ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সারাদেশে বছরে ২ হাজার ২০০ মিমি বৃষ্টি, চট্টগ্রামে ৭ দিনে ১ হাজার ৪৫৪ মিমি


সারাদেশে বছরে ২ হাজার ২০০ মিমি বৃষ্টি, চট্টগ্রামে ৭ দিনে ১ হাজার ৪৫৪ মিমি

গত এক সপ্তাহে টানা বৃষ্টিপাত চট্টগ্রাম বিভাগের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত যা ঘটেছে, মাত্র সাতদিনে এখানে রেকর্ড করা হয়েছে ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। অথচ অন্যান্য জায়গা, রাজধানী সহ সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত হচ্ছে ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার। এই কারণে চট্টগ্রামে মাত্র এক সপ্তাহে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা দেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৬৬ শতাংশ বা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান।

এই অস্বাভাবিক রকমের বৃষ্টিপাতের ফলস্বরূপ চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেইসাথে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানি ঘরবাড়িতে প্রবেশ করায় অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। গবাদিপশুর মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন, চরম দুর্ভোগের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন।

গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগে হওয়া অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতই জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি জানান, একটি বিভাগে এত স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হওয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণেই পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। গত ১২ জুলাই তিনি যেসকল কর্মকর্তার সঙ্গে চট্টগ্রামে যান, তাদের নিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জলাবদ্ধতার কারণ ও চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন একটি বড় প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার কয়েকটি স্থানে পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও পোল্ডারের ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধের ভেতরে অতিরিক্ত পানির চাপ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধ কেটে দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্লুইস গেটগুলোকে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।

বর্তমান নদ-নদীর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, ১৪ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে নদ-নদীর পানি ক্রমান্বয়ে কমছে এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যে অধিকাংশ স্থানে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি মেরামত ও বাঁধ সুরক্ষায় এরই মধ্যে ৭ লাখের বেশি জিওব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। আরও ৬ লাখ জিওব্যাগ মজুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে আবার ভারী বৃষ্টিপাত হলেও নদীর বাঁধ ও মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, এ লক্ষ্য নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

বন্যাকবলিত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি জমিতে অস্থায়ী বীজতলা তৈরি করে কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের চারা সরবরাহ করা হবে। একই সাথে গবাদিপশুর জন্য শুকনো খাদ্য বিতরণ করা হবে এবং খুরা রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এসব তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

মন্ত্রী বলেন, এবারের বন্যায় সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ দিন বয়সী কোমল চারা কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় অনেক এলাকায় তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন কৃষকের কত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য হিসেবে প্রাপ্ত হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে বন্যাকবলিত অঞ্চলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হবে। সেখানে দ্রুত ধানের বীজ বপন করে চারা উৎপাদন করা হবে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চারা বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষকের জমি এখনো পানির নিচে থাকায় তারা এখনই পুনরায় রোপণ করতে পারছেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত সময় পর্যন্ত চারা প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণযোগ্য উপযোগী জাতের ধানের বীজ ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

মন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে কৃষকদের আরেকটি বড় সংকট হলো গবাদিপশুর খাদ্য। অনেক স্থানে খড় ও শুকনো গোখাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি ঘাসেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গরু ও ছাগলের জন্য শুকনো খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, বর্ষা ও বন্যার পর গবাদিপশুর মধ্যে খুরা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগামী দু-একদিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার গবাদিপশুকে খুরা রোগের টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় মাছ চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আকস্মিক বন্যায় অনেক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষক, প্রাণিসম্পদ খাত এবং মৎস্যচাষিদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষ জানলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও সাহস পাবেন এবং দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারবেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে এইচএসসির শতাধিক পরীক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন তারা।

কুমিল্লা কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর থেকে কর্মসূচি নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দিকে যাবার পথে পুলিশি বাঁধার মুখে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে তারা বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ পালন করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ, রূপসী বাংলা কলেজ, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনার বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি উত্থাপন করে জানান, দেশের সকল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবিগুলো হলো দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষায় স্থগিত রাখতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে বলছেন তারা।

এ সময় কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন এবং শিক্ষাবোর্ডের ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধদের সাথে আলোচনা করেন।

পরে শিক্ষাবোর্ডের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা পরীক্ষার্থীদের কথা শুনেছি। যেগুলো আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব সেগুলোর দায়িত্ব আমরা নেব। আর যেগুলো আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয় সেগুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

ইউএনও ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে অবস্থান করছিল, তখন সেখানে কোতোয়ালি থানার ওসি পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন করেন। পরে শিক্ষা বোর্ডের সচিব শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। যারা বিক্ষোভ করেছেন তাদের সংখ্যা ১০০ জনেরও কম ছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। আমরা সেখান থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রলীগ ছিল সরকারের পক্ষে, ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের পক্ষে: নাসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৭ পি.এম


ছাত্রলীগ ছিল সরকারের পক্ষে, ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের পক্ষে: নাসির

গত ১৭ বছরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার হিসেবে কোন দাবি করলেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সেটার পক্ষে থাকতো। তবে ছাত্রদল সরকারের বিপক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলেছে, এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাছির।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই কথা বলেন।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেন, আপাতত সাময়িক সময়ের জন্য পরীক্ষার স্থগিতের যে দাবি শিক্ষার্থীরা করেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও ঠিক একই দাবি করেছে। এ বিষয়ে আমরা সোমবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছি। শিক্ষার্থীদের দাবিতে ছাত্রদল সবসময় একমত।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার হিসেবে যে কোনো দাবি করলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সেটার পক্ষে থাকতো। কিন্তু ছাত্রদল সরকারবিরোধী হয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলেছে। আমরা ফেরা সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করার জন্য বলেছি। শুনেছি, গতকালই সারা দেশের বিভিন্ন বোর্ডের কর্মকর্তারা, বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টরা একটি মিটিং করেছেন। আমি মনে করি এর একটি ভালো সমাধান হবে।

প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়ে তিনি জানান, প্রশ্নে ভুল ছিল। এটি ট্যাকনিক্যাল সমস্যা। বোর্ড এই সমস্যার সমাধান করার জন্য আশ্বাস দিয়েছে। যত সমস্যা রয়েছে, সব আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। আমরা শিক্ষার্থীদের সাথেই আছি।

প্রসঙ্গত, চলমান দুর্যোগ ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন, যা রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের সম্মিলিত উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা করছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী অবস্থানকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিজভী বলেছেন, আ. লীগের পরিবেশবিরোধী প্রকল্পের করণেই বেড়েছে জলাবদ্ধতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


রিজভী বলেছেন, আ. লীগের পরিবেশবিরোধী প্রকল্পের করণেই বেড়েছে জলাবদ্ধতা

আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং খাল-জলাশয় দখল ও পরিবেশবিরোধী প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত স্থান পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের বিষয়টি বিবেচনা না করেই বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে, জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকার ও বিএনপি সদা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজস্ব উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দুর্গতের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো: হেলাল উদ্দিন, সদস্য সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাগির হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল বিন মনির, সদস্য জুয়েল, শফিউল এবং হান্নানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ইস্যুতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের একটি ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে প্রতিবাদের অংশ হিসাবে এবং শিক্ষামন্ত্রীর ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের ফলস্বরূপ মঙ্গলবার সকালে সারা দেশে আন্দোলন শুরু করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীকে আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ করতে এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে একটি চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন। বিকেলে পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই ঘোষণা দেন ঢাকা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

তিনি আরও দাবি করেন, সোমবার(১৩ জুলাই) যে প্রতিকূল ও অস্বস্তিকর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এবং যারা প্রবল জলাবদ্ধতার কারণে অংশ নিতে পারেননি, তাদের সকলের কথা বিবেচনা করে ওই পরীক্ষাটি পুনরায় নিতে হবে। একই সঙ্গে বুধবারের নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করে নতুন রুটিন প্রকাশ এবং প্রশ্নপত্রের মানদণ্ড শিক্ষার্থীবান্ধব করার জন্যও দাবি জানান তিনি।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে পৌনে ১২টার দিকে তারা সরাসরি সড়কে নেমে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী রাস্তা পুরোপুরি অবরোধ করেন। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি বৃহৎ অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’, ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%