রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
গলা খুসখুস হচ্ছে এবং কাশি থামছেই না—এমন পরিস্থিতিতে ভুগছেন অনেকে। জ্বর না থাকলেও সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথার কারণে অস্বস্তির শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে গলায় খুসখুস ভাব থাকলে কাশি থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে জ্বর, সর্দি-কাশি হতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অ্যালার্জির কারণে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। কাশি কমানোর জন্য ওষুধ বা কফের ওষুধ ব্যবহার করা হলেও, অনেক সময় তা সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি আরাম দেয় না। এই অবস্থায়, ওষুধের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপায়ও অবলম্বন করা যেতে পারে।
গলা খুসখুস ও কাশির অস্বস্তি কমাতে ঘরে তৈরি করা যায় এমন তিনটি পানীয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রচলিত ঘরোয়া চিকিৎসায়।
কাড়া
সর্দি-কাশির অস্বস্তিতে অনেকেই কাড়া বা বিভিন্ন মসলা ফোটানো পানি পান করেন। গলা খুসখুসের সময়ও এটি পান করা যেতে পারে।
দারচিনি, আদা, তুলসীপাতা, গোলমরিচ ও লবঙ্গ দুই কাপ পানিতে দিয়ে কম আঁচে ফুটিয়ে নিতে হবে। পানি কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর এতে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে গরম অবস্থায় চায়ের মতো পান করুন।
এতে গলায় আরাম মিলতে পারে এবং ধীরে ধীরে কাশির অস্বস্তিও কমতে পারে। তুলসীপাতা, আদা ও লবঙ্গের ভেষজ গুণ রয়েছে।
বাসকপাতার পানি
একসময় সর্দি-কাশির ঘরোয়া উপশমে বাসকপাতা র ব্যবহার বেশ প্রচলিত ছিল। এখনো অনেক বাড়িতে কাশি না কমলে বাসকপাতা ফোটানো পানি পান করানো হয়।
বাসকপাতা, তুলসীপাতা, কুচি করা আদা ও তালমিছরি একসঙ্গে পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। সব উপকরণ ভালোভাবে ফুটে গেলে ছেঁকে গরম অবস্থায় চায়ের মতো পান করুন।
দিনে দুইবারের বেশি না খাওয়াই ভালো। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা তালমিছরি বাদ দিতে পারেন। তালমিছরি না থাকলে মধু ব্যবহার করা যেতে পারে।
তুলসীপাতার রস ও মধু
গলা খুসখুস ও সর্দি-কাশির অস্বস্তিতে তুলসীপাতার রসও ঘরোয়া উপায়ে ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি তুলসীপাতা থেঁতলে রস বের করে নিতে হবে। এর সঙ্গে আদার রস ও মধু মিশিয়ে হালকা গরম করতে হবে।
এরপর মিশ্রণটি এক কাপ গরম পানিতে দিয়ে চায়ের মতো পান করতে পারেন। তুলসীপাতায় প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে, তাই এটি সর্দি-কাশির অস্বস্তিতে উপকারী বলে প্রচলিত।
এছাড়া শুকনো আদা, লবঙ্গ ও তালমিছরি মুখে রাখলেও গলার অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
ঘরোয়া পথ্য হলেও সতর্কতা জরুরি
সর্দি-কাশি বা গলা খুসখুসে অস্বস্তিতে এসব ঘরোয়া পানীয় সাময়িক আরাম দিতে পারে। তবে কাশি যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, শ্বাসকষ্ট হলে বা অসুস্থতা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীতে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গলাচিপা উপজেলার আমখোলা এলাকার রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাউয়ুম উদ্দিন (৫০), গলাচিপার অনিল মিস্ত্রির মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বাউফল উপজেলার বিলবিলাস এলাকার দিয়েন মিস্ত্রির মেয়ে তিথি রানী (২৩) এবং গলাচিপার হরিদেবপুর এলাকার সোবাহানের ছেলে মিরাজ (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস। পথিমধ্যে ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। ফলে উভয় যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এই সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
বাসযাত্রী মহিবুল্লাহ বলেন, "বাসটি শুরু থেকেই অনেক গতিতে চলছিল। হঠাৎ কী হলো কিছুই বুঝতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন।"
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল জানান, "হঠাৎ ঝপ করে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে আসি। এসে দেখি বাসটি খাদে পড়ে আছে। বাসের নিচে একটি অটোরিকশাও চাপা পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা মিলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।"
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, "ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, "ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়।"
তিনি আরও বলেন, "দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান।
এ তথ্য প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। আমাদের এখন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের পথে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি টেসলা গাড়ি চালকের আসনে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় প্রায় ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে চলছিল। গাড়িটিতে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা (সেলফ ড্রাইভিং) ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। চালকের ঘুমিয়ে থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করা মাত্রই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে জরিমানা করে।
এই ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার সোলানো কাউন্টির আন্তঃরাজ্য ৮০ মহাসড়কে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের এক মোটরসাইকেল কর্মকর্তা দেখতে পান, গাড়িটি প্রায় ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে চললেও চালকের আসনে থাকা ব্যক্তি হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। তার চোখে ছিল একটি কালো চশমা।
পুলিশ পরে গাড়িটি থামায়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ২ সেপ্টেম্বর। গাড়িটি থামানোর পর চালককে অনিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাকে বোঝানো হয় যে, টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকলেও চালক সম্পূর্ণভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারেন না।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ জানায়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চলার সময় চালক ঘুমিয়ে থাকলে তার জন্য বর্তমানে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রচলিত ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে।
পুলিশ কর্মকর্তা স্কট হেইটম্যান বলেন, "ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানোর নিরাপদ গতি হলো ঘণ্টায় শূন্য মাইল।"
টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামটি শুনে অনেকের মনে হতে পারে যে, এটি পুরোপুরি চালকবিহীন ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে এটি চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চালক সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহারের সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব চালকের ওপরই বর্তায়।
ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালকদের সতর্ক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাড়িতে উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও চালককে সবসময় সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সোলানো কাউন্টির ঘটনাটি এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টিতে একটি টেসলা সাইবারট্রাকের চালককে মহাসড়ক ১০১-এ গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার অবস্থায় দেখা যায়। ওই ঘটনার পরও ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছিল যে, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় বা চালক সহায়তা ব্যবস্থা থাকলেও গাড়ির দায়িত্ব চালকেরই।
এর আগে মার্চ মাসে ভ্যাকাভিল শহরেও টেসলাকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় একটি টেসলা চলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে কর্মকর্তারা গাড়ির সামনের আসনে চালককে ঘুমন্ত অবস্থায় পান।
পুলিশ জানিয়েছিল, গাড়িতে পিৎজার বাক্স ও ছোট আকারের কয়েকটি মদের বোতলও ছিল। ওই ব্যক্তিকে মাদক বা মদের প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ বলছে, আধুনিক চালক সহায়তা প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে পারে। তবে এর মাধ্যমে চালকের দায়িত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। চলন্ত গাড়িতে চালকের মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি।
সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ, এসএফগেট, দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, যা জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো হবে। এই ভাষণের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের জাতিসংঘের সঙ্গে চার দশকের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
তারেক রহমানের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ প্রদান করেন। এরপর, তার মা, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ার আহ্বানও জানান।
এই ভাষণের ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
তিনি পরবর্তীতে আরও কয়েকবার সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য রেখেছিলেন।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।
এবার, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। সফরের সময় রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া, এবারের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।
১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মাধ্যমে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ