০৭:৪৭ পি.এম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানসহ ৫০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সারপটি এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে কেক কাটেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে, সেখানে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআই মোরশেদ আলম বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে চৌদ্দগ্রাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় মিজানুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় আসামি হিসেবে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর হাজী নজরুল ইসলাম কামালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় আসামি হিসেবে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ জালাল মজুমদার রয়েছেন।
মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী আমজাদ হোসেন মোরশেদ, আলমগীর হোসেন জাহিদ ও আওয়ামী লীগ নেতা মজিদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. আরিফ হোসাইন বলেন, "কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন অপতৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে।" থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি হওয়ার বিষয়ে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মন্তব্য করেন, "বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দমনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা, কাল্পনিক ও আজগুবি মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করার জন্য মাঠে নেমেছে।" তবে তিনি বলেন, "এসব অপচেষ্টা করে কখনোই মুজিব আদর্শের নেতাকর্মীদের দূরে সরানো যাবে না।"
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন