ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য হলেন অধ্যাপক লুৎফর রহমান


ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য হলেন অধ্যাপক লুৎফর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

নিয়োগ পাওয়ার পূর্বে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছরের জন্য এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সবসময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আপত্তিকর অবস্থায় আটক প্রেমিক যুগলের বিয়ে হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আপত্তিকর অবস্থায় আটক প্রেমিক যুগলের বিয়ে হয়নি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়া সেই প্রেমিক যুগলকে পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে আলোচনা শেষে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি এবং সহকারী প্রক্টররা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি মেসের পাশে কাঁঠালবাগান থেকে স্থানীয়রা ওই দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়।

তবে পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। আলোচনা শেষে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান মন্তব্য করেন, ‘উভয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ছেলে-মেয়ে দুজনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আওতায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


আজ ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন সরকার এই তথ্য প্রদান করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ইসি কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল (২৭ সেপ্টেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।

ইসির তফসিল অনুসারে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে।

এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসার।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। যদি কেউ রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন সময় পাবেন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এদিকে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম অনুসন্ধান ও অপরাধসমূহের সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিনটি নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করেছে ইসি।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তার স্বার্থে কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর তিনজন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োগের জন্য পুলিশ কমিশনার বা পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেছে ইসি।

এছাড়া, কোনো অনুসন্ধান বা বিচারকার্য পরিচালনার জন্য কমিটির কাজে প্রয়োজনীয় স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনার বা পুলিশ সুপার বা স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বা অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কমান্ডার বা ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

পোস্টাল ভোট: এই উপ-নির্বাচনে দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ভোটিংয়ের নিবন্ধন কার্যক্রম ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত উন্মুক্ত রেখেছে ইসি।

ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটদানে ইচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। তবে গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে ৮ হাজার ৩২২ জন নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমান ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে।

তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য হয়ে পড়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব পর্যটন দিবসে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


বিশ্ব পর্যটন দিবসে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে

প্রতি বছরই খাগড়াছড়ির দিকে পর্যটকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পাহাড়, ঝরনা, গুহা এবং সবুজের হাতছানির কারণে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আলুটিলা, রিছাং ঝর্ণা, হর্টিকালচার পার্ক, দেবতাপুকুর, মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে আসছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বিনোদন সুবিধা যুক্ত হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আকর্ষণ বেড়েছে। তবে পর্যটকদের চাহিদার তুলনায় বিনোদন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা এখনও সীমিত বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। রহস্যময় গুহা, পাহাড়ের ওপর থেকে বিস্তৃত সবুজের দৃশ্য এবং নান্দনিক স্থাপনা মিলিয়ে এটি জেলার অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। এর পাশাপাশি রিছাং ঝর্ণা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের হর্টিকালচার পার্ক, দেবতাপুকুরসহ আরও বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সম্প্রতি হর্টিকালচার পার্কে জিপলাইন ও জায়েন্ট সুইং যুক্ত হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। তাছাড়া, দেশের ভাইরাল পর্যটন কেন্দ্র ‘সাজেক’ এর প্রবেশমুখ হওয়ায় এই পাহাড়ি জেলায় পর্যটকদের আসতেই হয়।

তবে পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে গিয়ে সব চাহিদা পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত রাইড, মানসম্মত থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা, বসার জায়গা এবং আধুনিক বিনোদন সুবিধা বাড়ানোর দাবি পর্যটকদের।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করা ছাড়াও বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে আধুনিক বিনোদন ও যোগাযোগ সুবিধা যুক্ত করা জরুরি। আলুটিলা থেকে হর্টিকালচার পার্ক বা আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে সংযুক্ত করে ক্যাবল কার চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া গেলে নতুন আকর্ষণ তৈরি হতে পারে বলেও তারা মনে করেন।

এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন, সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্টদের দাবি হলো উন্নত সড়ক যোগাযোগ, পর্যটনকেন্দ্রে আধুনিক অবকাঠামো, মানসম্মত আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা এবং নৈশকালীন বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের মতে, পর্যটনকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধকতার প্রভাব থেকে যতটা সম্ভব মুক্ত রেখে নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অল্পতেই রাগ ও বিরক্তির পেছনে মানসিক চাপের কারণ জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪১ পি.এম


অল্পতেই রাগ ও বিরক্তির পেছনে মানসিক চাপের কারণ জানুন

অনেক নারীর ক্ষেত্রে সবসময় বিরক্তি, রাগ বা সামান্য বিষয়েও অস্থির হয়ে ওঠাকে অনেক সময় খারাপ স্বভাব বা বদমেজাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, এই দীর্ঘস্থায়ী বিরক্তি সবসময় ব্যক্তিত্বের সমস্যা নির্দেশ করে না। এর পেছনে মানসিক চাপ, দুঃখ, শোক কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বিরক্তি অনেক সময় শরীর ও মনের ভেতরে জমে থাকা অস্বস্তির একটি প্রকাশ হতে পারে। বিষণ্নতা, দ্বিমেরু মানসিক সমস্যা, অমীমাংসিত শোক, মানসিক আঘাত কিংবা অতিরিক্ত উদ্বেগের মতো বিষয়গুলি এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

বিষণ্নতায় বিরক্তি প্রকাশ পেতে পারে

অনেক নারীর ক্ষেত্রে বিষণ্নতা সবসময় চোখের পানি বা গভীর দুঃখের মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। বরং দীর্ঘদিনের বিরক্তি, রাগ, অধৈর্যতা বা সামান্য বিষয়েও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এটি প্রকাশ পেতে পারে।

মনের দুঃখ, হতাশা বা নিজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা অনেক সময় রাগ ও বিরক্তির রূপ নিতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এই অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, পছন্দের কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন এবং নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়ার মতো লক্ষণও থাকতে পারে।

দ্বিমেরু মানসিক সমস্যায় মেজাজের পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মেজাজের অস্বাভাবিক ওঠানামার সময় একজন ব্যক্তি খুব দ্রুত রেগে যেতে পারেন বা অল্পতেই অস্থির হয়ে উঠতে পারেন।

এছাড়া, হঠাৎ করে অনেক বেশি আনন্দ বা গভীর বিষণ্নতা, না ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

অমীমাংসিত শোকও হতে পারে কারণ

কোনো প্রিয়জনকে হারানো কিংবা গভীর কোনো ক্ষতির পর অনেকেই নিজের দুঃখ ও অপরাধবোধ ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। সেই জমে থাকা অনুভূতি পরে রাগ, বিরক্তি বা অধৈর্যতার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হারানোর কথা মনে করিয়ে দেয় এমন বিষয় এড়িয়ে চলা, আবেগ অনুভব করতে না পারা কিংবা কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পারাও এর সঙ্গে থাকতে পারে।

মানসিক আঘাতের প্রভাব

পুরোনো কোনো মানসিক আঘাত দীর্ঘদিন পরও আচরণ ও অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ সবসময় সতর্ক বা সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারেন। সামান্য বিষয়েও রাগ, বিরক্তি বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

এর সঙ্গে ভয়ংকর ঘটনার স্মৃতি বারবার মনে পড়া, দুঃস্বপ্ন, সবসময় বিপদের আশঙ্কা করা, আবেগ অনুভব না করা কিংবা সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয় এমন বিষয় এড়িয়ে চলার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

সবসময় বিরক্তি মানেই খারাপ স্বভাব নয়

দীর্ঘদিনের বিরক্তিকে শুধু ‘খারাপ ব্যবহার’ বা ‘এমনই স্বভাব’ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় এটি ভেতরে থাকা দুঃখ, শোক, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে।

হরমোনের ওঠানামা, দীর্ঘদিনের চাপ ও অতিরিক্ত মানসিক চাপও বিরক্তি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের আগে তীব্র মানসিক পরিবর্তন বা অতিরিক্ত উদ্বেগের মতো সমস্যার ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যেতে পারে।

কোন পরিস্থিতিতে বিরক্তি বাড়ছে, তা খেয়াল করা জরুরি। বিরক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ হতে পারে কোন পরিস্থিতিতে এটি বেশি হচ্ছে তা বোঝা। কর্মক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কাজ, সহকর্মী বা বাইরের চাপ থেকে বিরক্তি তৈরি হচ্ছে কি না, তা খেয়াল করা যেতে পারে।

বিরক্ত হওয়ার পর নিজের আচরণ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে, নাকি সামলাতে সাহায্য করছে—সেটিও ভাবা জরুরি। সন্তানের আচরণে বিরক্ত হওয়ার সময় নিজের ভেতরে তখন কী অনুভূতি কাজ করছে, সেটিও খেয়াল করা যেতে পারে।

বিষয়টি শুধু শিশুর আচরণের কারণে, নাকি নিজের ক্লান্তি বা অন্য কোনো চাপ থেকেও বিরক্তি তৈরি হচ্ছে—তা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। গাড়ি চালানোর সময় যানজট, অন্য চালকের আচরণ কিংবা সময়ের চাপ থেকেও বিরক্তি তৈরি হতে পারে।

তখন শরীরে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, যেমন দাঁত চেপে রাখা বা কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া—সেদিকেও খেয়াল করা যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে গভীর শ্বাস নেওয়া, শান্তভাবে নিজেকে সামলানো বা মনোযোগ অন্যদিকে নেওয়ার মতো পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে।

বিরক্তির কারণ লিখে রাখুন

কোন মানুষ, পরিস্থিতি বা পরিবেশে বিরক্তি বেশি হচ্ছে, তা লিখে রাখলে নিজের আচরণের কিছু ধরন বোঝা সহজ হতে পারে। কখন বিরক্তি হচ্ছে, তখন কী ঘটেছিল এবং নিজের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল—এসব লিখে রাখলে একই ধরনের পরিস্থিতি বারবার ঘটছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব।

প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

দীর্ঘদিন ধরে বিরক্তি থাকলে এবং তা দৈনন্দিন জীবন, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেললে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসার মাধ্যমে বিরক্তির পেছনে থাকা দুঃখ, মানসিক আঘাত বা শোক নিয়ে কাজ করা সম্ভব।

বিষণ্নতা, দ্বিমেরু মানসিক সমস্যা বা মাসিকের আগে তীব্র মানসিক পরিবর্তনের মতো কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা

বিরক্তি বা রাগের মুহূর্তে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, শরীরের পেশি ধীরে ধীরে শিথিল করা এবং কিছুক্ষণ শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার মতো পদ্ধতি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত মনোযোগ ধরে রাখার অনুশীলন ও শিথিল হওয়ার অভ্যাসও উপকারী হতে পারে।

দীর্ঘদিনের বিরক্তিকে তাই শুধু স্বভাবের সমস্যা হিসেবে দেখার বদলে এর পেছনে থাকা কারণ বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া, বিরক্তির কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া মানসিক সুস্থতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

সূত্র: এসেন্স সাইকোলজিকেল হেলথ সার্ভিসেস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%