০৫:০০ পি.এম
লিওনেল মেসির বিদায়ের দিনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগাল জাতীয় দল ছাড়ার পেছনের কারণ তুলে ধরেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে ‘কথা না রাখার’ অভিযোগ করেছেন, যা পর্তুগিজ মহাতারকার জন্য একটি গুরুতর বিষয়।
প্রায় দুই হাজার শব্দের এই বিবৃতিতে রোনালদো নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে, তিনি একই সঙ্গে তার ক্ষোভের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন, যা যথেষ্ট গুরুতর বলে তিনি মনে করেন।
রোনালদোর অভিযোগ, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে জেসাসের সঙ্গে একটি গোপন পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনার আওতায়, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে না খেললেও, পর্তুগালেই থাকার কথা ছিল তার।
আরও পড়ুন: শূন্য রান করেও ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স ফিল্ড, খেললেন ১৩২ বল
অধিনায়ক হিসেবে তিনি চাননি যে, সতীর্থরা সফরে যাবে এবং তিনি দেশে থেকে যাবেন—এমন ভুল বার্তা তৈরি হোক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন হয়ে যায়। জেসাস তাকে নরওয়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে নামানোর কথা জানান।
এই কিংবদন্তি ফুটবলার দাবি করেন, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে তিনি নিয়মমাফিক ওয়ার্ম-আপও করেছিলেন। তবে, শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি। কোচের কথায় পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। এখান থেকেই কোচের ওপর তার ‘বিশ্বাসের ভিত্তি নড়ে যায়’ বলে জানান রোনালদো।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, রোনালদোর দাবি, জেসাসের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ডেনমার্ক ম্যাচের আগের সাংবাদিক বৈঠকে কোচ পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করবেন এবং স্বীকার করবেন যে, রোনালদো নিজে থেকে খেলার জন্য কোনো জোর দেননি। কিন্তু সেই সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য তাদের আগের কথাবার্তার সঙ্গে মিলে যায়নি।
বরং কোচের আচরণে একধরনের ‘আগ্রাসন’ তিনি লক্ষ্য করেন। তার মতে, সেটাই ছিল কোচের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় বার কথা না রাখার ঘটনা।
আরও পড়ুন: রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক
এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো। তবে, তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন।
সতীর্থ ও দেশের কোটি কোটি সমর্থকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, রাগ বা অভিমানের বশে শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া তার একদম উচিত হয়নি। এমনকি ফেডারেশন যদি তাকে কোনো শাস্তি দেয়, তিনি তা মাথা পেতে নেবেন। অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্ব আরও অনেক বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন রোনালদো।
তবে, এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি অন্য জায়গায়। আল নাসরের এই তারকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পর্তুগালের হয়ে খেলার দরজা তার জন্য এখনই বন্ধ হয়নি। দেশের হয়ে মাঠে নেমে জেতার খিদে তার আগের মতোই অটুট রয়েছে। ফলে, কোচের সঙ্গে যতই সংঘাত বাড়ুক না কেন, দেশের জার্সিতে তার অধ্যায় যে এখনই শেষ হচ্ছে না, সেই বার্তাই তিনি দিয়ে রেখেছেন।
সবমিলিয়ে, এই বিস্ফোরক বক্তব্যের সময়টাই যেন পুরো ঘটনাটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। একদিকে যেদিন মেসির বিদায়ে আবেগ, স্মৃতি আর অশ্রুতে সিক্ত হয়েছে বিশ্ব ফুটবল, ঠিক সেই দিনেই রোনালদো এই অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি নাটকীয়তা সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পাকিস্তানের জয়
এক মেগা তারকার বিদায়বেলায় যখন বিষাদের সুর, অন্য মেগা তারকার কণ্ঠে তখন রাগ, অভিমান আর হিসাব-নিকাশের কড়া সুর। বিশ্ব ফুটবলের দুই মহারথীর শেষ অধ্যায় যেন লেখা হচ্ছে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রনাট্যে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন