১১:৫৮ এম
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে জনজীবনের উপর ব্যপক প্রভাব পড়েছে। জলাবদ্ধতা এবং সরবরাহের অভাবের কারণে এক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ডিম ও মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মুরগির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এবং আশপাশের কিছু বাজার পরিদর্শন করলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকা থেকে সবজি সময়মতো রাজধানীতে পৌঁছাতে পারেনি। ফলস্বরূপ, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে প্রায় সকল ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজিপ্রতি সবজির দামে ৪০-৬০ টাকার বেশি তারতম্য দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বর্তমানে, কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় দাম ১৮০ টাকারও ওপরে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, শসার দাম ২০০ টাকা, গাজরের দাম ১৬০ টাকা, পটলের দাম ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, পেঁপের দাম ৪০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, এবং কাঁকরোলের দাম ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক স্থান থেকে সবজি সঠিকভাবে আসছে না এবং আসা সবজির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
অন্য এক বিক্রেতা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, রাস্তাঘাটে জমা পানি থাকার কারণে পরিবহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক গাড়ি সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আশা করা হচ্ছে দাম কমে আসবে।
সবজির বাড়তি দামে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। বাজারে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে যে শসার দাম ১০০ টাকার আশপাশে ছিল, এখন সেটি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় সকল সবজির একই অবস্থা বিরাজ করছে। বৃষ্টির অজুহাতে প্রতি বার দাম বৃদ্ধি পায়, কিন্তু দাম কমতে অনেক সময় লাগে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
গৃহিণী নাসরিন আক্তার জানান, বর্তমানে বাজারে এসে হিসাব করে সবজি কেনার প্রয়োজন হচ্ছে। আগে চার-পাঁচ প্রকারের সবজি কিনতাম, কিন্তু এখন দুই-তিন প্রকারের সবজি নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রতি কেজি সোনালি মুরগির দাম ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়, ব্রয়লারের দাম ১৮০ টাকা, এবং লেয়ার মুরগির দাম ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ও চাহিদা স্বাভাবিক থাকায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
অতিরিক্ত ডিমের বাজারেও আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। এছাড়া প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, খামার থেকেই ডিম উচ্চ দামে আসছে। এই কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এদিকে, মাছের বাজারেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে মাছ পরিবহন ও সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় কয়েকটি প্রজাতির মাছের দাম বেড়ে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন