজী শামসুল আলমের নিকটবর্তী একটি ব্রিজ এবং ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ইটের রাস্তা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই রাস্তা ব্যবহার করে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার লোক প্রতিদিন খুব কষ্টে চলাফেরা করে আসছে। ব্রিজটির প্রায়ই ভেঙে থাকার কারণে রাতের বেলায় পথচারীদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সিএনজি অটো এবং বাইক এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে উল্টে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে গ্রামবাসীদের মধ্যে রইছ উদ্দিন, আলী আকবরসহ অনেকেই গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ৩০ বছর আগে একজন ব্যক্তি সরকারি বরাদ্দ এনে রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। সেইসাথে ব্রিজটিও সরকারি বরাদ্দে নির্মিত হয়েছিল। গত ২০ বছর ধরে এই ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার ফলে তাদের চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারা জানতে চান, আদৌ কি গ্রামীণ অবকাঠামোগত এই রাস্তা পুনর্নির্মাণ হবে?
এদিকে উপজেলার সরারচর থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তা ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে। অন্যদিকে, সিনেমা হল মোড় থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তারও একই অবস্থা বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি করেছেন, এলজিডির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই রাস্তা উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ বিষয়ে জরিমানা এবং ভবিষ্যতে রুট পারমিট প্রদান নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী আরও জানান, নতুন নির্ধারিত বাসভাড়ার প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবারই প্রকাশিত হবে। গেজেট প্রকাশের পর নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের একটি দীর্ঘকালীন পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতি অনুসারে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম এক টাকা বাড়লে প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া এক পয়সা বাড়ানোর যৌক্তিকতা রয়েছে।
এবার জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর বাস মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি উঠেছিল। পরিবহন মালিকেরা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও এক্সেসরিজের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, আগেরবার জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী ১৫ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ছিল। তবে আলোচনা করে তখন প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।
এবারও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ২০ পয়সার পরিবর্তে ১৭ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “ভাড়া বাড়ানো জনগণের জন্য চাপ। না বাড়াতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পরিবহন সেক্টরের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি ওঠা স্বাভাবিক।
বাসভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে পরিবহন মালিকদের প্রতিনিধি, মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। বৈঠকে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন।
বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা
নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর কোনো বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যদি কেউ এই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়, তার রুট পারমিট ক্যানসেল হবে, ফাইনের ব্যবস্থা থাকবে এবং আগামীতে রুট পারমিট থাকবে কি না, পাবে কি না সেটা নিয়েও জবাবদিহি করতে হবে।”
ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগেরবার ভাড়া বাড়ানোর পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এবারও ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হবে না।
তবে বিচ্ছিন্নভাবে দু-এক জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। পরিবহন খাত সব জায়গায় পুরোপুরি নিয়ম ও নীতিমালা মেনে চলে না বলেও মন্তব্য করেন শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে। তবে এর সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রেলের ভাড়া বাড়ছে না, লঞ্চ নিয়ে বৈঠক ২৪ সেপ্টেম্বর
রেলের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগেরবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবারও এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানোর চিন্তা নেই।
তবে রেল ও লঞ্চের ভাড়া নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বৈঠক হবে বলে জানান তিনি। লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর দাবি রয়েছে। ওই বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সবকিছু বিবেচনায় সরকার বাসভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছে। পরিবহন খাতের ব্যয় ও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ, দুই দিক বিবেচনা করেই প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন মারা গেছেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। চলতি বছরে একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্যবার্তা ও ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ৬০ হাজার ৫৬০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৭ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও বরিশাল বিভাগে একজন করে রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং দুজন নারী।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৯৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনে মারা গেছেন ৯৮ জন। মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৮৭২ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৫ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৯১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯১ জন রয়েছেন।
এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬২ জন, রংপুর বিভাগে ৬৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৭৫৩ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৫৯৩ জন এবং ৮ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২২ সেপ্টেম্বরের ১ হাজার ৮৭২ জনের ভর্তি সেই সংখ্যাগুলো ছাড়িয়ে গেছে।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানেও ডেঙ্গুর ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ৪১৩ জন।
২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। ওই বছর মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম রোগের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে ৯২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং এক হাজার ২৫৭ জনের মধ্যে হাম সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা গেছে। ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৬৫ জনে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন ও কন্ট্রোলরুমের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। হিসাবটি সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হাম রোগে এ সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হাম রোগে ১০১ জন এবং হাম উপসর্গ নিয়ে ৯৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা বিভাগে হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৪৩৩ জন মারা গেছে। এর পর সিলেট বিভাগে ১৬৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৬, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪১ এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ১ হাজার ২৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৭৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে, ঢাকা বিভাগে ৩৬৫ জন, চট্টগ্রামে ২৫০, সিলেটে ১৬৮, বরিশালে ১২৩, খুলনায় ১২৩, ময়মনসিংহে ৭৫, রাজশাহীতে ২৭ এবং রংপুরে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
১৫ মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫১০ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জন। একই সময়ে ২০ হাজার ৭৩৮ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন ১ হাজার ২৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তবে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব সন্দেহভাজন রোগীর হাম পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ