ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উবারের ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ডেলিভারি হিরো অধিগ্রহণের জন্য


উবারের ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ডেলিভারি হিরো অধিগ্রহণের জন্য

খাদ্য ডেলিভারির বৈশ্বিক বাজারে উবার একটি বড় এবং চমকপ্রদ ঘোষণা করেছে। জার্মানির ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরোকে তারা অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি হলে চীনের বাইরে এই দশকের মধ্যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক স্থাপন সম্ভব হবে।

রাইড শেয়ারিং ব্যবসার পাশাপাশি খাদ্য ডেলিভারি খাতে নিজেদের প্রভাব আরো শক্তিশালী করতে চায় উবার। সেই লক্ষ্যে, তাদের পক্ষ থেকে এই প্রকাশ্য প্রস্তাব ডেলিভারি হিরোকে সঙ্কল্পিত হয়েছে।

উবার জানাচ্ছে, ডেলিভারি হিরোর প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৪১ দশমিক ৫০ ইউরো নগদ পরিশোধের প্রস্তাব তারা দিয়েছে। এই মূল্যটি কোম্পানিটির সাম্প্রতিক গড় শেয়ারদামের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

যদি এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, তাহলে উবার ইটসের কার্যক্রম ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হবে। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সেবা বিশ্বের ৯৯টি দেশে পৌঁছে যাবে। তাদের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে এই যৌথ প্ল্যাটফর্মে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ফলে চীনের বাইরে এটি হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, তবে এই অধিগ্রহণের জন্য পথ এখনো পুরোপুরি সুগম নয়। প্রস্তাব কার্যকর করার জন্য ডেলিভারি হিরোর অর্ধেকের বেশি শেয়ারহোল্ডারের সম্মতি প্রয়োজন হবে। একই সাথে, যেখানে উবার এবং ডেলিভারি হিরোর কার্যক্রম রয়েছে, সেসব দেশে প্রতিযোগিতা বানিজ্যিকভাবে কমে যাওয়ার উদ্বেগজনক নিদর্শন থাকায় বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি এই চুক্তিটি খতিয়ে দেখার দ্বার প্রস্তাবনা জাগ্রত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ডোরড্যাশসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ করে এসেছে। সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ার জন্যই উবার এই বৃহদাকার অধিগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যদিও ঘোষণার পর, প্রথম দিকে ডেলিভারি হিরোর শেয়ারের দাম বাড়লেও, পরে লেনদেন চলাকালীন কিছুটা কমে আসে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতভর ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


রাতভর ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতভর এই হামলা হয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা (পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টা) থেকে এই বিমান হামলা শুরু হয়। এই হামলার লক্ষ্য হল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেওয়া।

হামলা শেষে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী সর্বশেষ বড় আকারের হামলা 'সফলভাবে' সম্পন্ন করেছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, 'ফাইটার জেট, ড্রোন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মার্কিন বাহিনী নির্ভূল অস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত হেনেছে, যা ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার মতো কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।'

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালানো হলো।' পাশাপাশি বলা হয়েছে, 'সর্বাধিনায়কের (ট্রাম্পের) নির্দেশে সেন্টকম ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও হ্রাস করছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহিতে বাধ্য করছে।'

বিবৃতির শেষে বলা হয়, 'মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা সদস্য সক্রিয় রয়েছে এবং তারা সতর্ক, মারাত্মক ও প্রস্তুত।'

মার্কিন বিমান হামলার সর্বশেষ ঘটনায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক এবং বন্দর-ই-লেঙ্গেহ: এই দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলোতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা আগের রাতগুলোর তুলনায় অবকাঠামোর আরও ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

এছাড়া বন্দর-ই-খামির শহরের কাছের দুটি সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাসের তাপেহ আল্লাহ আকবর মহল্লায় হামলা হয়েছে এবং শহরজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইরানশাহরের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে স্থাপনাটির ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে কিশ দ্বীপে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের গভর্নরের দফতরের বরাত দিয়ে ইরানের আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ সংস্থা জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় প্রদেশের পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ সেতুগুলি হলো: বন্দর আব্বাসকে খমেইর ও লরের সাথে সংযোগকারী গারিভেহ সেতু, লাতিদান গ্রামের কাছে একটি সেতু, কাহুরেস্তান-লর রুটের দুটি সেতু, বন্দর-ই-খামির, কেশার এবং বন্দর আব্বাসকে সংযোগকারী একটি আংশিকভাবে নির্মিত সেতু ও খমেইর জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু।

ফার্স জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করতে গভর্নরের দফতর জনগণকে এই পথগুলোতে এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তাক্ত ১৭ জুলাই: দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


রক্তাক্ত ১৭ জুলাই: দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ঘোষণা

রক্তাক্ত ১৭ জুলাই গোটা দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই দিনটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ করে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে সরকার ও তার পেটোয়া বাহিনী। একই সঙ্গে চলতে থাকে সরকারের হুমকি ও পুলিশি হামলা। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এদিন দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সহায়তা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই, রাজপথে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। আগের সব দাবি ও চাওয়াকে ছাপিয়ে ভাইয়ের মৃত্যুর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ছাত্রসমাজ। নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আসতে শুরু করে। কোটা বনাম মেধার দাবিকে ছাপিয়ে ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথ তখন প্রকম্পিত। সকালের দিকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে। হামলার পাল্টা হামলার পর শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে। এদিকে আন্দোলন দমাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনে কয়েক দফা সিন্ডিকেট বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রাত ছয়টার মধ্যে হল ত্যাগের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৭ জুলাই, সরকারি ছুটি থাকলেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বিক্ষোভ, মিছিল, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ চলতে থাকে। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার জন্য ঢাবির টিএসসিতে যাওয়ার সময় পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শহীদ মিনারসহ আশপাশের এলাকা তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব দায়ী বলে তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। এর পর কিছু সময়ের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। গ্রেফতার হন ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী। আন্দোলনকে অন্য খাতে নিতে একটি দল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মৌলিক মানবাধিকারের অধিকার।’ বাংলাদেশ সরকারের উচিত মানুষের এ অধিকার নিশ্চিত করা। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কোটাবিরোধীদের আন্দোলনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কারা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হবে বলে ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করা যাবে না। সারাদিন চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের পর ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ১৭ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করেন জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ। তিনি বলেন, ‘আজকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিতাড়ি করে হল রক্ষা করা হয়। শুরুটা হয়েছিল বেগম রকেয় এবং হাজী মুহাম্মদ মহসীন হলে এবং পরে ধীরে ধীরে সমস্ত হলেই ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বের করার পর ক্যাম্পাসটাকে খুবই হালকা মনে হয়েছিল, যেন মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম শহীদদের লাশ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে। কিন্তু সেই সুযোগ আমাদের দেয়া হয়নি। হাসপাতাল এবং মর্গে মর্গে ঘুরেছি। আমরা গায়েবানা জানাজার সিদ্ধান্ত নিই। গায়েবানা জানাজার যখন ঘোষণা দিই, তখন আমি ডান দিকে দেখছিলাম ক্যাম্পাসের দুপাশে ফোর্স জমায়েত করা হচ্ছে।’ রিফাত বলেন, ‘জানাজা শেষ করে আমরা যখন কফিন মিছিল নিয়ে টিএসসির মাঝ দিয়ে যাই, তখন একপাশ থেকে টিএসসির দিকে আক্রমণ করা হয় এবং অপর দিক থেকে ভিসি চত্বরের দিক থেকে আক্রমণ করা হয়। সেই মুহূর্তে একটা রাবার বুলেট আমার হাতে এসে পড়ে।’ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, ‘গায়েবানা জানাজা পড়ানোর জন্য আসার পথে নিউমার্কেট ও নিলক্ষেত মোড়ে আমাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেখানে আমাদের তিন-চারজন ভাই মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছিল, পরে রাবার বুলেট এরপর সরাসরি গুলিতে চলে গিয়েছিল তখনকার সময়ের ফ্যাসিস্ট পুলিশ লীগ।’ ঢাবির গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘যখন রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদকে মেরে ফেলা হলো, এই দৃশ্য দেখার পরে আমাদের পক্ষে আসলেই আর থেমে থাকা সম্ভব হয়নি। ঘটনা সেদিন থেকে দ্রুত বদলাতে শুরু করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুষ না পেয়ে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে রেলওয়ে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


ঘুষ না পেয়ে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে রেলওয়ে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, বেতনের টাকা থেকে মাসোহারা ও মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেয়ায় এক গেটকিপারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

অস্থায়ী গেটকিপার তৌফিকুর রহমান সামান্য বেতনে চাকরি করেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে। অভিযোগ রয়েছে, মাস শেষে বিভাগের অন্য দুই কর্মচারীর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসকে ২ হাজার ২৫০ টাকা করে মাসোহারা দিতে হতো। তবে সম্প্রতি তার কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়, যা বেতন বাড়ানোর অজুহাতে বলা হয়। বাড়তি টাকা দিতে আপত্তি জানালে বিপত্তি বাধে।

তৌফিকুর রহমান জানান, ভৈরব-আঠারবাড়ী রুটে দায়িত্ব পালনকারী অন্য অস্থায়ী গেটকিপারদেরও প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসকে টাকা দিতে হয়। একই বিভাগের হেড মিস্ত্রি উজ্জ্বল ও গেটকিপার সাদিকুরের মাধ্যমে এই মাসোহারার টাকা আদায় হয়ে থাকে।

তিনি আরও জানান, গত এপ্রিলে মাসিক চাঁদা বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং আপত্তি জানানোর পর বিনা কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এমনকি চাকরি ফিরে পেতে অনুরোধ করলে ওই প্রকৌশলী তার কাছে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী গেটকিপার তৌফিকুর রহমান গত ১১ মে তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।

এদিকে, জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর থেকে চাকরি হারানোর ভয় থাকা কারণে অন্যান্য গেটকিপাররা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে সত্য তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তৌফিকের স্ত্রী জেরীন।

অন্যদিকে, চাঁদা দাবি ও চাকরিচ্যুতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাস। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ সম্পর্কিত বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে, কিশোরগঞ্জের পাশাপাশি নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জুলহাস। এ কারণে তাকে কিশোরগঞ্জ অফিসে নিয়মিতভাবে পাওয়া যায় না।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেলপথে মোট ৬৯ জন গেটকিপার কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় ঘিওরের নৌকার হাট, বেচাকেনা ছাড়ায় ১০ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৫ পি.এম


বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় ঘিওরের নৌকার হাট, বেচাকেনা ছাড়ায় ১০ লাখ টাকা

বর্ষায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বেড়ে গেছে নৌকার চাহিদা। এই চাহিদা কেন্দ্র করে আবারও জমজমাট হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জের ঘিওরের প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে, এত পুরোনো ও জনপ্রিয় হাট হওয়া সত্ত্বেও এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

প্রতি বার্ষিক বর্ষা মৌসুমে এই হাটে নৌকার কদর বেড়ে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। ছোট ছোট যানবাহনে করে চাহিদামতো ডিঙ্গি নৌকা আনা হয়। সাথে থাকেন কাঠমিস্ত্রি ও ব্যবসায়ীরা। নৌকার আকার ও মান অনুযায়ী দাম ৩ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বর্তমানে ১০ হাত লম্বা ও আড়াই হাত প্রস্থের একটি নৌকার দাম ৭ হাজার টাকা। ১১ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকাও বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার টাকায়। ১৩ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের এক নৌকার দাম ৮ হাজার টাকা। আর ১৫ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায়।

ক্রেতারা উল্লেখ করছেন, বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে সাথে নৌকার দামও বেড়ে যায়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার আলতাফ হোসেন বলেন, "কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বাড়ির চারপাশে পানি জমে গেছে। নৌকা ছাড়া বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু নৌকার দাম অনেক বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছি।"

দৌলতপুরের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, "বাড়ির পাশেই নদী। গরু-ছাগলের দেখাশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের জন্য নৌকা প্রয়োজন। তাই বাধ্য হয়ে ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি নৌকা কিনেছি।"

শিবালয়ের জরিনা বেগমও একটি ডিঙ্গি নৌকা কিনেছেন। তবে তার অভিযোগ হলো, "প্রতি নৌকার দাম আগের তুলনায় ১ থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি।"

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, কাঠ, লোহাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়েছে। সাথে বেড়েছে কারিগরদের মজুরিও। ফলে নৌকার দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

দিন দিন ঘিওরের এই ঐতিহ্যবাহী হাটের পরিধি বাড়ছে। কিন্তু এখনো ড্রেনেজ, টিউবওয়েল ও টয়লেটের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব রয়েছে। হাটের ইজারাদার মো. মনির উদ্দিন বলেন, "প্রতি বছর ডিঙ্গি নৌকার সংখ্যা বাড়ছে। তবে জায়গার সংকটের কারণে এখন ঈদগাহ ও কলেজ মাঠেও হাট বসাতে হচ্ছে। তবে ড্রেনেজ, টিউবওয়েল ও টয়লেটের অভাব দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।"

প্রতি বুধবার ঘিওরের এই নৌকার হাটে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার নৌকা কেনাবেচা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%