ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অসাধারণ কীর্তি


নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অসাধারণ কীর্তি

নোবেল পুরস্কারের ১২৫ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে একই ব্যক্তির একাধিক নোবেল জয়ের ঘটনা যেমন বিরল, তেমনি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়ার নজির আরও বিস্ময়কর। কিছু পরিবার বিশ্বমঞ্চে মেধার এই অনন্য বংশানুক্রমিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে ফরাসি বিজ্ঞানী ক্যুরি পরিবার বিজ্ঞান ও গবেষণায় যৌথ অবদানের মাধ্যমে নোবেল ইতিহাসে এমন এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছে, যা আজ পর্যন্ত আর কোনো পরিবার স্পর্শ করতে পারেনি।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল এবং আলোচিত পরিবার হলো ক্যুরি পরিবার। এই পরিবারটি যৌথ ও এককভাবে মোট ৫টি নোবেল পুরস্কার নিজেদের করে নিয়েছে।

মারি ক্যুরি ও পিয়েরে ক্যুরি (স্বামী-স্ত্রী)

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার ও গবেষণার জন্য মারি ক্যুরি এবং তার স্বামী পিয়েরে ক্যুরি যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মাধ্যমে মারি ক্যুরি ইতিহাসের প্রথম নারী নোবেল জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

মারি ক্যুরি (একক রেকর্ড)

স্বামী পিয়েরে ক্যুরির মৃত্যুর পর, ১৯১১ সালে মারি ক্যুরি রসায়নে এককভাবে তার দ্বিতীয় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞান শাখায় (পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন) নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ডের অধিকারী।

আইরিন ও ফ্রেডেরিক জোলিও-ক্যুরি (কন্যা ও জামাতা)

আরও পড়ুন: লালন সাঁইকে স্মরণে দেশজুড়ে আয়োজন, ঢাকায় বিশেষ অনুষ্ঠান ১৭ অক্টোবর

মারি ও পিয়েরে ক্যুরির জ্যেষ্ঠ কন্যা আইরিন জোলিও-ক্যুরিও বাবা-মায়ের পথ ধরে বিজ্ঞানের আঙিনায় আসেন। ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য আইরিন এবং তার স্বামী ফ্রেডেরিক জোলিও-ক্যুরি যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

এছাড়া মারি ক্যুরির ছোট মেয়ে ইভ ক্যুরির স্বামী হেনরি ল্যাবৌইসি ১৯৬৫ সালে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফেট নির্বাহী পরিচালক হিসেবে সংস্থাটির পক্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে ক্যুরি পরিবারের সাথে ৫টি নোবেল পুরস্কারের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।

দম্পতির নোবেল জয়

নোবেল ইতিহাসে অন্যান্য সফল দম্পতি ক্যুরি দম্পতি ও তাদের কন্যা-জামাতা ছাড়াও ইতিহাসে আরও বেশ কয়েকজন স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে নোবেল পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

আরও পড়ুন: কবি নূরুল হক পেলেন ‘সার্ক-ফোসওয়াল’ আজীবন সম্মাননা

গার্টি কোরি ও কার্ল কোরি: ১৯৪৭ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পান এই চিকিৎসাবিজ্ঞানী দম্পতি।

মে-ব্রেট মোজার ও এডভার্ড মোজার: ২০১৪ সালে মস্তিষ্কের পজিশনিং সিস্টেম বা ‘অভ্যন্তরীণ জিপিএস’ আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথ নোবেল পান নরওয়ের এই দম্পতি।

অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এস্থার দুফলো: ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির জন্য অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিৎ ব্যানার্জি ও তার স্ত্রী ফরাসি-মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলো।

সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ড

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


নোয়াখালীতে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯৫ পিস ইয়াবাসহ ১১টি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের সূর্যনারায়ণবহর এলাকায় সিরাজের বাড়ির টিনের ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম মো. নুরুল ইসলাম মিয়া, যিনি মিয়া ডাকাত নামেও পরিচিত। তার বয়স ৫৪ বছর এবং তিনি পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের সূর্যনারায়ণবহর এলাকার মৃত এলাহি বক্সের ছেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মোট ১১টি নিয়মিত মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, তিনি পাঁচটি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের সূর্যনারায়ণবহর এলাকায় সিরাজের বাড়ির টিনের ঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তার দেহ তল্লাশি করে ৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও জানান, গ্রেপ্তার নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রী হত্যার দায়ে সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


স্ত্রী হত্যার দায়ে সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ও সংগীত যাজক ক্যালেব ফ্লিনকে তার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছেন, স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

৪০ বছর বয়সী ক্যালেব ফ্লিনকে গত সপ্তাহে তার স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) তাকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অ্যাশলি ফ্লিন ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী একজন স্কুলশিক্ষক ও ভলিবল প্রশিক্ষক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওহাইওর ডেটন এলাকার নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন তিনি। ঘটনার সময় ফ্লিন ও তাদের দুই মেয়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাশলি যখন বিছানায় ছিলেন এবং আত্মরক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না, তখন ফ্লিন তাকে গুলি করেন। এরপর তিনি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য নাটক সাজান, যাতে দাবি করেন যে বাড়িতে ডাকাত বা হামলাকারী ঢুকেছিল।

ফ্লিন পুলিশকে ফোন করে জানান, কেউ বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়েছে। তিনি তদন্তকারীদের বলেন, ঘটনার সময় তিনি বসার ঘরের সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং গুলির শব্দে ঘুম ভাঙার পর বিষয়টি জানতে পারেন।

এমনকি হত্যার এক দিন আগে এক ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে অ্যাশলির হাতে একটি মার্কিন পতাকা দিয়ে ‘আমেরিকা নিয়ে অদ্ভুত বিক্রির কথা’ বলেছিল বলেও দাবি করেছিলেন ফ্লিন।

তবে আদালতে ফ্লিনের প্রেমিকা অ্যালেইঘা বটনার ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি জানান, ফ্লিন তার স্ত্রীকে ঘৃণা করার কথা বলেছিলেন এবং তাকে হত্যার চিন্তাও করতেন।

প্রসিকিউটররা আদালতে ফ্লিন ও বটনারের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া এক লাখের বেশি বার্তার তথ্য উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে বটনারকে উদ্দেশ্য করে ফ্লিন তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি কিছু ভালোবাসার গানও জুরিদের শোনানো হয়।

মামলার শুনানিতে বিচারক জিনিন প্র্যাট বলেন, ফ্লিন সমাজের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেন। সাজা ঘোষণার আগে তিনি বলেন, প্রতারণা, কারসাজি ও নিষ্ঠুরতার যে স্তর এই ঘটনায় দেখা গেছে, তা বোঝা কঠিন। ফ্লিন নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যবহার করে অন্যদের জীবন নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করেছেন বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।

সাজা ঘোষণার সময় ফ্লিন কাঁদতে কাঁদতে নিজের পরিবার ও অ্যাশলির পরিবারের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে ভালোবাসতেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য লড়াই করে যাবেন।

ফ্লিন তার দুই মেয়েকেও ক্ষমা চান। তিনি জানান, মেয়েরাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

তবে আদালতে উপস্থিত না থাকা দুই মেয়ের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়। তাদের বয়স ছিল ৯ ও ১১ বছর, যখন তাদের মা নিহত হন।

মেয়ে আলিসার চিঠিতে বাবার উদ্দেশে বলা হয়, সে তাকে গভীরভাবে ভালোবাসে। তবে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সে জানায়, তিনি শুধু নিজেকেই ভালোবাসার মতো আচরণ করেছেন।

অন্য মেয়ে আভা লিখেছে, বাবার বিচারসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার দেখতে হচ্ছে। বাবাকে কষ্ট পেতে দেখে তার কষ্ট হলেও, মাকে হত্যা এবং পরকীয়ার সিদ্ধান্ত বাবাই নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে সে।

দুই মেয়েই তাদের বাবাকে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করার আহ্বান জানায়। তাদের দাদা-দাদি, মামা ও খালাসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসই তাদের এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করছে।

অ্যাশলি ফ্লিনের বোন কায়লা কেইট আদালতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ফ্লিনের এমন ভয়াবহ সহিংসতায় পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি জানার পর তারা এখনো সেই ধাক্কা ও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম। আপনার ওপর আস্থা রেখেছিলাম। সত্যি বলতে, আপনার জন্য আমরা নিজেদের জীবনও দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলাম।

মিয়ামি কাউন্টির প্রসিকিউটর পল ওয়াটকিনস আদালতে বলেন, ঘটনাটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত, যার ফলে একটি অপূরণীয় জীবন শেষ হয়েছে এবং পরিবারে স্থায়ী ধ্বংস নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্লিন এখন পর্যন্ত নিজের দায় স্বীকার করেননি এবং যে জীবন তিনি শেষ করেছেন, তার জন্য প্রকৃত অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি।

তবে সাজা ঘোষণার দিনও ফ্লিন নিজের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেননি এবং যতদিন সৃষ্টিকর্তা তাকে সুযোগ দেবেন, ততদিন নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গেজেটে ফিরলেন ইতিহাসে প্রথম হওয়া নীলফামারীর সোহেল রানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


গেজেটে ফিরলেন ইতিহাসে প্রথম হওয়া নীলফামারীর সোহেল রানা

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অধিকার করে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়া নীলফামারীর মো. সোহেল রানা অবশেষে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ৪৯তম বিসিএসের বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো সোহেল রানার জন্য, যিনি নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান।

এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে পিএসসির চূড়ান্ত ফলাফলে সাময়িকভাবে মনোনীত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাদের মধ্যে সোহেল রানা ছিলেন, যিনি ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।

গেজেটে তার নাম না থাকায় সোহেল রানা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এ নিয়ে তার পরিবারের মধ্যেও হতাশা সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেন এবং গৃহিণী শাহিদা বেগমের ছেলে। অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এবং সোনারায়-সংগলশী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৯২ অর্জন করেন।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২০ সালে সিজিপিএ ৩.৫৪ নিয়ে স্নাতক এবং ২০২১ সালে সিজিপিএ ৩.৫৬ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

তবে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে তার নাম না থাকায় তিনি হতবাক হয়ে যান। তখন তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, কী কারণে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

এদিকে গেজেট প্রকাশের পর বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বাদ পড়া ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন ৫ অক্টোবর জারি করা হবে।

অবশেষে নির্ধারিত দিনে সোহেল রানাসহ বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় তার বিসিএস ক্যাডারে যোগদানের পথ পরিষ্কার হলো।

এ বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আমার মনের সর্বোচ্চ যে চাওয়া, সেটি পূর্ণ হয়েছে। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্ত ও শুল্ক সুরক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারীর মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


সীমান্ত ও শুল্ক সুরক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারীর মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্মকর্তার (CBP Officer) পাঁচ গুলিতে আহত হয়ে বেঁচে যাওয়া মারিমার মার্টিনেজ এবার দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, নতুন বিশ্লেষণে প্রমাণ হয়েছে যে, গুলি চালানোর সময় ওই কর্মকর্তা মার্টিনেজের গাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন না। ফলে তার জীবন হুমকির মুখে ছিল—এমন দাবিও সঠিক নয়।

মার্টিনেজ সোমবার (৫ অক্টোবর) মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। গত বছরের অক্টোবরে শিকাগোতে শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থার কর্মকর্তা চার্লস এক্সামের গুলিতে আহত হন তিনি। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলছিল।

মার্টিনেজ একটি মন্টেসরি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবরে গাড়িতে অবস্থানকালে তাকে পাঁচবার গুলি করেন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা চার্লস এক্সাম।

মামলায় অবহেলা, শারীরিক হামলা, মানসিক নির্যাতন, মিথ্যা গ্রেপ্তার, বেআইনি আটক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্টিনেজের আইনজীবী মাইকেল গ্যালাঘার বলেন, গুলি চালানোর ঘটনা কোনোভাবেই ন্যায্য ছিল না। এতে মার্টিনেজ প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সঙ্গে লড়াই করছেন।

আইনজীবীরা একই সঙ্গে এক্সামের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার জন্য বিচার বিভাগ ও স্থানীয় প্রসিকিউটরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্টিনেজের আরেক আইনজীবী ক্রিস্টোফার পারেন্টে জানান, তাদের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ঘটনাস্থলের তদন্ত ও আলাদা বিশ্লেষণ করেছে। এতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এক্সাম কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মার্টিনেজকে গুলি করেছিলেন এবং গুলি চালানোর সময় তার জীবন ঝুঁকিতে ছিল না।

আইনজীবীরা গুলির চিহ্ন, মার্টিনেজের শরীরের আঘাত এবং ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে একটি দৃশ্যপট তৈরি করেছেন।

তাদের দাবি, গুলি চালানোর সময় মার্টিনেজ এক্সামের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন না। বরং তিনি গাড়ি নিয়ে কর্মকর্তার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন।

আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একটি গুলি গাড়ির পেছনের যাত্রীর আসনের পাশ দিয়ে ঢোকে। এতে তাদের দাবি, গুলি চালানোর সময় এক্সাম গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন—এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই।

মাইকেল গ্যালাঘার বলেন, ‘তিনি কোনোভাবেই গাড়ির চলার পথে ছিলেন না। মার্টিনেজ আসলে তার কাছ থেকে দূরে যাচ্ছিলেন। বরং তিনিই মার্টিনেজের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।’

ঘটনার সময় এক্সামের শরীরে কোনো দেহক্যামেরা ছিল না। পরে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা অভিবাসন কর্মকর্তাদের দেহক্যামেরা পরার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

গুলির ঘটনার পর মার্টিনেজ ও ঘটনাস্থলে থাকা আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তবে পরে ফেডারেল প্রসিকিউটররা নিজেদের করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ঘটনার অতিরিক্ত ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর এবং এক্সাম অন্য কর্মকর্তাদের কাছে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে গর্ব করেছিলেন—এমন বার্তা প্রকাশের পর মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুনানিতে উপস্থাপিত নথিতে দেখা যায়, অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বার্তাগোষ্ঠীতে এক্সাম লিখেছিলেন, তিনি পাঁচটি গুলি চালিয়েছেন এবং ওই নারীর শরীরে সাতটি ছিদ্র হয়েছে।

অন্য একজনকে পাঠানো বার্তায় ঘটনার সংবাদ প্রতিবেদন পাঠিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘পাঁচ গুলি, সাত ছিদ্র।’

এ বিষয়ে আইনজীবী পারেন্টে এক্সামকে প্রশ্ন করলে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষক এবং নিজের গুলি চালানোর দক্ষতা নিয়ে গর্ব করেন।

মার্টিনেজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এখন তারা দেওয়ানি মামলাটি নিয়ে এগিয়ে যেতে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি শুধু আনন্দিত যে আরও একটি বছর দেখতে পারছি এবং পরিবারের সঙ্গে আছি। যা ঘটছে, সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে চাই। এসব স্বাভাবিক নয়। যা ঘটছে, সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী গুলি চালানো কর্মকর্তা চার্লস এক্সামকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি এখনো ছুটিতে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দিতে বিভাগটি বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। বিচার বিভাগ চলমান মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মার্টিনেজের মামলা অভিবাসন কর্মকর্তাদের গাড়িতে বেসামরিক ব্যক্তিরা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%