প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনা মঙ্গলবার সকালে মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু জেলায় ঘটে। পুলিশ সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানিসা প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, হামলাটি একটি ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল হাইস্কুলের সামনে সংঘটিত হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম হাবেরতুর্কের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হামলাকারী ইনচি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সে তার দাদির বাড়ি থেকে নিয়ে আসা একটি শটগান নিয়ে স্কুলের সামনে উপস্থিত হয়। এরপর আশপাশে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি স্কুলের কাছের সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রয়েছে। অন্যান্য ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে দেখা যায়। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিচারমন্ত্রী গুরলেক আরও জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য দুজন প্রধান কৌঁসুলি নিয়োগ করা হয়েছে। স্কুলে ওই শিক্ষার্থীকে হয়রানি বা নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মা-বাবা ও দাদাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যিনি অস্ত্রটির মালিক ছিলেন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে ছুটে যান। তবে পুলিশ স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিলে অভিভাবকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে তুরস্কের সংবাদপত্র জুমহুরিয়েত জানিয়েছে।
ঘটনার পর তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই ঘটনায় ‘আমাদের জাতি এবং বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনের মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত’। ঘটনার তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন জাতীয় পর্যায়ের তদন্তকারীকে মানিসায় পাঠানো হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছর তুরস্কে আরও দুটি স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটেছিল। গত সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় দেশটির সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছিল।
এপ্রিল মাসে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে সাবেক এক শিক্ষার্থী গুলি চালায়, যাতে ১৬ জন আহত হন। পরে ওই হামলাকারী আত্মহত্যা করে।
এর পরদিন কাছের কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলের দুটি শ্রেণিকক্ষে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গুলি চালায়, এতে আটজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন এবং ১৩ জন আহত হন। পরে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন