ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’


দেশের ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

দেশের নিম্নআয় ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ২০২৯–৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।

তিনি বলেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই সরকার দেশব্যাপী ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণে দেশজুড়ে একটি সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করে আধুনিক ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল সংসদকে এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারী-প্রধান পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই সারাদেশে সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে। এই শুমারির মাধ্যমে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই শুমারির ওপর ভিত্তি করে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে আধুনিক ডাটাবেজের আওতায় এনে আগামী ৪ বছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের মাধ্যমে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন কার্ড দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং 'ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬' জারি করা হয়েছে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনের ফ্যামিলি কার্ডের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তি এলাকার কিছু অংশে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে উত্তরা ও এর সংলগ্ন এলাকায় পরিবার শুমারি শেষ করে চলতি অর্থবছরেই ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। শুমারি সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দপ্তরে সরবরাহ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রসঙ্গত, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ছিল এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’। ইশতেহারে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি একক ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সব ধরনের সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা সমন্বিতভাবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প চালু করা হলেও এখন ধাপে ধাপে উপকারভোগী নির্বাচন, কেন্দ্রীয় এমআইএস ডাটাবেজ তৈরি এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বর্তমানে পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯–৩০ অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালনা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারী বর্ষণে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


ভারী বর্ষণে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন

বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ ঘাটিতে এ বছরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্জিত হয়েছে।

গত এক সপ্তাহ আগে হ্রদের পানি ৭৮ ফুট মিনসি লেভেলের কাছাকাছি অবস্থান করলেও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে হ্রদের পানি ১০২ দশমিক ২৫ ফুট মিনসি লেভেল অতিক্রম করেছে। ফলে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২২২ মেগাওয়াটের উপরে গিয়ে পৌঁছেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পানির লেভেল ছিল ১০২ দশমিক ২৫ ফুট মিনসি লেভেল। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ২ শত ২২ মেগাওয়াট। যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর পূর্বে গত বছরের নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২ শত মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও হ্রদে পানি সংকটের কারণে গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১০ পি.এম


দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হলো যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। তিনি বুধবার (১৫ জুলাই) ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেওয়া একটি বাণীতে এ কথা বলেছেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর, বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার অঙ্গীকার আমাদের রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উদযাপন করার উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৫ সাল থেকে পৃথিবীজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (এনএসডিএ) প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের তরুণদের উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী দর্শন ও কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতাকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করছে।

সরকার প্রধান বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মানবসম্পদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যায়।

তারেক রহমান বলেন, যুবসমাজ আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, এবং তাদের দক্ষতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও পেশাগত যোগ্যতা উন্নীত করতে পারলে শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে। একইসময় বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থানও দৃঢ় হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং উদীয়মান প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ কর্মক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে অধিক আধুনিক, শিল্পমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দক্ষতার মানোন্নয়ন ও অভিন্ন সনদায়ন ব্যবস্থা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিশ্ব দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি শিল্পখাতের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কার্যক্রমও চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুনঃদক্ষায়ন ও দক্ষতার নবায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে অধিকসংখ্যক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সংক্রান্ত ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শেষ মুহূর্তে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জাতীয় অভিযানকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমানবাহিনী কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের জন্য সহায়তা প্রদান করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


বিমানবাহিনী কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের জন্য সহায়তা প্রদান করেছে

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সম্প্রতিই ঘটে যাওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের সহায়তায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কক্সবাজার ঘাঁতির উদ্যোগে এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারাদেশে বছরে ২ হাজার ২০০ মিমি বৃষ্টি, চট্টগ্রামে ৭ দিনে ১ হাজার ৪৫৪ মিমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


সারাদেশে বছরে ২ হাজার ২০০ মিমি বৃষ্টি, চট্টগ্রামে ৭ দিনে ১ হাজার ৪৫৪ মিমি

গত এক সপ্তাহে টানা বৃষ্টিপাত চট্টগ্রাম বিভাগের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত যা ঘটেছে, মাত্র সাতদিনে এখানে রেকর্ড করা হয়েছে ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। অথচ অন্যান্য জায়গা, রাজধানী সহ সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত হচ্ছে ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার। এই কারণে চট্টগ্রামে মাত্র এক সপ্তাহে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা দেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৬৬ শতাংশ বা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান।

এই অস্বাভাবিক রকমের বৃষ্টিপাতের ফলস্বরূপ চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেইসাথে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানি ঘরবাড়িতে প্রবেশ করায় অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। গবাদিপশুর মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন, চরম দুর্ভোগের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন।

গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগে হওয়া অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতই জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, একটি বিভাগে এত স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হওয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণেই পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। গত ১২ জুলাই তিনি যেসকল কর্মকর্তার সঙ্গে চট্টগ্রামে যান, তাদের নিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জলাবদ্ধতার কারণ ও চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন একটি বড় প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার কয়েকটি স্থানে পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও পোল্ডারের ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধের ভেতরে অতিরিক্ত পানির চাপ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধ কেটে দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্লুইস গেটগুলোকে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।

বর্তমান নদ-নদীর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, ১৪ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে নদ-নদীর পানি ক্রমান্বয়ে কমছে এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যে অধিকাংশ স্থানে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি মেরামত ও বাঁধ সুরক্ষায় এরই মধ্যে ৭ লাখের বেশি জিওব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। আরও ৬ লাখ জিওব্যাগ মজুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে আবার ভারী বৃষ্টিপাত হলেও নদীর বাঁধ ও মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, এ লক্ষ্য নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

বন্যাকবলিত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি জমিতে অস্থায়ী বীজতলা তৈরি করে কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের চারা সরবরাহ করা হবে। একই সাথে গবাদিপশুর জন্য শুকনো খাদ্য বিতরণ করা হবে এবং খুরা রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, এবারের বন্যায় সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ দিন বয়সী কোমল চারা কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় অনেক এলাকায় তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন কৃষকের কত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য হিসেবে প্রাপ্ত হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে বন্যাকবলিত অঞ্চলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হবে। সেখানে দ্রুত ধানের বীজ বপন করে চারা উৎপাদন করা হবে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চারা বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষকের জমি এখনো পানির নিচে থাকায় তারা এখনই পুনরায় রোপণ করতে পারছেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত সময় পর্যন্ত চারা প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণযোগ্য উপযোগী জাতের ধানের বীজ ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে কৃষকদের আরেকটি বড় সংকট হলো গবাদিপশুর খাদ্য। অনেক স্থানে খড় ও শুকনো গোখাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি ঘাসেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গরু ও ছাগলের জন্য শুকনো খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, বর্ষা ও বন্যার পর গবাদিপশুর মধ্যে খুরা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগামী দু-একদিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার গবাদিপশুকে খুরা রোগের টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় মাছ চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আকস্মিক বন্যায় অনেক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষক, প্রাণিসম্পদ খাত এবং মৎস্যচাষিদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষ জানলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও সাহস পাবেন এবং দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%