সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৯ পি.এম
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননার সংখ্যা ১২ থেকে ১০০ জনে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ সম্মাননার আওতায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন এসব তথ্য জানান।
ড. মাহদি আমিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়ে আসছিল। তবে এ বছর প্রথমবারের মতো এই সংখ্যা ১০০ জনে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রাথমিক থেকে তৃতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের সম্মাননার আওতায় আনা হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও সম্মাননার জন্য বিবেচনা করা হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হবেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখা থেকেও শিক্ষক নির্বাচন করা হবে।
তিনি জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা নিয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় আলোচনা চলছে। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হবে। শিক্ষক দিবসে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা–সংক্রান্ত ভাবনার অংশ। শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে যারা কাজ করছেন, তাদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দিবসটি উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গ্রাহকদের প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে নাটোরে সোনালী ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া পাঁচজনই ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বরখাস্তের আদেশ প্রদান করে। নাটোর সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের নাম হলো-এইচএম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, মনিরুজ্জামান, লিটন কুমার ও বিপুল পাল।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে লিটন কুমার ও বিপুল পালের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। লিটন কুমার গ্রাহকদের প্রায় ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং বিপুল পাল প্রায় ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সম্প্রতি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তারা নাটোর থেকে বদলি হয়ে সর্বশেষ নওগাঁ জেলায় কর্মরত ছিলেন। অপর তিন কর্মকর্তা এইচএম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামান বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ভুয়া ঋণপত্র তৈরি ও অতিরিক্ত আমানত সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা নাটোরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, নাটোরে কর্মরত থাকাকালীন অভিযুক্তরা বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের নাটোর শাখার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা বলেন, "গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে প্রধান কার্যালয় থেকে পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতের মতো মোনাফেক দল সারা পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, "সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু জামায়াতকে নয়।" তিনি সকলকে সাবধান থাকার আহ্বান জানান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নাশকতা, নৈরাজ্য এবং আগুন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে।
মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান আরও বলেন, "বিএনপিকে ক্ষমতায় রাখতে চাইলে, তারেক রহমানকে ক্ষমতায় রাখতে চাইলে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, ক্ষমতার দাপট দেখানো বন্ধ করতে হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের কিছু ভুল যে হয় নাই দুই বছরে তা না। আমরা দুই বছর কিছু ভুল করেছি, মনে মনে তওবা করেন।" তিনি বলেন, "তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ছেলে, বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে মানুষের সঙ্গে কোনো দিন প্রতারণা করতে পারেন না।" তিনি বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার জন্য জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এছাড়া বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, আনোয়ার হোসেন আনু প্রমুখ। এর আগে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে এসে জড়ো হন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম বোরকা পরে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষের সেবা কেমন হচ্ছে এবং সেখানে কোনো হয়রানি বা অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা দেখা যায়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তিনি পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো ভূমি অফিসে যান। এ সময় তিনি নিজেও সেবা গ্রহণ করেন এবং সেখানে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানতে চান, ভূমিসেবা নিতে গিয়ে তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না।
পরে ডিসি ফরিদা খানম ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে ভূমিসেবা পেতে পারে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ে সেবার প্রকৃত চিত্র জানতে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে সাইকেল চালানোর জন্য দুটি আলাদা ট্র্যাক রাখা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটিতে সাইকেল চালানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সাইকেল চলাচলে নতুন একটি যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
আধুনিক নগর পরিকল্পনার আওতায় নিরাপদ ফুটপাত, সাইকেলের লেন (ট্র্যাক), পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং সবুজায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিমানবন্দর সড়কে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে। পতেঙ্গা সৈকতের পাশে অবস্থিত এই সড়কটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য সাইকেলে চড়ে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। অদূর ভবিষ্যতে এটি সাইকেল-ট্যুরিজমের নতুন দুয়ারও খুলতে পারে।
পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে আলাদা সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের সংলগ্ন সড়কটির নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর সড়কের চার লেনের দুপাশে ফুটপাত রাখা হয়েছে। মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মিড আইল্যান্ড। সড়কের একপাশে ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াকওয়ের সঙ্গে সাইকেল চলাচলের জন্য দুটি ট্র্যাক রাখা হয়েছে। সাইকেল ট্র্যাকের দুপাশে ইটের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন পাথরের কার্পেটিং করে সাইকেল ট্র্যাকটি চালুর জন্য প্রস্তুত করা হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কের দুই পাশে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা ট্র্যাক থাকে। সেখানে সাইকেলে প্যাডেল ঘুরিয়ে গন্তব্যে ফিরছে মানুষ, এমন দৃশ্য চিরচেনা। কিন্তু আমাদের দেশে পরিস্থিতি ভিন্ন। যানজট, ধুলাবালি এবং গাড়ির ভিড়ে আলাদা ট্র্যাক না থাকার কারণে শহরগুলোতে সাইকেল নিয়ে বের হওয়া সম্ভব হয় না। ফলে সাইকেল চালানোর অভ্যাস গড়ে ওঠেনি। তবে একটি গবেষণা জরিপে দেখা গেছে, সাইকেল চালানোর দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে ১৫ নম্বরে রয়েছে। সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা শহর নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন, যেখানে বেশিরভাগ মানুষই সাইকেল ব্যবহার করেন।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক গবেষণা জরিপে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। গবেষকরা ১২১টি দেশের প্রায় ১১ হাজার ৫৮৭টি শহরের গুগল ম্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেছেন।
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা ট্র্যাক রাখা হয়। আমি নিজেও অনেক দেশে এটি দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তাই প্রথমবারের মতো আমি একটি সড়কের দুপাশে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করেছি। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই সাইকেল চালানোর জন্য এই ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ