০৬:১০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হলো যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। তিনি বুধবার (১৫ জুলাই) ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেওয়া একটি বাণীতে এ কথা বলেছেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর, বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার অঙ্গীকার আমাদের রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উদযাপন করার উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৫ সাল থেকে পৃথিবীজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (এনএসডিএ) প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের তরুণদের উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী দর্শন ও কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতাকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করছে।
সরকার প্রধান বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মানবসম্পদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যায়।
তারেক রহমান বলেন, যুবসমাজ আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, এবং তাদের দক্ষতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও পেশাগত যোগ্যতা উন্নীত করতে পারলে শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে। একইসময় বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থানও দৃঢ় হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং উদীয়মান প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ কর্মক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে অধিক আধুনিক, শিল্পমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দক্ষতার মানোন্নয়ন ও অভিন্ন সনদায়ন ব্যবস্থা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিশ্ব দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি শিল্পখাতের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কার্যক্রমও চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুনঃদক্ষায়ন ও দক্ষতার নবায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে অধিকসংখ্যক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সংক্রান্ত ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শেষ মুহূর্তে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জাতীয় অভিযানকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন