ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে থাকা আরেক বন্ধুর মাধ্যমে দেশে আনা হলো চিকিৎসাধীন দুই বন্ধুর মরদেহ


ভারতে থাকা আরেক বন্ধুর মাধ্যমে দেশে আনা হলো চিকিৎসাধীন দুই বন্ধুর মরদেহ

ভারতের কলকাতায় উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন গাজীপুরের দুই ব্যক্তি। এই ঘটনার পর ভারতে থাকা আরেক বন্ধু তাদের মরদেহ গ্রহণ করে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে মরদেহ দুটি দেশে আনা হয়।

দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমান (৫৮) এবং কালীগঞ্জের কাপাসিয়া এলাকার বিল্লাল মাঝি (৫০) গত ১৫ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে ভারতে গিয়েছিলেন। তারা কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সূত্র জানাচ্ছে, বিল্লাল মাঝি গত ৯ আগস্ট রাত সোয়া ৯টার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এর পর দিন ১০ আগস্ট রাত পৌনে ৮টার সময় মো. হাবিবুর রহমান মারা যান। হাবিবুর রহমান স্ট্রোকজনিত জটিলতায় এবং বিল্লাল মাঝি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দুইজনের মৃত্যুর পর ভারতে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এরপর তাদের বন্ধু মো. আবু নাহিদ (৪৫) ভারতে থেকে মরদেহ দুটি গ্রহণ করেন। তিনি মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পর দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সেগুলো গ্রহণ করা হয়। গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিল্লাল মাঝির মরদেহ এবং ৭টা ৩০ মিনিটে হাবিবুর রহমানের মরদেহ দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছায়। পরে ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশ বিজিবির সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া দুই বন্ধুর মরদেহ শেষ পর্যন্ত আরেক বন্ধুর হাত ধরে দেশে ফেরার ঘটনায় স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুইজনের মরদেহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে অনিয়মের দায়ে ৩ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে অনিয়মের দায়ে ৩ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মুন্সীগঞ্জ, ১৭ আগস্ট ২০২৬ : জেলার ভ্রাম্যমাণ আদালত আজ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও দুইটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারকে মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

আজ সেমাবার জেলা সদরে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুন্না খাতুন।

এ সময় মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় ডেঙ্গু পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী টাকা নেওয়ার জন্য, ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় এবং লাইসেন্স নবায়ন না করায় নিপুন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া, বেসরকারি নুরজাহান হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যা ডিপ্লোমা নার্স না থাকার কারণে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মডার্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের শাখা- ২ কে ১৫ হাজার টাকাও জরিমানা করা হয়েছে কারণ সেখানে এক্স-রে টেকনোলজিষ্ট না থাকার এবং সনদ নবায়ন না করাতে।

অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারেক রহমান ১৮০ দিনে দেশকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়েছেন: প্রিন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


তারেক রহমান ১৮০ দিনে দেশকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়েছেন: প্রিন্স

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, তারেক রহমান ১৮০ দিনে দেশকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিবাচক পথে যাত্রা শুরু করেছেন। দেশবাসীর সহযোগিতায় ইনশাআল্লাহ, তারেক রহমান আত্মমর্যাদাশীল, কল্যাণমুখী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন।’

সোমবার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রিন্স বলেন, আব্দুল আজিজ খান ছিলেন বিএনপির একজন ত্যাগী, পরোপকারী, মানবিক ও কর্মীবান্ধব নেতা। দলের প্রতিটি কর্মসূচি তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দুঃসময়ে তিনি দলের পাশে ছিলেন এবং নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আজিজ খান শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের আপনজন। নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে তিনি কাছে দাঁড়াতেন। তাঁর মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও মানবিক কর্মকাণ্ড আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ত্যাগ করেছেন, তাঁদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল। এতে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী ও কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিকা দেয়ার পরও কেন হামের সংক্রমণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


টিকা দেয়ার পরও কেন হামের সংক্রমণ?

হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ। যদিও হাম প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত কার্যকর, তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে এর সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। বাস্তবতা হলো, হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধুমাত্র টিকা আবিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; প্রত্যেক শিশুকে সময়মতো টিকার আওতায় আনা, দুই ডোজ সম্পন্ন করা এবং জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার সংক্রমণ এবং প্রায় ৮৯০ শিশুর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হামের টিকার কার্যকারিতা অত্যন্ত বেশি। একটি ডোজ টিকা হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুই ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। অর্থাৎ, টিকা নেওয়ার পরও অল্পসংখ্যক মানুষের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

সমস্যার মূল জায়গা হলো—যারা টিকার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে, অসম্পূর্ণ টিকা নিচ্ছে এবং যেসব জনগোষ্ঠীতে সামগ্রিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

১. টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুরাই বড় ঝুঁকি

হাম এতটাই সংক্রামক যে এর বিস্তার ঠেকাতে একটি জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় সামগ্রিক টিকাদানের হার ৯০ শতাংশ হলেও তা হামের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। কারণ বাকি ১০ শতাংশ টিকাবঞ্চিত শিশু যদি একই মহল্লা, বস্তি, শরণার্থীশিবির বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে সেখানে সংক্রমণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ পকেট’ তৈরি হতে পারে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের বড় অংশ টিকা নেয়নি অথবা টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেনি। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি এবং সন্দেহভাজন মৃত্যুর বড় অংশ দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এমনকি টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই কিছু শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

২. এক ডোজ আর দুই ডোজ এক নয়

এক ডোজ টিকা অত্যন্ত কার্যকর হলেও শতভাগ শিশুকে সুরক্ষা দিতে পারে না। প্রথম ডোজের পর কিছু শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি নাও হতে পারে। দ্বিতীয় ডোজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এসব শিশুকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া। তাই ‘টিকা দেওয়া হয়েছে’ এবং ‘দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন হয়েছে’—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। একটি ডোজে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুই ডোজে প্রায় ৯৭ শতাংশ শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

৩. টিকাদান কর্মসূচিতে সাময়িক ঘাটতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

টিকাদান কর্মসূচিতে কয়েক মাসের ঘাটতিও কয়েক বছর পর বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে। নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়া শিশুরা পরবর্তী সময়ে হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের জন্য একটি বড় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। ফলে টিকাদানের ঘাটতি শুধু বর্তমান প্রজন্মের সমস্যা নয়; এর প্রভাব ভবিষ্যতেও বহন করতে হয়। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত WHO সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৪–২০২৫ সালে টিকাদানের ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত জাতীয় ক্যাম্পেইনের অনুপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

৪. হার্ড ইমিউনিটি দুর্বল হলে হাম দ্রুত ছড়ায়

হাম অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারেন। বদ্ধ পরিবেশেও ভাইরাস কিছু সময় সংক্রমণক্ষম থাকতে পারে। এ কারণে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি, শরণার্থীশিবির, স্কুল, হাসপাতাল কিংবা একই পরিবারের মধ্যে একজন আক্রান্ত ব্যক্তিই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ শিশুকে সংক্রমিত করতে পারেন। তাই হামের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ কভারেজ যথেষ্ট নয়; ৯৫ শতাংশের বেশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. টিকা নেওয়ার পরও কেউ কেউ আক্রান্ত হতে পারেন

কোনো টিকাই শতভাগ কার্যকর নয়। দুই ডোজ হামের টিকার কার্যকারিতা প্রায় ৯৭ শতাংশ হওয়ায় অল্পসংখ্যক টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিও সংক্রমিত হতে পারেন। বিশেষ করে ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের সময় টিকাপ্রাপ্ত শিশুরাও ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে সংক্রমিত হতে পারে। তবে এটি টিকার ব্যর্থতা নয়। বরং টিকা ব্যাপকভাবে সংক্রমণ এবং গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমায়।

৬. অপুষ্টি হামের ঝুঁকি বাড়ায়

হামের প্রভাব শুধু ভাইরাসের ওপর নির্ভর করে না; শিশুর সামগ্রিক পুষ্টিগত অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্ট শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। ফলে টিকা নেওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি নাও হতে পারে। অপুষ্টির কারণে হামের জটিলতার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি হামের জটিলতা আরও বাড়াতে পারে।

৭. সহসংক্রমণ রোগের তীব্রতা বাড়াতে পারে

হামের সঙ্গে অন্য ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সহসংক্রমণ হলে রোগের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। লেখায় অ্যাডিনোভাইরাসসহ অন্যান্য জীবাণুর সহসংক্রমণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা হামের রোগীদের জটিলতা ও প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

৮. ‘ইমিউন অ্যামনেশিয়া’: হাম শুধু হামই নয়

হামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত প্রভাবগুলোর একটি হলো ‘ইমিউন অ্যামনেশিয়া’ বা রোগপ্রতিরোধ স্মৃতির দুর্বলতা। হামের ভাইরাস শরীরের এমন কিছু মেমোরি কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যেগুলো পূর্বে পরিচিত জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ফলে হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও কিছু সময় শিশুর অন্যান্য সংক্রমণের প্রতি ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ হাম শুধু একটি শিশুকে সাময়িকভাবে অসুস্থ করে না; এর প্রভাব শিশুর পরবর্তী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—হাম নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকার কার্যকারিতা নয়, টিকার ব্যাপকতা ও সমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে টিকা দেওয়া মানে শুধু তাকে সুরক্ষিত করা নয়; একই সঙ্গে তার পরিবার, সহপাঠী এবং পুরো সমাজকে সুরক্ষিত করা। বিপরীতে, কিছু শিশু যদি টিকার বাইরে থেকে যায় এবং সেই ঘাটতি বছরের পর বছর জমতে থাকে, তাহলে জনগোষ্ঠীর মধ্যে আবার সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে হামের অভিজ্ঞতা এজন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে, প্রতিটি শিশুর জন্য দুই ডোজ নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশের বেশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে হবে। হাম প্রতিরোধের লড়াইয়ে শুধু টিকা থাকা যথেষ্ট নয়—প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া এবং নির্ধারিত দুই ডোজ সম্পন্ন করাই হলো প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।

কর্নেল (অব.) নাজমুল হুদা খান, এমফিল, এমপিএইচ, ডিএমও, ডিএই (যুক্তরাষ্ট্র)

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পরিচালক, মেডিক্যাল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগরে নবীন হাফেজ ও আলেমদের সম্মাননা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


নাসিরনগরে নবীন হাফেজ ও আলেমদের সম্মাননা প্রদান

 

উলেমা-ত্বলাবা একত্রিত হয়ে, সুন্দর সমাজ গড়ার শ্লোগান সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গোকর্ণ উলামা-ত্বলাবা ঐক্য পরিষদের ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নবীন হাফেজ ও আলেমদের সম্মাননা প্রদান এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় গোকর্ণ নতুন বাজার চত্বরে উলামা-ত্বলাবা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবদুল আওয়ালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ্ সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শাহীন, উলামা-ত্বলাবা ঐক্য পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ আবু সাঈদ, হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, গোকর্ণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কে এম খালেদ, গোর্কণ ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নাছির উদ্দিন জাফরী, মাওলানা রায়হান আহমদ শরীফী, ইউপি সদস্য আবদুল আলীম, ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুক, গোকর্ণ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি কামরুল হাসান খান, উপজেলা জাসাসের আহবায়ক সৈয়দ আবেদুল্লাহ নিউটন, উপদেষ্টা মাওলানা হাবিবুল্লাহ, উপদেষ্টা হাফেজ আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মাওলানা গাজী মাসদুর রহমান, মাওলানা শেখ মোশাররফ হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি হেলালুদ্দীন, হাফেজ মোহাম্মদ এমদাদুল্লাহ, হাফেজ আবদুল হাকিম, হাফেজ কবির আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে গোকর্ণ গ্রামের ১৬ জন নবীন হাফেজ ও আলেমসহ জনপ্রতিনিধি এবং উলামা-ত্বলাবা ঐক্য পরিষদের ৪২ জন নেতৃবৃন্দকে সম্মাননা মঞ্চে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এসময় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-উলেমাসহ গোকর্ণ উলামা-ত্বলাবা ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%