প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গাড়িটি চারটি চাকার। তবে এর চওড়া মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার বা ১ ফুট ৮ ইঞ্চির মতো। যে ধরনের প্লাস্টিক চেয়ার সাধারণত ঘরে বা অফিসে ব্যবহার করা হয়, গাড়িটি তার চেয়েও সরু। ফলে এটি সহজেই দরজা দিয়ে শোবার ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে গাড়িটির লম্বা প্রায় ১১ ফুট।
এমন ‘অদ্ভুত–দর্শন’ যান তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। ইতালির এই নাগরিক পেশায় গাড়ির মেকানিক। তিনি সাধারণ একটি ফিয়াট পান্ডা গাড়িকে ‘কেটেকুটে’ সরু গাড়িতে রূপান্তরিত করেছেন। এটির নাম দিয়েছেন ‘পান্ডা পার উনো’ (পান্ডা ফর ওয়ান)।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, মারাজ্জির মাথায় এমন একটি গাড়ি তৈরির ধারণা আসে ২০২৪ সালে। তার পরিবার পুরোনো গাড়ি ভাঙার বা অকেজো গাড়ি থেকে যন্ত্রাংশ আলাদা করার কাজে নিয়োজিত। এই পারিবারিক ব্যবসায় ১৯৯৩ মডেলের একটি পুরোনো ফিয়াট পান্ডা গাড়ি ভাঙার জন্য আনা হয়। ছোটখাটো গড়নের গাড়িটি ইতালির প্রাচীন শহরগুলোর সরু গলিতে চলাচলের জন্য বেশ জনপ্রিয়।
মারাজ্জি সিদ্ধান্ত নেন গাড়িটিকে লোহালক্কড় হিসেবে বিক্রি করবেন না। প্রতিবছর ইতালির পান্দিনো শহরে ফিয়াট পান্ডা গাড়ির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাড়িপ্রেমীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী কিছু উপস্থাপনের ইচ্ছা থেকে তিনি ফিয়াট পান্ডা গাড়িটিকে সবচেয়ে সরু আকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়। প্রথমে গাড়ির দরজা ও দুই পাশের প্যানেল খুলে ফেলা হয়। এরপর মাঝখান থেকে গাড়ির কাঠামো কেটে দুই পাশের অংশ আবার জোড়া লাগানো হয়। এই কাজের সবচেয়ে কঠিন দিক ছিল গাড়ির দুই পাশকে একেবারে সমানভাবে কেটে জোড়া লাগানো। সামান্য এদিক-সেদিক হলে কাঠামো ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়তো। এরপর বনেট, ছাদ ও পেছনের দরজার জন্য নতুন করে বডি ও জানালা তৈরি করেন মারাজ্জি। পান্ডা পার উনোর প্রায় ৯০ শতাংশ অংশই এসেছে পুরোনো ফিয়াট পান্ডা থেকে।
নতুন গাড়িটি সফলভাবে চালিয়ে দেখেছেন আন্দ্রেয়া। এর ভেতরে রয়েছে ছোট একটি বৈদ্যুতিক মোটর ও ব্যাটারি। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের আকার ছোট করা হয়েছে। হেডলাইট ও দিকনির্দেশক বাতিগুলো সঠিকভাবে কাজ করে।
তবে গাড়িটির গতি খুব বেশি নয়। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এটি। বাঁক নেওয়ার সময় গাড়িটি খুব একটা স্থিতিশীল নয়। তাই এটি দ্রুতগতিতে চালানোর জন্য অনুপযোগী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন