০৪:৩০ পি.এম
দেশের রেলওয়ে খাতে টিকিট কালোবাজারি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক মাসের জন্য পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কাজের স্বাধীনতা চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। তিনি কোনো পদ-পদবি, আলাদা সুযোগ-সুবিধা বা পারিশ্রমিক ছাড়া শুধুমাত্র যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি দেওয়ার বিনিময়ে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মাহবুব কবীর মিলন এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, যদি তাকে মাত্র এক মাসের জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে ঢাকা–কক্সবাজার ও ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করে দেখাতে পারবেন। তিনি বলেন, এ কাজের জন্য কোনো পদ-পদবি, আলাদা চেয়ার-টেবিল কিংবা বেতন-ভাতা প্রয়োজন হবে না। শুধু যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে তার নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষমতা চান।
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
টিকিট কালোবাজারি বন্ধের জন্য নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাহবুব কবীর মিলন জানান, চুক্তিভিত্তিক কিছু অবসরপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি চাকরিরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে কাজে যুক্ত করার কথাও বলেন তিনি। এ কাজে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজন হবে বলেও জানান।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রেনের প্রতিটি যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা না করে প্রতি কোচ থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, টিকিটে উল্লিখিত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ ভ্রমণ করলে দ্বিগুণ জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের টিকিটের সঙ্গে বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
এছাড়াও, টিকিট পরীক্ষক, চেকার ও গার্ডদের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা রাখার প্রস্তাব দেন মাহবুব কবীর মিলন। তার মতে, ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি শতভাগ বাস্তবায়ন করা গেলে অনিয়ম ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রার তিন থেকে পাঁচ দিন আগে টিকিট ইস্যুর ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। অন্যায়কারীদের পক্ষ থেকে কেউ তদবির বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে তাদের পরিচয় প্রকাশ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কার্যক্রমের উন্নয়নের জন্যও নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মাহবুব কবীর মিলন। তিনি বলেন, বাহিনীটির আইনগত ক্ষমতা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে কার্যকর করতে নির্বাহী আদেশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাহিনীটিকে রেল অধিদপ্তরের পরিবর্তে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাবও দেন তিনি। তার দাবি, বাহিনীটির আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে একে আধুনিক ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
এছাড়া, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত দুই রুটে সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য রেলপথেও এসব ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মাহবুব কবীর মিলন লেখেন, এক মাসের জন্য তাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এ সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ ও অগ্রগতি জনগণকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। ব্যর্থ হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করে তার প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, মাহবুব কবীর মিলন বিভিন্ন সময়ে সরকারি সেবা, ভোক্তা অধিকার ও অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। এবার রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধের জন্য এক মাসের জন্য দায়িত্ব চেয়ে দেওয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: ইশরাক ভাইয়ের মতলব ভালো ছিল
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন