বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৪৫ এম
রাজশাহীর চারঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় এক জেলের জালে মাছের পরিবর্তে একটি বোমা উঠে আসে। প্রথমে সেটিকে একটি মূল্যবান লোহার বস্তু হিসেবে মনে করে বাড়িতে নিয়ে গেলেও পরে তার সন্দেহ হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হয়। এরপর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রাওথা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, জেলে সাইদার রহমান যখন পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন, তখন জাল তোলার পর তিনি একটি ভারী লোহার মতো বস্তু পান। এটি মূল্যবান কিছু হতে পারে ধারণা করে তিনি সেটি বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু বস্তুটি পরিষ্কার করার সময় তার ছেলে সাব্বির রহমানের সন্দেহ হলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বস্তুটি উদ্ধার করে নিরাপদে রাখে। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটি নিষ্ক্রিয় করেন।
জেলে সাইদার রহমান এসব বলতে গিয়ে জানান, "জাল তোলার পর লোহার মতো একটি বস্তু পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম মূল্যবান কিছু হবে। পরে ছেলের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দিই। এরপর বোম্ব ডিসপোজাল টিম এসে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।"
চারঘাট মডেল থানার ওসি আব্দুল মালেক বলেন, "খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে সংরক্ষণ করে। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে সফলভাবে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।"
এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরামর্শ দিয়েছে, অচেনা বা সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখা গেলে তা স্পর্শ বা স্থানান্তর না করে দ্রুত পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানাতে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের প্রতিটি পরতে মানবমুক্তি, সাম্য, প্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সৌন্দর্যের যে দীপ্ত উত্তরাধিকার নিহিত রয়েছে, তা আজও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে সেই চিরন্তন নজরুলকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে একটি অনুষ্ঠানের, যার নাম ‘বর্ষায় নজরুল’।
এটি বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসংখ্য গান ও কবিতায় বর্ষার অপূর্ব রূপ ফুটে উঠেছে। তিনি গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন বাংলাদেশের ষড়ঋতুকে। তাঁর ‘নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম, চির-মনোরম চির মধুর’ রচনায় যেন পুরো বাংলাদেশের একটি জীবন্ত মানচিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
নজরুলের শ্রাবণবিষয়ক গান ও বৃষ্টির কবিতাগুলো আজও শ্রোতা এবং পাঠকের হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নজরুলের সৃষ্টি কেবল সাহিত্য বা সংগীত নয়; এটি মানবমুক্তি, সাম্য, প্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সৌন্দর্যের এক অনন্য উত্তরাধিকার। নতুন প্রজন্মের কাছে সেই চিরন্তন নজরুলকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আয়োজিত হয়েছে এই অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং যুগ্ম-সচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদ। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। কয়েকদিন ধরে টানা এই হামলার ফলে অন্তত ৩৫ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাগুলি বন্দর আব্বাস, চাবাহারসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করা হয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরান ও তাদের মিত্ররা। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা ইরানের ২০টিরও বেশি ড্রোন এবং চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এর পাশাপাশি, ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ও সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
সংঘাত বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা দুবাই, রিয়াদ, বৈরুত ও তেল আবিবগামী ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখন সমঝোতায় আগ্রহী। তবে, এই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তেহরানকে সংযত আচরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে ইরানও কোনো সমঝোতা চুক্তি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা অনুভব করবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হল, ইরান যাতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে না পারে। ফলে ইরান, রাশিয়া ও নাইজেরিয়ার কিছু ব্যক্তি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত। ফলে যোগ্য নাগরিকদের হাতে রয়েছে মাত্র ১৫ দিনের সুযোগ।
বুধবার (১৫ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী এবং যারা এখনও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
নির্ধারিত সময়ের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকাটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে।
খসড়া তালিকায় কারও নাম বাদ পড়লে বা ব্যক্তিগত তথ্যে কোনো ভুল থাকলে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ভোটার অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যাবে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ আগস্ট নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আপত্তি নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা হলো ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১৬ জুলাই বাংলাদেশে আন্দোলন শুরু হয় এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে। ওইদিন পুলিশের গুলি লেগে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। গুলির সামনে দুই হাত প্রসারিত করে যে দৃশ্য আবু সাঈদের মৃত্যু ঘটেছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ছাত্রনেতাদের মতে, ১৬ জুলাই থেকেই আন্দোলন নতুন গতি পায়। সেদিন সারাদেশে ছাত্রলীগ এবং পুলিশের হামলায় ৬ জন নিহত হন, এবং কয়েকশ শিক্ষার্থী আহত হন। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যে ছাত্র সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তিনি বলেন, 'রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন। যে রাজাকার নাতিপুতিরা সবকিছু পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না।' উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে রাত থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। একপর্যায়ে মধ্যরাতে হলের গেট ভেঙে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসেন। ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে মেয়েরা হলের তালা ভেঙে আন্দোলনে যুক্ত হন। শেখ হাসিনার সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসজুড়ে স্লোগান ওঠে। সেদিনই প্রথম রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহার করা হয় এবং শেখ হাসিনাকে 'স্বৈরাচার' আখ্যা দেয় শিক্ষার্থী সমাজ। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একটি দলের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল একটি স্লোগান তৈরি করার জন্য, যাতে শেখ হাসিনাকে 'স্বৈরাচার' হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে। তৎকালীন জিয়া হল ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমন্বয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক রিজভী আলম রাজু প্রথম স্লোগান দেন-‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার। কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার।’ এরপর আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিতে শুরু করে আওয়ামী লীগ। ১৫ জুলাই সকালে ছাত্রলীগ ও সরকারের মন্ত্রীরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছিলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজাকার যারা হতে যাবে, তাদের কোনো দাবি মানা হবে না।' সেদিন দুপুর থেকে ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের খুঁজতে থাকে। বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্থানে গুলিও ছোড়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ জানান, হাসপাতালে হামলার ঘটনায় জড়িতদের প্রতিরোধের পরিকল্পনা হয়েছে। সে অনুসারে ঢাকার কয়েকটি এলাকায় হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ১৫ জুলাই রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হয়ে ওঠে। ওই রাতেই বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মতে, সেদিন থেকেই আন্দোলন নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর সব বাধা ভেঙে যায়। ওই রাতেই প্রতিটি হলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্রলীগকে হলগুলো থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করা হয়। ১৬ জুলাই সকালে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ শুরু হয়। অধিকার আদায়ের দাবিতে বুক উঁচু করে দাঁড়িয়ে যান রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ। বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আবু সাঈদ। একই দিনে চট্টগ্রামে নিহত হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় আবারও হামলা করে ছাত্রলীগ। মূলত ১৬ জুলাই আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। সেদিনই সারাদেশে ৬ জন নিহত হন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলেন, আবু সাঈদ এবং ওয়াসিম আকরামের মৃত্যু আন্দোলনে নতুন গতি আনে। এরপর আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদ হোসেন বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ এবং দুই হাত প্রসারিত করে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আন্দোলনের একটি প্রতীকী মুহূর্তে পরিণত হয়। এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব রিফাত রশিদ বলেন, আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মৃত্যুর খবর একসঙ্গে পাওয়ার পর তারা বুঝতে পারি, আন্দোলন আর শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সামনে আরও বড় পরিসরে ভাবতে হবে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ১৫ জুলাইয়ের ঘটনার ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই থেকেই মূল গণঅভ্যুত্থানের গতি শুরু হয়। এদিকে, ১৬ জুলাই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি প্রজ্ঞাপনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ