ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব: ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য ভাইরাল


অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব: ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য ভাইরাল

ফরিদপুরের সালথায় একটি স্থানীয় মিটিংয়ে সমর্থকদের অস্ত্র তৈরি করার নির্দেশনা এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যদুনন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, যিনি রফিক মোল্লা নামেও পরিচিত।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত মিটিংয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পূর্ণ এডিট করা। সামনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি আরো জানান, তার দলের একজন ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যান রেখে দিয়েছে। তিনি বলেন, চাইলে দলীয় লোকজন নিয়ে ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি এলাকাকে শান্ত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন।

সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান জানান, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। চেয়ারম্যান সম্প্রতি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চেয়ার চেয়েও গাড়ি সরু, ঢুকিয়ে রাখেন শোবার ঘরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


চেয়ার চেয়েও গাড়ি সরু, ঢুকিয়ে রাখেন শোবার ঘরে

গাড়িটি চারটি চাকার। তবে এর চওড়া মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার বা ১ ফুট ৮ ইঞ্চির মতো। যে ধরনের প্লাস্টিক চেয়ার সাধারণত ঘরে বা অফিসে ব্যবহার করা হয়, গাড়িটি তার চেয়েও সরু। ফলে এটি সহজেই দরজা দিয়ে শোবার ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে গাড়িটির লম্বা প্রায় ১১ ফুট।

এমন ‘অদ্ভুত–দর্শন’ যান তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। ইতালির এই নাগরিক পেশায় গাড়ির মেকানিক। তিনি সাধারণ একটি ফিয়াট পান্ডা গাড়িকে ‘কেটেকুটে’ সরু গাড়িতে রূপান্তরিত করেছেন। এটির নাম দিয়েছেন ‘পান্ডা পার উনো’ (পান্ডা ফর ওয়ান)।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, মারাজ্জির মাথায় এমন একটি গাড়ি তৈরির ধারণা আসে ২০২৪ সালে। তার পরিবার পুরোনো গাড়ি ভাঙার বা অকেজো গাড়ি থেকে যন্ত্রাংশ আলাদা করার কাজে নিয়োজিত। এই পারিবারিক ব্যবসায় ১৯৯৩ মডেলের একটি পুরোনো ফিয়াট পান্ডা গাড়ি ভাঙার জন্য আনা হয়। ছোটখাটো গড়নের গাড়িটি ইতালির প্রাচীন শহরগুলোর সরু গলিতে চলাচলের জন্য বেশ জনপ্রিয়।

মারাজ্জি সিদ্ধান্ত নেন গাড়িটিকে লোহালক্কড় হিসেবে বিক্রি করবেন না। প্রতিবছর ইতালির পান্দিনো শহরে ফিয়াট পান্ডা গাড়ির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাড়িপ্রেমীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী কিছু উপস্থাপনের ইচ্ছা থেকে তিনি ফিয়াট পান্ডা গাড়িটিকে সবচেয়ে সরু আকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়। প্রথমে গাড়ির দরজা ও দুই পাশের প্যানেল খুলে ফেলা হয়। এরপর মাঝখান থেকে গাড়ির কাঠামো কেটে দুই পাশের অংশ আবার জোড়া লাগানো হয়। এই কাজের সবচেয়ে কঠিন দিক ছিল গাড়ির দুই পাশকে একেবারে সমানভাবে কেটে জোড়া লাগানো। সামান্য এদিক-সেদিক হলে কাঠামো ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়তো। এরপর বনেট, ছাদ ও পেছনের দরজার জন্য নতুন করে বডি ও জানালা তৈরি করেন মারাজ্জি। পান্ডা পার উনোর প্রায় ৯০ শতাংশ অংশই এসেছে পুরোনো ফিয়াট পান্ডা থেকে।

নতুন গাড়িটি সফলভাবে চালিয়ে দেখেছেন আন্দ্রেয়া। এর ভেতরে রয়েছে ছোট একটি বৈদ্যুতিক মোটর ও ব্যাটারি। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের আকার ছোট করা হয়েছে। হেডলাইট ও দিকনির্দেশক বাতিগুলো সঠিকভাবে কাজ করে।

তবে গাড়িটির গতি খুব বেশি নয়। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এটি। বাঁক নেওয়ার সময় গাড়িটি খুব একটা স্থিতিশীল নয়। তাই এটি দ্রুতগতিতে চালানোর জন্য অনুপযোগী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে তেল, রসুন এবং সবজির মতো নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব পড়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া, চায়না রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। একই সময়ে বেশিরভাগ সবজির দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছ ও ডিমের দামও বেড়েছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

লালবাগে বাজার করতে আসা এক নারী মন্তব্য করেন, 'ভাবছিলাম নতুন সরকার আসলে হয়তো বাজারের দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু এখন দেখি উল্টো আরও বাড়ছে। সবজির দাম এমনিতেই বেশি ছিল, তার ওপর আবার একেকটা সবজির দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাবে।'

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দামও লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা থেকে ১৯৫ টাকায় পৌঁছেছে।

রসুনের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চায়না রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। দেশি রসুনও ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, বুটের দাম ১০৮ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা এবং ছোলার দাম ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। চালের দামও বেড়েছে। পায়জাম ও ২৮ চালের বস্তায় ১০০ টাকা করে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

লালবাগের মুদি দোকানি জানান, 'পাইজাম চাল আগে ১,৩০০ টাকা আর ২৮ চাল ১,৪০০ টাকা করে কিনতাম। আজকে দেখলাম দুটোর দামই বস্তায় ১০০ টাকা করে বেড়েছে। সকালে রসুন কিনতে গিয়েও অবাক হয়ে গেলাম, দাম এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদেরও তো বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।'

এক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে সবজির দাম

বাজারে এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। শিম ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪৫ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ধুন্দল ও করলার দাম ৭৫ থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা এবং পটল ৭০ থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং গোল বেগুন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, মিষ্টি কুমড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা কেজি হয়েছে। লাউয়ের দাম প্রতি পিস ৬০–৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫–৭৫ টাকা, জালি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা হয়েছে।

লালবাগের সবজি বিক্রেতা বলেন, 'আমাদের তো হাত-পা বাঁধা। পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনে আনি, তার সঙ্গে কিছু লাভ রেখে সেই দামেই বিক্রি করি। পাইকারিতে দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়াতে হয়। আসলে আমরাও চাই না দাম বাড়ুক, কারণ দাম বেশি হলে ক্রেতারাও কম কিনেন।'

বেড়েছে ডিমের দামও

বাজারে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি ৩১০–৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০–৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছেও বাড়তি দাম

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির কোনো অবকাশ নেই। গতকালের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে তেলাপিয়া ২৫০–২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০–২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০–৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০–৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০–৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০–৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেটের মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, 'মাছ তো বেশিরভাগই ঢাকার বাইরে থেকে আসে। শুনছি তেলের দাম বাড়ার কারণে পাইকাররাও মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই আমাদের এখানেও মাছের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সামনে পরিবহন খরচ আরও বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাদির বাড়ি থেকে শটগান এনে স্কুলের সামনে গুলি ছুড়ল শিক্ষার্থী, আহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


দাদির বাড়ি থেকে শটগান এনে স্কুলের সামনে গুলি ছুড়ল শিক্ষার্থী, আহত ১১

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনা মঙ্গলবার সকালে মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু জেলায় ঘটে। পুলিশ সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানিসা প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, হামলাটি একটি ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল হাইস্কুলের সামনে সংঘটিত হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম হাবেরতুর্কের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হামলাকারী ইনচি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সে তার দাদির বাড়ি থেকে নিয়ে আসা একটি শটগান নিয়ে স্কুলের সামনে উপস্থিত হয়। এরপর আশপাশে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি স্কুলের কাছের সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রয়েছে। অন্যান্য ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে দেখা যায়। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিচারমন্ত্রী গুরলেক আরও জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য দুজন প্রধান কৌঁসুলি নিয়োগ করা হয়েছে। স্কুলে ওই শিক্ষার্থীকে হয়রানি বা নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মা-বাবা ও দাদাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যিনি অস্ত্রটির মালিক ছিলেন।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে ছুটে যান। তবে পুলিশ স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিলে অভিভাবকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে তুরস্কের সংবাদপত্র জুমহুরিয়েত জানিয়েছে।

ঘটনার পর তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই ঘটনায় ‘আমাদের জাতি এবং বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনের মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত’। ঘটনার তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন জাতীয় পর্যায়ের তদন্তকারীকে মানিসায় পাঠানো হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছর তুরস্কে আরও দুটি স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটেছিল। গত সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় দেশটির সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছিল।

এপ্রিল মাসে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে সাবেক এক শিক্ষার্থী গুলি চালায়, যাতে ১৬ জন আহত হন। পরে ওই হামলাকারী আত্মহত্যা করে।

এর পরদিন কাছের কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলের দুটি শ্রেণিকক্ষে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গুলি চালায়, এতে আটজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন এবং ১৩ জন আহত হন। পরে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাওরের বুকে, শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


হাওরের বুকে, শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে

সকাল আনুমানিক সাতটা। কাঁধে স্কুলব্যাগ নিয়ে বাহেরবালী গ্রামের একজন কিশোরী হাওরের তীরে এসে দাঁড়ালেন। তার পাশে বাবা শক্ত করে হাত ধরে আছেন। অন্য হাতে একটি লাঠি দিয়ে তিনি সামনের পানির গভীরতা মাপছেন। নৌকা আসতে দেরি হচ্ছে। তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরও পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী—সবাই সেই একটিমাত্র নৌকার অপেক্ষায়।

স্কুল শুরু হতে তখন আর মাত্র আধঘণ্টা বাকি। কিন্তু প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য নৌকা রয়েছে মাত্র দুটি। বাহেরবালী ও আশেপাশের গ্রামের শিশুদের জন্য এটিই একমাত্র কাছাকাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

পানির বুকে বিদ্যালয়

দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি একটি আশ্রয়কেন্দ্র। চারদিকে বিস্তৃত থইথই পানি, আর তার ঠিক মাঝখানেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি তিনতলা ভবন। নিচতলা পুরোটাই ফাঁকা—বছরের অধিকাংশ সময়ই এটি হাওরের পানিতে ডুবে থাকে। শুধু দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পাঠদান চলে, ফলে পুরো ভবনটি পানির ওপর ভেসে আছে বলে মনে হয়। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। পৌঁছানোর একমাত্র উপায় নৌকা।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নে অবস্থিত এটি 'বাহেরবালী এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুল'। প্রতিদিন নিয়ম করে ক্লাস চলে এখানে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশেপাশের যেকোনো স্কুলের চেয়ে বেশি। বছরের প্রায় নয় মাসই স্কুলের চারপাশ জলমগ্ন থাকায় কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগেই দুটি নৌকার ব্যবস্থা করেছে। এভাবেই দুর্গম হাওরাঞ্চলের এই জলঘেরা পরিবেশে দিন দিন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিপা দাস বলেন, 'নৌকা ধরতে আমাদের অনেক ভোরে উঠতে হয়। কেউ নৌকা মিস করলে সেদিন তার ক্লাসও মিস হয়ে যায়।' বাহেরবালী, পুরাকান্দা, আয়নারগোপ, শিবপুর ও বোয়ালী—এই পাঁচটি গ্রামের তিন শতাধিক ছেলেমেয়ে এখন এই স্কুলে পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আশেপাশের গ্রামগুলোর মানুষের সামনে যেন এক নতুন সুযোগ খুলে গেছে—শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এক অনবদ্য সুযোগ।

রিপার বাবা রফিক উদ্দিন বলেন, 'স্কুলটা হওয়ার পর থেকে এখানকার মানুষের বাচ্চাদের পড়াশোনা করানোর আগ্রহ অনেক বেড়েছে।' শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালিন 'এসইএসডিপি' এবং বর্তমান 'সেসিপ' (সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম) প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১১ সালে শেষ হয় এবং ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়।

সুবিধাবঞ্চিত ও অনগ্রসর এলাকায় মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের অধীনে সারাদেশে মোট ৮৩টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ভবন নির্মাণ, শ্রেণি কার্যক্রম চালু এবং সরকারি স্বীকৃতি প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিবিধ প্রতিকূলতার মুখোমুখি এক বিদ্যালয়

২০১৭ সালের জুলাই মাসে এই ৮৩টি বিদ্যালয়কে এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) ভুক্ত করা হয়। তবে বাহেরবালী স্কুলটি এখনো পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পায়নি। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হলেও নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেলেনি স্বীকৃতি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিাপন চন্দ্র দাস জানান, ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, 'সেসময় একটি চিঠি ইস্যু করা হলেও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। আমরা এখন সব কাগজপত্র নতুন করে গুছিয়ে আবারও এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছি।'

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সারাদেশে নতুন করে এমপিও আবেদনের আহ্বান জানানো হয়। সেই সুযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আবেদনও করে। বর্তমানে সরকারিভাবে প্রক্রিয়াটি স্থগিত থাকলেও প্রয়োজনীয় হার্ডকপি ও কাগজপত্র তারা সংরক্ষণ করে রেখেছেন। প্রক্রিয়াটি পুনরায় শুরু হলে স্কুলটি এর অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশাবাদী প্রধান শিক্ষক।

২০১৩ সালে যখন শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়, তখন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ জনে। পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ১০ জন শিক্ষক এবং দুইজন পিয়নসহ মোট তিনজন কর্মচারী কাজ করছেন। স্কুলে একটি ল্যাব রুম, একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং একটি শিক্ষক মিলনায়তন রয়েছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা মিলিয়ে ১৪টি সুবিশাল শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্ধেক ফি নেওয়া হয়, আবার অনেকের পুরো ফি-ই মাফ করে দেওয়া হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ফি ১৫০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির ফি ২০০ টাকা। মেধাভিত্তিক ফলের ওপর ভিত্তি করে অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তিও পেয়ে থাকে।

প্রধান শিক্ষক জানান, ফি আগে আরও কম ছিল—ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য মাসে ৬০ টাকা, অষ্টম শ্রেণির জন্য ৭০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৮০ টাকা।

কম্পিউটার শিক্ষক হাসান কবির বলেন, 'আমাদের মাত্র একটি ল্যাব রুম আছে। যা আছে তা দিয়েই আমরা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি। ডিসি অফিস থেকে দেওয়া তিনটি মাত্র ডেস্কটপ দিয়ে আমাদের সব ল্যাবের কাজ চলে। সম্প্রতি একটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি মেরামত করতে ৫,০০০ টাকা খরচ হয়েছে। আর একটি ডেস্কটপ একদম চুরিই হয়ে গেছে।' স্কুলটির পথচলা কোনোভাবেই সহজ ছিল না।

এর সবচেয়ে বড় সংকট হলো পানির ওপর দিয়ে ৩০০ শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত নৌকা না থাকা। ২০১৬ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন ৪০ জন ধারণক্ষমতার একটি নৌকা উপহার দেন। তিন টনের সেই লোহার নৌকাটি এখনও গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করে। নৌকাটি চালু রাখতে এবং দৈনন্দিন খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দিনে ৫ থেকে ১০ টাকা করে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, 'এখানকার রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও ভালো হলে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। খারাপ আবহাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে ভয় পায়, অভিভাবকরাও তাদের পাঠাতে চান না।' প্রতিদিন সকালে ক্লাস শুরুর আগে এবং বিকেলে ছুটির পর নৌকাটি কয়েকবার আসা-যাওয়া করে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষককে পারাপার করে।

যে অনুপ্রেরণায় টিকে আছে বিদ্যালয়টি

একপর্যায়ে নৌকাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ে। তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের যাতায়াত চরম হুমকির মুখে পড়ে। নৌকাটি মেরামত না করা হলে স্কুলে আসা-যাওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে যেত—তাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় এলাকাবাসীকে নিয়ে বৈঠকে বসে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং সেই কমিটির উদ্যোগে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে অবশেষে নৌকাটি মেরামত করা হয়।

প্রধান শিক্ষক জানান, শুরুতে শিক্ষার্থীরা একটিমাত্র নৌকায় যাতায়াত করত। ২০১৯ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি' থেকে পাওয়া অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় নৌকাটি তৈরি করা হয়।

২০১৯ সালের অক্টোবরে 'ইত্যাদি' এই বিদ্যালয়কে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেয়। সেই টাকায় স্কুল রং করা, দ্বিতীয় নৌকাটি তৈরি, ফ্যান বসানো এবং মেঝের কিছু অংশ টাইলস ও প্লাস্টার করে সংস্কার করা হয়।

তা সত্ত্বেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, 'মাঝে মাঝে যখন বেশি শিক্ষার্থী থাকে, তখন আমাদের পুরোটা পথ নৌকায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আরও দু-একটা নৌকা থাকলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো।'

মাঝি রমিজ উদ্দিন বলেন, 'আমি একবারে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে পারাপার করি। এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। একবার নৌকাটি ডুবেও গিয়েছিল—তবে ছেলেমেয়েরা সাঁতার জানার কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।'

খেলার মাঠ ও সুপেয় পানির সংকটও এই বিদ্যালয়ের নিত্যসঙ্গী। মাঠটি বছরের পর বছর মাসজুড়ে পানিতে নিমজ্জিত থাকে, তাই শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সুযোগ পায় না। পানির অভাবও রয়েছে—আগে দুটি পানির ট্যাপ ছিল, যার একটি ভেঙে অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নতুন একটি ট্যাপ বসানো হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, 'মাঠটি ব্যবহারের উপযোগী করতে চারপাশ থেকে মাটি এনে পুরো মাঠ উঁচু করতে হবে। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন, যা স্কুলের পক্ষে একা জোগাড় করা কঠিন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা নতুন আরেকটি পানির ট্যাপের জন্যও আবেদন করেছি।'

মাঠ নিয়ে তার গলার স্বরে কিছুটা ক্ষোভ ও আক্ষেপ ফুটে ওঠে—মাটি কেটে উঁচু করা গেলে বাচ্চারা খেলতে পারত, যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হতো; সেই সঙ্গে আরও কয়েকটি নৌকা পাওয়া গেলে মূল সমস্যাটি অনেকটাই লাঘব হতো বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও বহেরবালী, পুরাকান্দা, বোয়ালী, আয়নারগোপ ও পারকচ্ছাপ্লা—এই পাঁচটি হাওরসংলগ্ন গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীদের ফসলি জমির সরু আইল ধরে এক থেকে তিন কিলোমিটার হেঁটে আসতে হয়।

রিপা দাস বলেন, 'মূল ভূখণ্ড থেকে স্কুলে আসার কোনো সংযোগ সড়ক নেই। তাই বর্ষা হোক কিংবা শুষ্ক মৌসুম, আমাদের কষ্ট একই থেকে যায়।'

বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দূর করার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার তাদের লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানতে পেরেছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সমস্যাগুলো উল্লেখ করে গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি একটি আবেদন জমা দেন। তিনি বলেন, 'আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।'

জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুন নাহার মাকসুদা বলেন, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন। তিনি বলেন, 'সময় লাগবে, তবে আমরা একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করব।' দুর্গম এই হাওরাঞ্চলে আর কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় এই স্কুলটিই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হলেও বাহেরবালী হাই স্কুলের শিক্ষার মান কোনো অংশেই কম নয়—বার্ষিক ফলাফল নিয়মিতই ভালো হয়, যেখানে এসএসসির পাসের হার সাধারণত ৮০ শতাংশের ঘরে থাকে। এই দুর্গম হাওরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফলাফল মোটেও ছোট কোনো অর্জন নয়।

প্রধান শিক্ষক বলেন, 'এ বছর আমাদের এসএসসির পাসের হার ৭৬.০৬ শতাংশ। সাতজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৪ পেয়েছে। আমাদের পাসের হার কখনোই ৭০-এর নিচে নামেনি। সাধারণত ৮০ শতাংশের ওপরেই থাকে। এবার সব জায়গায় ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে, আমাদেরও তা-ই। তবে এবার বাজিতপুর উপজেলার সবকটি স্কুলের মধ্যে আমাদের স্কুল প্রথম হয়েছে।'

ভবনের ছাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতে ফুল ও ফলের একটি সুন্দর বাগান তৈরি করেছেন। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় যেন হাওরের বুকে ভেসে থাকা একটি ছোট সবুজ দ্বীপ। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ জানান, 'এত সুন্দর একটি স্কুলে পড়তে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগে। আমাদের শিক্ষকরা খুব যত্ন নিয়ে পড়ান এবং নিশ্চিত করেন যেন আমরা প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন বুঝতে পারি।'

ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা ভ্রমণ, পানিতে ডুবে থাকা খেলার মাঠ, সুপেয় পানির সংকট, এমপিও স্বীকৃতির দীর্ঘ প্রতীক্ষা—এই কষ্টগুলো নিত্যসঙ্গী হলেও বাহেরবালী হাই স্কুলের এগিয়ে চলা থেমে নেই।

বাহেরবালীর তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছে স্কুলে যাওয়া মানে এখনো নৌকার জন্য অপেক্ষা দিয়ে শুরু হওয়া এক যাত্রা। প্রতিদিন সকালে তারা পানি পার হয়ে পৌঁছায় সেই শ্রেণিকক্ষে, যেখানে দাঁড়িয়ে তারা হাওরের সীমা ছাড়িয়ে এক নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%