ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি দ্রুত পরিশোধে ইসলামের কঠোর নির্দেশ


শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি দ্রুত পরিশোধে ইসলামের কঠোর নির্দেশ

ইসলামে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। একজন শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধ করা শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও। কোরআন ও হাদিসে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করো। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।' — (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।' — (সুরা বালাদ, আয়াত: ৪)

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এছাড়া একজন আদর্শ কর্মীর গুণাবলি সম্পর্কে কোরআনে এসেছে, 'সর্বোত্তম কর্মী সে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।' — (সুরা কাসাস, আয়াত: ২৬)

ইসলামের ইতিহাসে সব নবী-রাসুলই নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। যেমন, হজরত আদম (আ.) কৃষিকাজ করেছেন, হজরত নুহ (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করেছেন, হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে লোহার বর্ম তৈরি করতেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও শৈশবে ছাগল চরিয়েছেন এবং পরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছেন।

শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত নির্দেশ হলো, 'শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।' — (সুনানে ইবনে মাজাহ)

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, 'তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। তোমরা যা খাও, তাদেরও তা খাওয়াও এবং যা পরো, তাদেরও তা পরাও।'

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ইসলামে শ্রমিকের ওপর সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মালিককে নিজেও সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মজুরি আটকে রাখা বা কম দেওয়া সম্পর্কে হাদিসে কড়া সতর্কবার্তা এসেছে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'কিয়ামতের দিন আমি তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে থাকব। তাদের একজন হলো, যে শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে তার পারিশ্রমিক দেয় না।' — (সহিহ বুখারি)

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক শোষণের নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের। এজন্য শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি সময়মতো পরিশোধ করা এবং তার সঙ্গে মানবিক আচরণ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের জার্সিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’: ফুটবলমঞ্চে দেশের গৌরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


বিশ্বকাপের জার্সিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’: ফুটবলমঞ্চে দেশের গৌরব

ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ এখনও খেলার সুযোগ পায়নি, তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে দেশের উপস্থিতি দিন দিন আরও দৃশ্যমান হচ্ছে। বাংলাদেশে জাতীয় দল মাঠে না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের পরিধানে থাকা জার্সিতে রয়েছে বাংলাদেশের শ্রম, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ছাপ।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপের ম্যাচের জার্সি এবং স্পোর্টস অ্যাপারেল, যা আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক ক্রীড়া বাজারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক সরাসরি এবং আরও কয়েক লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। গত দুই দশকে সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের স্পোর্টসওয়্যার, পারফরম্যান্স অ্যাপারেল এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পোশাক উৎপাদনেও বাংলাদেশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম বাসস’কে বলেছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন শুধুমাত্র সাধারণ পোশাক উৎপাদনেই নয়, বরং উচ্চমানের স্পোর্টস অ্যাপারেল তৈরিতেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্ষমতার স্বাক্ষর দিচ্ছে।

তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সির ব্যবহার দেশের শিল্প খাতের জন্য গর্বের বিষয়। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক অর্ডার দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করবে। সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তিনির্ভর এবং মূল্যসংযোজিত পোশাক উৎপাদন বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

জানা গেছে, বিশ্বখ্যাত অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা, হামেল, নিউ ব্যালেন্স, ম্যাক্রন এবং ক্যাপেলির মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রীড়া পোশাক উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল দল, পেশাদার ক্লাব এবং সমর্থকদের জন্য জার্সি, ট্রেনিং কিট, শর্টস, জ্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস অ্যাপারেল তৈরি হচ্ছে। তবে কোন দেশের জার্সি কোন কারখানায় তৈরি হচ্ছে, সে তথ্য সব সময় প্রকাশ করা হয় না।

তবে শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্রীড়া পোশাক বাংলাদেশের কারখানাতেই উৎপাদিত হয়। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং নিশ্চিত তথ্য সামনে এসেছে। নিউইয়র্কভিত্তিক ক্রীড়া ব্র্যান্ড ‘ক্যাপেলি স্পোর্টস’-এর জন্য ঢাকার তুরাগে অবস্থিত ‘গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড’ (জিএমএ) কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি খেলোয়াড়দের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের জন্য আরও প্রায় ১৩ হাজার ফ্যান জার্সিও রপ্তানি করেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশের স্পোর্টস অ্যাপারেল শিল্পের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তারা বলছেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের তৈরি জার্সির ব্যবহার শুধুমাত্র একটি রপ্তানি সাফল্য নয়, বরং এটি দেশের জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগও তৈরি করেছে। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক যখন বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করেন, তখন পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের উৎপাদন দক্ষতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প সক্ষমতার পরিচিতিও বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা জোরদার হয়।

বিশ্বব্যাপী স্পোর্টসওয়্যার শিল্পের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পেশাদার ক্রীড়ার বিস্তার এবং অ্যাথলেজার পোশাকের জনপ্রিয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো নিয়মিতভাবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এ পরিবর্তিত বাজারে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যয়, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারখানার কারণে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা আমেরিকা কিংবা অলিম্পিকের মতো বড় ক্রীড়া আসরের আগে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বিপুল পরিমাণ জার্সি ও ক্রীড়া পোশাকের অর্ডার দেয়। এসব অর্ডার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শ্রমিক, প্রকৌশলী, মার্চেন্ডাইজার, মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, প্যাকেজিং, পরিবহণ, বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতেও কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন চুক্তি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদিও বিশ্বকাপের জার্সি উৎপাদন থেকে অর্জিত আয়ের পৃথক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই, তবে উচ্চমূল্যের স্পোর্টস অ্যাপারেল সাধারণ পোশাকের তুলনায় বেশি মূল্য সংযোজন করে। ফলে এ খাতের সম্প্রসারণ দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব কারখানা, আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনশক্তির কারণে বাংলাদেশ এখন শুধুমাত্র সাধারণ পোশাক নয়, বরং উচ্চমূল্যের ক্রীড়া পোশাক উৎপাদনেও বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক স্পোর্টস অ্যাপারেল বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব জোরদার করা গেলে দেশের রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাসস’কে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সির ব্যবহার আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। এটি এক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করে।’

তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশকে এখন শুধু সাধারণ পোশাক উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং উচ্চমানের স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে। এর ফলে নতুন রপ্তানি আদেশ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়ছে।

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেছেন, স্পোর্টসওয়্যার খাতে অর্ডার বৃদ্ধি কর্মসংস্থান সম্প্রসারণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাসহ পুরো মূল্যশৃঙ্খলে এর সুফল পৌঁছে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও দক্ষতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারলে বৈশ্বিক স্পোর্টস অ্যাপারেল বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে তিনটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ফলে তিন যুবকের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন দুইজন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে, জলসুখা ইউনিয়নের নির্মাণাধীন আজমিরীগঞ্জ-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জলসুখা ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলেন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের চন্দনের ছেলে অন্তর (২৫), বানিয়াচং উপজেলার আমিরখানী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে তানভীর এবং একই গ্রামের নুরুল লস্করের ছেলে আবিদুল লস্কর (৩২)।

অপরদিকে আহত ব্যক্তিরা হলেন, চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে সাহিদুল ইসলাম বাচ্চু (৩৫) এবং গোছাপাড়া গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে মিজান মিয়া (২৭)। তারা উভয়েই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্যুরো বাংলাদেশ’ এর কর্মী। প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার পর তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, দ্রুত গতিতে চলতে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল যখন জলসুখা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছায়, তখন তারা পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে যায়। এর ফলে ঘটনাস্থলে একজন প্রাণ হারান। পরে গুরুতর আহত চারজনকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা অপর দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

এমন ঘটনার বিষয়ে বর্ণনা দিতে গিয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অতিবৃষ্টির ফলে সবজির দাম বেড়েছে, শসার কেজি ২০০ টাকা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


অতিবৃষ্টির ফলে সবজির দাম বেড়েছে, শসার কেজি ২০০ টাকা!

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে জনজীবনের উপর ব্যপক প্রভাব পড়েছে। জলাবদ্ধতা এবং সরবরাহের অভাবের কারণে এক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ডিম ও মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মুরগির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এবং আশপাশের কিছু বাজার পরিদর্শন করলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকা থেকে সবজি সময়মতো রাজধানীতে পৌঁছাতে পারেনি। ফলস্বরূপ, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে প্রায় সকল ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজিপ্রতি সবজির দামে ৪০-৬০ টাকার বেশি তারতম্য দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে, কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় দাম ১৮০ টাকারও ওপরে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, শসার দাম ২০০ টাকা, গাজরের দাম ১৬০ টাকা, পটলের দাম ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, পেঁপের দাম ৪০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, এবং কাঁকরোলের দাম ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক স্থান থেকে সবজি সঠিকভাবে আসছে না এবং আসা সবজির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

অন্য এক বিক্রেতা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, রাস্তাঘাটে জমা পানি থাকার কারণে পরিবহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক গাড়ি সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আশা করা হচ্ছে দাম কমে আসবে।

সবজির বাড়তি দামে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। বাজারে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে যে শসার দাম ১০০ টাকার আশপাশে ছিল, এখন সেটি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় সকল সবজির একই অবস্থা বিরাজ করছে। বৃষ্টির অজুহাতে প্রতি বার দাম বৃদ্ধি পায়, কিন্তু দাম কমতে অনেক সময় লাগে।

গৃহিণী নাসরিন আক্তার জানান, বর্তমানে বাজারে এসে হিসাব করে সবজি কেনার প্রয়োজন হচ্ছে। আগে চার-পাঁচ প্রকারের সবজি কিনতাম, কিন্তু এখন দুই-তিন প্রকারের সবজি নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রতি কেজি সোনালি মুরগির দাম ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়, ব্রয়লারের দাম ১৮০ টাকা, এবং লেয়ার মুরগির দাম ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ও চাহিদা স্বাভাবিক থাকায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

অতিরিক্ত ডিমের বাজারেও আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। এছাড়া প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, খামার থেকেই ডিম উচ্চ দামে আসছে। এই কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে, মাছের বাজারেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে মাছ পরিবহন ও সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় কয়েকটি প্রজাতির মাছের দাম বেড়ে গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উবারের ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ডেলিভারি হিরো অধিগ্রহণের জন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


উবারের ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ডেলিভারি হিরো অধিগ্রহণের জন্য

খাদ্য ডেলিভারির বৈশ্বিক বাজারে উবার একটি বড় এবং চমকপ্রদ ঘোষণা করেছে। জার্মানির ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরোকে তারা অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি হলে চীনের বাইরে এই দশকের মধ্যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক স্থাপন সম্ভব হবে।

রাইড শেয়ারিং ব্যবসার পাশাপাশি খাদ্য ডেলিভারি খাতে নিজেদের প্রভাব আরো শক্তিশালী করতে চায় উবার। সেই লক্ষ্যে, তাদের পক্ষ থেকে এই প্রকাশ্য প্রস্তাব ডেলিভারি হিরোকে সঙ্কল্পিত হয়েছে।

উবার জানাচ্ছে, ডেলিভারি হিরোর প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৪১ দশমিক ৫০ ইউরো নগদ পরিশোধের প্রস্তাব তারা দিয়েছে। এই মূল্যটি কোম্পানিটির সাম্প্রতিক গড় শেয়ারদামের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যদি এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, তাহলে উবার ইটসের কার্যক্রম ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হবে। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সেবা বিশ্বের ৯৯টি দেশে পৌঁছে যাবে। তাদের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে এই যৌথ প্ল্যাটফর্মে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ফলে চীনের বাইরে এটি হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, তবে এই অধিগ্রহণের জন্য পথ এখনো পুরোপুরি সুগম নয়। প্রস্তাব কার্যকর করার জন্য ডেলিভারি হিরোর অর্ধেকের বেশি শেয়ারহোল্ডারের সম্মতি প্রয়োজন হবে। একই সাথে, যেখানে উবার এবং ডেলিভারি হিরোর কার্যক্রম রয়েছে, সেসব দেশে প্রতিযোগিতা বানিজ্যিকভাবে কমে যাওয়ার উদ্বেগজনক নিদর্শন থাকায় বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি এই চুক্তিটি খতিয়ে দেখার দ্বার প্রস্তাবনা জাগ্রত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ডোরড্যাশসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ করে এসেছে। সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ার জন্যই উবার এই বৃহদাকার অধিগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যদিও ঘোষণার পর, প্রথম দিকে ডেলিভারি হিরোর শেয়ারের দাম বাড়লেও, পরে লেনদেন চলাকালীন কিছুটা কমে আসে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%