ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় নাগরিক পার্টির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সারজিস আলম


জাতীয় নাগরিক পার্টির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংগঠনিক কাজে গতিশীলতা আনতে ২৩ সদস্যের একটি সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করেছে। এই উপকমিটির প্রধান হিসেবে সারজিস আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

বৈঠকটি পরিচালনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুইজন উপ-প্রধান থাকবেন। এছাড়া, প্রতি বিভাগে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে কচুরিপানা খাওয়ার সময় গাভীর ওপর কুমিরের হামলা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


বাগেরহাটে কচুরিপানা খাওয়ার সময় গাভীর ওপর কুমিরের হামলা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রামে একটি গাভী কুমিরের হামলায় আহত হয়েছে।

এটি ঘটেছে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, যখন গাভীটি বলেশ্বর নদসংলগ্ন চরে কচুরিপানা খাচ্ছিল। স্থানীয়রা লাঠিসোটা নিয়ে কুমিরটিকে তাড়া করলে, কুমিরটি গাভীটিকে ছেড়ে দিয়ে নদীতে চলে যায়।

জানা গেছে, কুমিরের আক্রমণের ফলে গাভীটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। পরে শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসক গাভীটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।

গরুর মালিক পুতুল বেগম জানান, তার চারটি গরু বলেশ্বর নদের চরে জমে থাকা কচুরিপানা খাচ্ছিল। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ নদী থেকে একটি কুমির উঠে এসে একটি গাভীর পেছনের দিকে আক্রমণ করে এবং গাভীটিকে নদীর দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে গেলে কুমিরটি গাভীটিকে ছেড়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী রাসেল ও সুজন জানান, দুপুরে তারা কয়েকজন নদীর পাড়ে বসেছিলেন। এ সময় একটি কুমির গাভীটিকে টেনে নদীর দিকে নিয়ে যেতে দেখেন। পরে তারা কয়েকজন মিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে কুমিরটিকে তাড়া করলে এটি গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায়। এই ঘটনার পর এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ বলেন, কুমিরের আক্রমণে গাভীটি বেশ জখম হয়েছে। এটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে বনরক্ষীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কুমিরটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত বাংলাদেশি পাটপণ্যে নতুন অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


ভারত বাংলাদেশি পাটপণ্যে নতুন অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে

ভারত বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্কের হার নতুনভাবে নির্ধারণ করেছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী আলাদা আলাদা শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ ২৪ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন, হেসিয়ান কাপড়, স্যাকিং ব্যাগ এবং স্যাকিং ক্লথের ওপর ভিন্ন ভিন্ন শুল্ক কার্যকর করেছে। নতুন এই শুল্ক কাঠামোর অধীনে, ১ থেকে ৫৫ নম্বরে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শুল্কের হার অপেক্ষাকৃত কম রাখা হয়েছে, তবে তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

তালিকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাটের সুতায় প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার, হেসিয়ান কাপড়ে ৮৮ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ২৮৩ ডলার পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, জুট স্যাকিং ব্যাগের জন্য নির্ধারিত শুল্ক জুট স্যাকিং ক্লথের ওপরও প্রযোজ্য হবে, তবে বাংলাদেশ থেকে ১০টি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তৈরি স্যাকিং ক্লথকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে শুল্ক সুবিধা পেতে হলে রপ্তানিকারককে বৈধ বাণিজ্যিক চালানের মাধ্যমে পণ্যের মূল প্রস্তুতকারকের সঠিক ঘোষণা প্রদান করতে হবে, অন্যথায় সর্বোচ্চ শুল্কহার প্রযোজ্য হবে।

প্রতিষ্ঠানভেদে শুল্কের হারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তারতম্য দেখা গেছে। এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পাটের সুতা ও হেসিয়ান কাপড়ে কোনো শুল্ক আরোপ করা হয়নি। নাটোর জুট মিলসের স্যাকিং ব্যাগ এবং জনতা জুট মিলসের হেসিয়ান কাপড়েও শুল্ক শূন্য ধার্য করা হয়েছে। তবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাটের সুতায় প্রতি টনে ৫৯ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ৯৪ ডলার, নাটোর জুট মিলসের সুতায় ১০৭ ডলার এবং সুপার জুট মিলসের সুতায় ১৩৯ ডলার ও স্যাকিং ব্যাগে ১৫৫ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও হাসান জুট, জনতা জুট, সাদাত জুট, সাগর জুট স্পিনিং এবং সিডল অ্যান্ড টেক্সটাইলসের পাটের সুতায় ৬৯ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ১২০ ডলার করে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। আফিল জুট ও আলিনা জুট মিলসের হেসিয়ান কাপড়ে ৮৮ ডলার এবং রাজবাড়ী জুট মিলসের সুতায় ৬৯ ডলার ও হেসিয়ান কাপড়ে ৮৮ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর) ২০২৫ সালের ৩০ জুন অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা শুরু করে এবং ডিজিটিআরের চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে রাজস্ব বিভাগ এই নতুন হার প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে। সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক জানিয়েছেন, আগে সুবিধাপ্রাপ্ত অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন করে বাদ পড়েছে, আবার অনেকে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এ খাতে কোনো সরকারি ভর্তুকি না থাকায় এ শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতগামী পাটপণ্যের রপ্তানিতে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে। বিশেষ করে তালিকাবহির্ভূত ক্ষুদ্র ও মাঝারি পাটকলগুলো অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা সামলাতে না পেরে রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ওয়েজ বোর্ডসহ কাজ করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ওয়েজ বোর্ডসহ কাজ করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করতে এবং ওয়েজবোর্ড ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর কনসালটেশন সভায় তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হওয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা যাতে অন্য কেউ গ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা আবশ্যক।

তিনি সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড, পেশাগত অধিকার ও কল্যাণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তা প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাকে সাংবাদিক হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কাকে গণ্য করা হবে না, তা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বীকৃতির জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দেন। তিনি সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে বার কাউন্সিলের মতো ব্যবস্থা করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ আহ্বান করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, একুশে টেলিভিশনের সিইও আবদুস সালাম, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিইও মোস্তফা আকমল, ডা. শাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, ইআরএফের সাবেক সভাপতি শারমিন রিনভী, দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইউএনবির ডেপুটি এডিটর মাসউদ-উল-হক, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী প্রমুখ।

এ সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহার করে নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহার করে নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক প্ল্যানটেইন নামক ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহার করে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। প্রায় দুই দশকের গবেষণার ফলস্বরূপ, তারা ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে একটি ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করেছেন, যা প্ল্যানটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ঔষধি বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগায়। একই সঙ্গে, তারা দেশে প্ল্যানটেইনের বীজ উৎপাদন, চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খামারে ব্যবহারের জন্য একটি দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।

গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন, যিনি বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক। সহযোগী গবেষক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. তামান্না হক। গবেষণায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ অর্থায়নে ‘সাসটেইনেবল কমার্শিয়ালাইজেশন অব প্ল্যানটেইন অ্যান্ড সিড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট ফর সেফ অ্যান্ড ফাংশনাল ব্রয়লার মিট প্রোডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ আল-মামুন জানান, "আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন করা।" তিনি বলেন, প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসেবে তারা প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ‘বাউ-প্লান্টিভ’ বাজারে আনা নয়, বরং প্ল্যানটেইন থেকে বীজ, বীজ থেকে ফিড, ফিড থেকে কার্যকরী মাংস এবং গবেষণা থেকে একটি টেকসই বাংলাদেশভিত্তিক বাণিজ্যিক সিড-টু-মিট ভ্যালু চেইন তৈরি করা।

ড. আল-মামুন আরও বলেন, "বাউ-প্লান্টিভ খাওয়ানো ব্রয়লারের হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বাড়ে।" তিনি উল্লেখ করেন, মুরগির দৈহিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পায় এবং পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মুরগির মাংসে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে, মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায় এবং গরমের ধকল বা হিট স্ট্রেস সহ্য করার সক্ষমতাও উন্নত হয়।

গবেষণার প্রতিটি ট্রায়ালে প্রায় ৪৫০টি করে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ৩৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তিনটি পৃথক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত মাঠের পাশাপাশি এসি ও নন-এসি গ্রিনহাউসেও প্ল্যানটেইন চাষ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্ল্যানটেইন উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।

প্ল্যানটেইন চাষের ক্ষেত্রে বীজের আমদানিনির্ভরতা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানিকৃত প্যারেন্টাল বীজ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি একরে মাত্র আড়াই কেজি বীজ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রথম প্রজন্মের (জি-১) বীজ উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১৪০ কেজিতে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মে (জি-২) প্রতি একরে প্রায় ২০০ কেজিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এক একর প্ল্যানটেইন থেকে উৎপাদিত বীজ দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে নতুন করে চাষ করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজের একটি শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গবেষকেরা জানান, প্ল্যানটেইনকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের সমন্বয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করা হয়েছে। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির ওপর ধারাবাহিক পরীক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। প্রচলিত কৃত্রিম অ্যাডিটিভের তুলনায় বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কমে। প্রচলিত মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে গড়ে সাড়ে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা প্রায় ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ড. আল-মামুন বলেন, "বাংলাদেশে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণার কাজ আমিই প্রথম শুরু করি।" তিনি জানান, ২০০৪ সালে জাপানে পিএইচডি করার সময় থেকেই তিনি এই ভেষজ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, "ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বেও প্রথমবারের মতো আমরা করেছি।" জাপানে গবেষণার সময় প্ল্যানটেইনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বাংলাদেশে এর চাষ, ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। তাদের তৈরি ‘বাউ-প্লান্টিভ’ এখন গবেষণাগার থেকে খামার পর্যায়ে প্রয়োগের পর্যায়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, "এখন মূল চ্যালেঞ্জ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের, বীজ কোম্পানির, ফিড মিলের, পোল্ট্রি শিল্পের, এনজিওর এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, "পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং, বাস্ট ফ্রিজিং ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।" এ উদ্যোগ সফল হলে একদিকে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে প্ল্যানটেইন বীজ ও ফিড অ্যাডিটিভ শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জানা যায়, প্ল্যানটেইন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এতে গ্লাইকোসাইড, ক্যাটালপলসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। উদ্ভিদটির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের মান জাপানে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের কাছাকাছি। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত প্রায় আট মাস এটি চাষ করা সম্ভব।

প্রসঙ্গত, ‘বাউ-প্লান্টিভ’ প্ল্যানটেইন ও দেশীয় কয়েকটি ঔষধি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল নিয়ে ‘পোল্ট্রি সায়েন্স জার্নাল’ ও ‘ইতালিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%