ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মায়ামিকে রুখে দিলেন এমবোলো, মেসির দুই অ্যাসিস্টের পরও


মায়ামিকে রুখে দিলেন এমবোলো, মেসির দুই অ্যাসিস্টের পরও

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফিরেছিল। সেই ম্যাচে অদ্ভুত নিয়মে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন ব্রেল এমবোলো। এরপর আর্জেন্টিনা নিশ্চিত করে সেমিফাইনাল। এবার এমবোলো এমএলএসের অভিষেক ম্যাচে মেসির ইন্টার মায়ামিকে রুখে দিয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে নু স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট সত্ত্বেও আটলান্টা ইউনাইটেডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ইন্টার মায়ামি। এমবোলোর নায়কোচিত গোলের মাধ্যমে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে আটলান্টা।

এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থাকা ন্যাশভিল এসসির সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য জয় প্রয়োজন ছিল মায়ামির। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর ক্লাব ফুটবলে প্রথমবার মাঠে নামলেন আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী লিওনেল মেসি।

আরও পড়ুন: শূন্য রান করেও ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স ফিল্ড, খেললেন ১৩২ বল

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে লড়াই জমে ওঠে। ৩২তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বল থেকে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে নেন কাজিমিরো। তবে এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৫তম মিনিটে মিগেল আলমিরন গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিটে) আবারও জাদুকরী ভূমিকা পালন করেন মেসি। তাঁর অসাধারণ পাস থেকে বল পেয়ে ইন্টার মায়ামির পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন লুইস সুয়ারেস। ফলে ২-১ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মায়ামি।

দ্বিতীয় অর্ধে ম্যাচের নাটকীয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। আটলান্টার একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে মায়ামি লিড ধরে রাখার চেষ্টা করে। তবে ৮৭তম মিনিটে ঘটে মূল ঘটনা। আটলান্টা পেনাল্টি পেলে অভিষিক্ত ফরোয়ার্ড ব্রেল এমবোলো সুযোগ হাতছাড়া করেননি। ঠাণ্ডা মাথায় নিখুঁত শটে গোল করে দলকে ২-২ ব্যবধানের সমতায় ফেরান তিনি।

এই ফলাফলের পরও লিগে ইন্টার মায়ামির অবস্থান বেশ শক্তিশালী। চলতি মৌসুমে ২২ ম্যাচে ১৮ গোল করে এখনও সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি। তাঁর পেছনে ১৬ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এফসি ডালাসের পিটার মুসা এবং ১৪ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন নিউইয়র্ক সিটি এফসির নিকোলাস ফার্নান্দেস মারকাউ।

আরও পড়ুন: রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর-কনের জন্য বিয়ের আগে ৪টি টেস্ট করানো খুবই জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২১ পি.এম


বর-কনের জন্য বিয়ের আগে ৪টি টেস্ট করানো খুবই জরুরি

বিয়ের আগে বর-কনের জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়ে থাকে। সাজ পোশাক, আংটি এবং চুড়ির জন্য খরচ হয় হাজার হাজার টাকা। কিন্তু এসবের পাশাপাশি বর-কনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা অনেকেই উপেক্ষা করেন। একটি সফল, সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন গড়তে শুধুমাত্র মানসিক মিল নয়, শারীরিক সুস্থতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, বিয়ের পূর্বে কিছু বিশেষ মেডিকেল টেস্ট করানো উচিত, যা ভবিষ্যতে যেকোনো সমস্যা সম্পর্কে আগেভাগে সতর্ক করে দেয়।

বন্ধ্যত্ব পরীক্ষা: এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় মহিলার ডিম্বাণু এবং পুরুষের শুক্রাণুর স্বাস্থ্য কেমন। বন্ধ্যত্বের নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ না থাকায় এটি আগেভাগে জানা কঠিন। ভবিষ্যতে যদি সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এই পরীক্ষা অনেক সাহায্য করতে পারে।

রক্তের গ্রুপের মিল: অনেকেই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু সন্তান নিতে চাইলে রক্তের আরএইচ ফ্যাক্টর (রিসাস ফ্যাক্টর) মিল থাকা জরুরি। আরএইচ অসামঞ্জস্য থাকলে গর্ভাবস্থায় জটিলতা তৈরি হতে পারে, এমনকি দ্বিতীয় সন্তানের জন্য তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

বংশগত রোগের টেস্ট: অনেক রোগ রয়েছে যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, কিডনি রোগ, এবং ডায়াবেটিস। এগুলোর জন্য আগেভাগেই টেস্ট করিয়ে রাখা ভালো। এতে প্রয়োজনে আগাম চিকিৎসাও শুরু করা যায়।

যৌনবাহিত রোগের টেস্ট: বর্তমানে বিবাহের আগে অনেকেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাই উভয়ের এসটিডি টেস্ট করানো জরুরি। এই পরীক্ষায় জানা যায় এইচআইভি এইডস, গনোরিয়া, হার্পিস, সিফিলিস, এবং হেপাটাইটিস সি-র মতো রোগ আছে কি না। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু আজীবন থেকে যায় এবং জীবনসংকট তৈরি করতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক পায়ে দাঁড়িয়ে হার্ট সুস্থ আছে কি না জেনে নিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২১ পি.এম


এক পায়ে দাঁড়িয়ে হার্ট সুস্থ আছে কি না জেনে নিন

বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। হৃদরোগ এখন শুধুমাত্র বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কমবয়সীরাও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করছেন। তাই এই বিষয়ে সচেতন হওয়া সবার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, যে কোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে।

হৃদরোগের কারণে শরীরে একাধিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যদিও লক্ষণগুলি ব্যক্তি-ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে অনেকেই হৃদরোগের বিভিন্ন লক্ষণ দেখেও অবহেলা করেন এবং অনেকে নিজেদের অজান্তেই হৃদরোগে ভোগেন।

তবে একটি পরীক্ষা করার মাধ্যমে আপনি সহজেই জানতে পারবেন, আপনার হার্টের অবস্থা কেমন। এই পরীক্ষা করতে হবে ঘরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, যদি আপনি কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য এক পায়ে দাঁড়াতে পারেন, তাহলে বুঝবেন আপনার হৃদযন্ত্রসহ সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো।

এই গবেষণায় ৮৪১ জন নারী এবং ৫৪৬ জন পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের গড় বয়স ছিল ৬৭ বছর। অংশগ্রহণকারীরা এক পায়ে দাঁড়ানোর সময় তাদের চোখ খোলা রেখেছিলেন। এক পা উঁচু করে রাখার সর্বোচ্চ সময় ছিল ৬০ সেকেন্ড।

যেসব অংশগ্রহণকারী এই পরীক্ষায় নিজেদের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেননি, তাদের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি ছিল।

গবেষণার প্রধান লেখক ও কিয়োটো ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব মেডিসিনের সেন্টার ফর জেনোমিক মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ইয়াসুহারু তাবারার মতে, এক পায়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

তিনি জানান, যারা এক পায়ে দাঁড়াতে পারেন না, তাদের মধ্যে মস্তিষ্কের রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেশি থাকে। পাশাপাশি, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কি না সেটিও জানা যায় এই পরীক্ষার মাধ্যমে। নিয়মিত এক পায়ে দাঁড়ানোর অভ্যাস করলে সুফল পাওয়া যায়। এটি শরীরচর্চার একটি ভঙ্গি, যা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া, মানসিকভাবে সুস্থতা অর্জন করা যায় এবং শারীরিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায় এই ভঙ্গির মাধ্যমে, যা কাঁধের প্রশস্ততা বাড়ায়। এক পায়ে দাঁড়ানোর অভ্যাস করলে আপনার হার্টও ভালো থাকবে।

সূত্র: ব্রাইট সাইড/হার্ট.অর্গ/ফ্রাইডে ম্যাগাজিন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে কমল সোনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২২ পি.এম


দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে কমল সোনার

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংগঠনটি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করেছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এই কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম হবে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানায়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এখন পর্যন্ত চলতি বছর দেশের বাজারে ১১২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ৫৬ দফা বাড়ানো হয়েছে, ৫৫ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

যদিও সোনার দাম কমানো হয়েছে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১৩২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত চলতি বছর দেশের বাজারে ৬৮ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ৩৫ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ৩৩ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক অনন্য আত্মিক বন্ধন ক্ষণিকের দেখায় তৈরি হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২২ পি.এম


এক অনন্য আত্মিক বন্ধন ক্ষণিকের দেখায় তৈরি হয়

রোদ, বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত, যাই ঘটুক না কেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট দুটি সময়ে কিছু মানুষ রাস্তার পাশে একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকেন, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে দেখার জন্য অপেক্ষা করেন।

কখন তার গাড়ি এই পথে যাবে, তা কারও জানা নেই। তবুও, তারা প্রতিদিনের আসা-যাওয়ার রুটিন মাথায় রেখে সকালে ও রাতে প্রিয় সেই মানুষটিকে দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই ব্যক্তি বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের নয়নমণি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতিদিন একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি কখন এই পথ দিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রথম দিন থেকেই অফিসে যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এখনও রয়েছেন। আবার কেউ জেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ।

কখনও দেখা যায়, রিকশার হ্যান্ডেলে হাত রেখে কেউ দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ দোকানের সামনে, আবার কেউ ফুটপাতে নিত্যকার ব্যস্ততার মধ্যেও অপেক্ষা করেন। তাদের অপেক্ষা, সেই কাঙিক্ষত ক্ষণটির জন্য। গাড়ির ভেতরে থাকা মানুষটিকে একবার চোখের দেখা দেখবেন বলে।

দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলো এখন প্রধানমন্ত্রীরও চেনা মুখ। যখন গাড়িবহর সেই জায়গাগুলোতে পৌঁছায়, তখন গতি একটু ধীর হয়। রাস্তার পাশ থেকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। গাড়ির ভেতর থেকেও প্রধানমন্ত্রী হাত তুলে সাড়া দেন হাসিমুখে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রমনা থানার পাশে যমুনা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন পাবনার এক বৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখে, হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়ে তারপর নাশতা সেরে কাজে যোগ দিতেন।

তিনি বলেন, এখন এটিএম বুথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ। চাকরিটিও আর নেই তার। তবুও, প্রতিদিন সিকিউরিটি গার্ডের সেই ইউনিফর্ম পরে, হাতে ধানের শীষ নিয়ে তিনি চলে আসেন পুরোনো জায়গাটিতে। দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায়। একসময় গাড়িবহরটি সামনে আসে। কয়েক সেকেন্ডের দেখা। এই কয়েক মুহূর্তের জন্যই তার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। দেখা হওয়ার পর মনে একরাশ প্রশান্তি নিয়ে নাশতা সারেন তিনি। চলে যান নিজ গন্তব্যে সেই বৃদ্ধ। এ যেন পথের পাশে অপেক্ষমাণ মানুষ এবং চলন্ত গাড়ির ভেতরের মানুষটির মধ্যে গড়ে ওঠা এক অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে বনানীর দুবাই মার্কেটের কাছে নিয়মিত অপেক্ষা করেন দুজন রিকশাচালক। প্রতিদিনের জীবিকার ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন তারা। গাড়ি কাছাকাছি এলে চোখের তারায় এক অদ্ভুত দ্যুতি খেলে যায়, রচিত হয় এক আবেগময় মুহূর্ত। এ যেন অপেক্ষা এবং চোখের দেখায় গড়ে ওঠা হৃদয়ের সংযোগ।

তিনি বলেন, বনানী কাঁচাবাজারের কাছেও কিছু পরিচিত মুখ রয়েছে। ফুল ও ফল বিক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। ফুটপাতের হকারদের মধ্যেও আছেন এমন অনেকে। কাজ থামিয়ে সেই মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, গাড়ির ভেতরে থাকা প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখবেন বলে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, আঁধার রাতে কামাল আতাতুর্ক রোডে একজন অপেক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ফেরার পথে। কখনও সেই অপেক্ষা গড়িয়ে যায় গভীর রাত পর্যন্ত। নাম জানা নেই, কিন্তু দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় মুখটি আর অপরিচিত থাকেনি। রাতে সেখানে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির গতি একটু কমে যায়। গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে হাত নেড়ে অপেক্ষমাণ মানুষটির অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, কাজ শেষে রাতে প্রধানমন্ত্রী যখন ফেরেন, গুলশান ২-এর প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতরের রেস্তোরাঁ ও হোটেলের অনেক কর্মচারী তখন অপেক্ষায় থাকেন। তাদের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ির ভেতরের বাতি জ্বালিয়ে দেন, যেন পথের ধারে অপেক্ষমাণ মানুষগুলো তাকে স্পষ্ট দেখতে পান। আলো জ্বলে উঠতেই চেনা মুখগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ।

তিনি বলেন, কেউ হাত নাড়েন, কেউ অপলক চেয়ে থাকেন। চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত তুলে অভিবাদনের জবাব দেন। কথাহীন সেই অভিবাদনেই বিনিময় হয়ে যায় অনেক না-বলা কথা। পুরো ঘটনাটা মাত্র কয়েক মুহূর্তের। গাড়ি থামে না, কাছে এসে কুশল বিনিময় হয় না, কথাও হয় না। তবুও, দিনের পর দিন এই ক্ষণিক দেখাতেই গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত মায়ার সম্পর্ক।

তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে অপেক্ষাটা ছিল শুধু পথের পাশের মানুষগুলোর। তারা জানতেন, এই পথ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী যাবেন। তাই কাজের ফাঁকে কেউ এসে দাঁড়াতেন রাস্তার ধারে, কেউ অপেক্ষা করতেন শুধু একঝলক প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখবেন বলে।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, একসময় সেই অপেক্ষা আর একপক্ষের থাকেনি। পরিচিত জায়গাগুলো কাছাকাছি এলে প্রধানমন্ত্রীও খুঁজে ফেরেন মানুষগুলোকে। সেই চেনা মুখগুলো কি আজও দাঁড়িয়ে আছেন পথের পাশে? এই সম্পর্কের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। কোনো মঞ্চ নেই, নেই বক্তৃতা কিংবা করতালির আয়োজন। আছে শুধু অপেক্ষা, পরিচিত কিছু মুখ এবং পরস্পরকে খুঁজে নেওয়ার এক নীরব টান। এ যেন অদৃশ্য এক সুতোয় গাঁথা ভালোবাসার মালা।

তিনি বলেন, একদিকে পথের ধারে অপেক্ষমাণ সেইসব মানুষ, অন্যদিকে চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে তাদের খুঁজে ফেরা প্রধানমন্ত্রী। মাঝখানে কয়েক হাতের দূরত্ব, কয়েক মুহূর্তের দেখা-তবু সেই ক্ষণিকের মধ্যেই নীরবে গড়ে উঠেছে এক নিঃস্বার্থ বন্ধন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%