০৯:৪৮ পি.এম
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান আন্দোলন আজ ১২ দিন অতিক্রম করেছে। শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার, এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন উপাচার্য উল্লেখ করেন যে, আন্দোলনের কারণে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের চারটি পরীক্ষা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, এই তথ্য ক্যাম্পাসের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাদের বক্তব্য, ওই শিক্ষাবর্ষের প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, কেবল একটি বিভাগের পরীক্ষা এখনও শুরু হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে, শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারীরা নতুন উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক’ বলে উল্লেখ করে মিছিল বের করেন।
আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ
মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘এক দফা, এক দাবি—সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা’ লেখা ব্যানার ছিল। এছাড়া ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ ও ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’ লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।
অচলাবস্থার সমাধান, অধ্যাপক সায়েমের পুনর্বহাল এবং শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহীদুর রহমান ওসমানী বলেন, "আজ আমাদের কর্মসূচির ১২তম দিন। দাবি আদায়ে আমরা এখনো অটল। আমাদের একটাই দাবি—অধ্যাপক সায়েম স্যারকে ভিসি পদে ফিরিয়ে দিতে হবে। দ্রুত দাবি পূরণ হলে আমরা ক্লাসে ফিরতে পারব; তাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছি।"
আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ
উল্লেখ্য, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীরা ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ পালন করছেন। এই সময় অধ্যাপক সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে লাল কার্ড প্রদর্শন ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রয়েছে এবং ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন