রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ পি.এম
বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী শিবু রায় আর আমাদের মাঝে নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে, সকাল সাড়ে ছয়টায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি হাসপাতালে তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে পরলোকগমন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনগুলিতে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের মনে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন এই গুণী শিল্পী।
দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। তার সৃষ্টিশীলতা এবং সুরের মূর্ছনা শ্রোতাদের হৃদয়ে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এই প্রবীণ শিল্পীর মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সতীর্থ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকস্তব্দ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় গোসলরত নারীদের ছবি গোপনে ফোনে ধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলতে থাকা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে কাটখাল গ্রামের একটি রাস্তার পাশে পুকুরে কয়েকজন নারী গোসল করছিলেন। ওই সময় স্থানীয় দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা গোসলরত নারীদের ছবি গোপনে ফোনে ধারণ করেছেন।
এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ, রোববার দুপুরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এই সংঘর্ষে নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। গুরুতর আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, "গোসলরত নারীদের গোপন ছবি ফোনে ধারণের অভিযোগ কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।" তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হাইকোর্ট আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে বাস মালিক সমিতি বা পরিবহন শ্রমিকদের কোনো সংগঠনের ডাকা হরতাল বা ধর্মঘটকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
এছাড়া, আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হরতাল-ধর্মঘট ডাকার ক্ষেত্রে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কর্মসূচির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার এবং বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন।
আদালতে রিটকারী হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মোহাম্মদ আহসান হাবীব। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পক্ষে অ্যাডভোকেট আসিবুল হক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. রাফিউল ইসলাম শুনানি করেন।
যেভাবে রিটের সূত্রপাত
২০১১ সালের আগস্ট মাসে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের ফলে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এই ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত বাসচালককে সাজা প্রদান করেন।
সাজার পর বাস মালিকদের পক্ষ থেকে পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল ডাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করে। রুলে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে পরিবহন ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট ও হরতাল প্রত্যাহার এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের ওই নির্দেশের পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার আদালত রুলটি অ্যাবসোলিউট (চূড়ান্তভাবে গ্রহণ) করে রায় দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের রায় ও আদেশ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বাধ্যতামূলক। আদালতের কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই রায়ের প্রতিবাদে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ এবং সংবিধানবিরোধী।
আদালত স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে (বিআরটিসি) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আরও বলা হয়, আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যদি কোনো বাস মালিক সমিতি বা পরিবহন শ্রমিক সংগঠন হরতাল-ধর্মঘট ডাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের যে কোনো রায় ও নির্দেশনা মানতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ বাধ্য। কিন্তু দুর্ঘটনার ঘটনায় চালকের সাজাকে কেন্দ্র করে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন, যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
এই রিটের আবেদনকারী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম। রিটে বিবাদী করা হয় সেতু বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান, ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি এবং সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিসহ মোট ১৭ জনকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের আকাশে রবিউস সানির চাঁদ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেখা গেছে। এর ফলে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উদযাপিত হবে। এই উপলক্ষে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওইদিন এক দিনের ছুটি থাকবে।
পরবর্তী দিন বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম আবার শুরু হবে। এরপর ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। যদি ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ ঐচ্ছিক ছুটি নেন, তাহলে তিনি টানা চার দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন।
তবে এদিন সরকারি কোনো ছুটি নেই। ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায়ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে কোনো ছুটি উল্লেখ করা হয়নি। এই দিনে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরগুলো যথারীতি খোলা থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বার্ষিক ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পরের দিন বৃহস্পতিবার নিয়মিত কার্যক্রম চলবে।
একইসঙ্গে মধুপূর্ণিমা ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পড়েছে। নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ওইদিন আলাদা ছুটি নেই।
উল্লেখ্য, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আওতার বাইরে থাকবে। কারণ, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। ফলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এ উপলক্ষে ছুটি থাকে না। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখে, আবার অন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত একটি ঘটনার মধ্যে মো. আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ সাবেক ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমও গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নাই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি উত্তর পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার সন্তান।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন আনোয়ার মেম্বার। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর থেকে আনোয়ার প্রায় আড়াই বছর গ্রামছাড়া ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে রাতে বাড়িতে আসতেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে মাঝে মাঝে রাতে বাড়িতে আসতেন। গত রাতে বাড়িতে আসার খবর পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ