ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রী হত্যার দায়ে সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


স্ত্রী হত্যার দায়ে সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ও সংগীত যাজক ক্যালেব ফ্লিনকে তার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছেন, স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

৪০ বছর বয়সী ক্যালেব ফ্লিনকে গত সপ্তাহে তার স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) তাকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অ্যাশলি ফ্লিন ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী একজন স্কুলশিক্ষক ও ভলিবল প্রশিক্ষক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওহাইওর ডেটন এলাকার নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন তিনি। ঘটনার সময় ফ্লিন ও তাদের দুই মেয়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাশলি যখন বিছানায় ছিলেন এবং আত্মরক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না, তখন ফ্লিন তাকে গুলি করেন। এরপর তিনি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য নাটক সাজান, যাতে দাবি করেন যে বাড়িতে ডাকাত বা হামলাকারী ঢুকেছিল।

ফ্লিন পুলিশকে ফোন করে জানান, কেউ বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়েছে। তিনি তদন্তকারীদের বলেন, ঘটনার সময় তিনি বসার ঘরের সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং গুলির শব্দে ঘুম ভাঙার পর বিষয়টি জানতে পারেন।

এমনকি হত্যার এক দিন আগে এক ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে অ্যাশলির হাতে একটি মার্কিন পতাকা দিয়ে ‘আমেরিকা নিয়ে অদ্ভুত বিক্রির কথা’ বলেছিল বলেও দাবি করেছিলেন ফ্লিন।

তবে আদালতে ফ্লিনের প্রেমিকা অ্যালেইঘা বটনার ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি জানান, ফ্লিন তার স্ত্রীকে ঘৃণা করার কথা বলেছিলেন এবং তাকে হত্যার চিন্তাও করতেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

প্রসিকিউটররা আদালতে ফ্লিন ও বটনারের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া এক লাখের বেশি বার্তার তথ্য উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে বটনারকে উদ্দেশ্য করে ফ্লিন তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি কিছু ভালোবাসার গানও জুরিদের শোনানো হয়।

মামলার শুনানিতে বিচারক জিনিন প্র্যাট বলেন, ফ্লিন সমাজের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেন। সাজা ঘোষণার আগে তিনি বলেন, প্রতারণা, কারসাজি ও নিষ্ঠুরতার যে স্তর এই ঘটনায় দেখা গেছে, তা বোঝা কঠিন। ফ্লিন নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যবহার করে অন্যদের জীবন নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করেছেন বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।

সাজা ঘোষণার সময় ফ্লিন কাঁদতে কাঁদতে নিজের পরিবার ও অ্যাশলির পরিবারের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে ভালোবাসতেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য লড়াই করে যাবেন।

ফ্লিন তার দুই মেয়েকেও ক্ষমা চান। তিনি জানান, মেয়েরাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তবে আদালতে উপস্থিত না থাকা দুই মেয়ের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়। তাদের বয়স ছিল ৯ ও ১১ বছর, যখন তাদের মা নিহত হন।

মেয়ে আলিসার চিঠিতে বাবার উদ্দেশে বলা হয়, সে তাকে গভীরভাবে ভালোবাসে। তবে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সে জানায়, তিনি শুধু নিজেকেই ভালোবাসার মতো আচরণ করেছেন।

অন্য মেয়ে আভা লিখেছে, বাবার বিচারসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার দেখতে হচ্ছে। বাবাকে কষ্ট পেতে দেখে তার কষ্ট হলেও, মাকে হত্যা এবং পরকীয়ার সিদ্ধান্ত বাবাই নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে সে।

দুই মেয়েই তাদের বাবাকে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করার আহ্বান জানায়। তাদের দাদা-দাদি, মামা ও খালাসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসই তাদের এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

অ্যাশলি ফ্লিনের বোন কায়লা কেইট আদালতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ফ্লিনের এমন ভয়াবহ সহিংসতায় পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি জানার পর তারা এখনো সেই ধাক্কা ও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম। আপনার ওপর আস্থা রেখেছিলাম। সত্যি বলতে, আপনার জন্য আমরা নিজেদের জীবনও দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলাম।

মিয়ামি কাউন্টির প্রসিকিউটর পল ওয়াটকিনস আদালতে বলেন, ঘটনাটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত, যার ফলে একটি অপূরণীয় জীবন শেষ হয়েছে এবং পরিবারে স্থায়ী ধ্বংস নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্লিন এখন পর্যন্ত নিজের দায় স্বীকার করেননি এবং যে জীবন তিনি শেষ করেছেন, তার জন্য প্রকৃত অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

তবে সাজা ঘোষণার দিনও ফ্লিন নিজের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেননি এবং যতদিন সৃষ্টিকর্তা তাকে সুযোগ দেবেন, ততদিন নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গেজেটে ফিরলেন ইতিহাসে প্রথম হওয়া নীলফামারীর সোহেল রানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


গেজেটে ফিরলেন ইতিহাসে প্রথম হওয়া নীলফামারীর সোহেল রানা

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অধিকার করে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়া নীলফামারীর মো. সোহেল রানা অবশেষে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ৪৯তম বিসিএসের বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো সোহেল রানার জন্য, যিনি নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান।

এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে পিএসসির চূড়ান্ত ফলাফলে সাময়িকভাবে মনোনীত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাদের মধ্যে সোহেল রানা ছিলেন, যিনি ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।

গেজেটে তার নাম না থাকায় সোহেল রানা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এ নিয়ে তার পরিবারের মধ্যেও হতাশা সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেন এবং গৃহিণী শাহিদা বেগমের ছেলে। অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এবং সোনারায়-সংগলশী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৯২ অর্জন করেন।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২০ সালে সিজিপিএ ৩.৫৪ নিয়ে স্নাতক এবং ২০২১ সালে সিজিপিএ ৩.৫৬ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

তবে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে তার নাম না থাকায় তিনি হতবাক হয়ে যান। তখন তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, কী কারণে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

এদিকে গেজেট প্রকাশের পর বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বাদ পড়া ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন ৫ অক্টোবর জারি করা হবে।

অবশেষে নির্ধারিত দিনে সোহেল রানাসহ বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় তার বিসিএস ক্যাডারে যোগদানের পথ পরিষ্কার হলো।

এ বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আমার মনের সর্বোচ্চ যে চাওয়া, সেটি পূর্ণ হয়েছে। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্ত ও শুল্ক সুরক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারীর মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


সীমান্ত ও শুল্ক সুরক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারীর মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্মকর্তার (CBP Officer) পাঁচ গুলিতে আহত হয়ে বেঁচে যাওয়া মারিমার মার্টিনেজ এবার দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, নতুন বিশ্লেষণে প্রমাণ হয়েছে যে, গুলি চালানোর সময় ওই কর্মকর্তা মার্টিনেজের গাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন না। ফলে তার জীবন হুমকির মুখে ছিল—এমন দাবিও সঠিক নয়।

মার্টিনেজ সোমবার (৫ অক্টোবর) মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। গত বছরের অক্টোবরে শিকাগোতে শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থার কর্মকর্তা চার্লস এক্সামের গুলিতে আহত হন তিনি। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলছিল।

মার্টিনেজ একটি মন্টেসরি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবরে গাড়িতে অবস্থানকালে তাকে পাঁচবার গুলি করেন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা চার্লস এক্সাম।

মামলায় অবহেলা, শারীরিক হামলা, মানসিক নির্যাতন, মিথ্যা গ্রেপ্তার, বেআইনি আটক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্টিনেজের আইনজীবী মাইকেল গ্যালাঘার বলেন, গুলি চালানোর ঘটনা কোনোভাবেই ন্যায্য ছিল না। এতে মার্টিনেজ প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সঙ্গে লড়াই করছেন।

আইনজীবীরা একই সঙ্গে এক্সামের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার জন্য বিচার বিভাগ ও স্থানীয় প্রসিকিউটরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্টিনেজের আরেক আইনজীবী ক্রিস্টোফার পারেন্টে জানান, তাদের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ঘটনাস্থলের তদন্ত ও আলাদা বিশ্লেষণ করেছে। এতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এক্সাম কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মার্টিনেজকে গুলি করেছিলেন এবং গুলি চালানোর সময় তার জীবন ঝুঁকিতে ছিল না।

আইনজীবীরা গুলির চিহ্ন, মার্টিনেজের শরীরের আঘাত এবং ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে একটি দৃশ্যপট তৈরি করেছেন।

তাদের দাবি, গুলি চালানোর সময় মার্টিনেজ এক্সামের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন না। বরং তিনি গাড়ি নিয়ে কর্মকর্তার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন।

আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একটি গুলি গাড়ির পেছনের যাত্রীর আসনের পাশ দিয়ে ঢোকে। এতে তাদের দাবি, গুলি চালানোর সময় এক্সাম গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন—এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই।

মাইকেল গ্যালাঘার বলেন, ‘তিনি কোনোভাবেই গাড়ির চলার পথে ছিলেন না। মার্টিনেজ আসলে তার কাছ থেকে দূরে যাচ্ছিলেন। বরং তিনিই মার্টিনেজের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।’

ঘটনার সময় এক্সামের শরীরে কোনো দেহক্যামেরা ছিল না। পরে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা অভিবাসন কর্মকর্তাদের দেহক্যামেরা পরার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

গুলির ঘটনার পর মার্টিনেজ ও ঘটনাস্থলে থাকা আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তবে পরে ফেডারেল প্রসিকিউটররা নিজেদের করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ঘটনার অতিরিক্ত ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর এবং এক্সাম অন্য কর্মকর্তাদের কাছে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে গর্ব করেছিলেন—এমন বার্তা প্রকাশের পর মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুনানিতে উপস্থাপিত নথিতে দেখা যায়, অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বার্তাগোষ্ঠীতে এক্সাম লিখেছিলেন, তিনি পাঁচটি গুলি চালিয়েছেন এবং ওই নারীর শরীরে সাতটি ছিদ্র হয়েছে।

অন্য একজনকে পাঠানো বার্তায় ঘটনার সংবাদ প্রতিবেদন পাঠিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘পাঁচ গুলি, সাত ছিদ্র।’

এ বিষয়ে আইনজীবী পারেন্টে এক্সামকে প্রশ্ন করলে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষক এবং নিজের গুলি চালানোর দক্ষতা নিয়ে গর্ব করেন।

মার্টিনেজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এখন তারা দেওয়ানি মামলাটি নিয়ে এগিয়ে যেতে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি শুধু আনন্দিত যে আরও একটি বছর দেখতে পারছি এবং পরিবারের সঙ্গে আছি। যা ঘটছে, সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে চাই। এসব স্বাভাবিক নয়। যা ঘটছে, সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী গুলি চালানো কর্মকর্তা চার্লস এক্সামকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি এখনো ছুটিতে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দিতে বিভাগটি বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। বিচার বিভাগ চলমান মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মার্টিনেজের মামলা অভিবাসন কর্মকর্তাদের গাড়িতে বেসামরিক ব্যক্তিরা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর পর ১৫০ জন শিশু তাকে স্বাগত জানায়। এরপর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে আসন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছেন।

আজকের আয়োজনের মধ্যে শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মারক উপহার প্রদান, স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা বলার কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন।

অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন এবং ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করবেন।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ভয়াবহ হাম ছড়াচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ভয়াবহ হাম ছড়াচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় হাম (মিজলস) পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজ্যটিতে হাম আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি হয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রায় ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতির মাধ্যমে গত তিন দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব এখন পেনসিলভানিয়ায় ঘটছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পেনসিলানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রাজ্যটিতে মোট এক হাজার ৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এই আক্রান্তদের মধ্যে ১৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু।

চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় হাম আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৯৯৭ জনে পৌঁছেছিল। সেখানে ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এপ্রিলের শেষের দিকে শুরু হওয়া পেনসিলভানিয়ার প্রাদুর্ভাব এখনও কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টারের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জন গোল্ডম্যান মনে করেন, এই পরিস্থিতি আরও তিন থেকে ছয় মাস ধরে চলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, টিকা নেওয়ার সংখ্যা বেড়েছে, তবে মহামারি থামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানুষ এখনও টিকা নিচ্ছেন না।

পেনসিলভানিয়ায় হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ১৮ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুদের মধ্যে পানিশূন্যতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে।

হার্শির পেন স্টেট হেলথ গলিসানো শিশু হাসপাতালের শিশু সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ইভান শিরেই জানান, হাম আক্রান্ত কিছু শিশুর যকৃতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রচণ্ড অসুস্থতা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও বমি হচ্ছে। অনেকেই দুধ বা খাবার খেয়ে তা ধরে রাখতে পারছে না।

কিছু শিশু মস্তিষ্কে প্রদাহের কারণে গুরুতর ও স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কিছু শিশু নিজের মাকেও চিনতে পারছে না, বিভ্রান্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়ছে। আবার কয়েকজনের শরীরে পরবর্তী সময়ে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণও দেখা দিয়েছে।

পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত হয়ে রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে মস্তিষ্কে গুরুতর প্রদাহে আক্রান্ত এক কিশোর, হাঁপানির ইতিহাস থাকা ৪০ বছর বয়সী এক নারী এবং দুই শিশু রয়েছে।

মৃত শিশুদের একজনের মা নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগে প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে নবজাতক শিশুটির মৃত্যু ঘটে।

পঞ্চম মৃত ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে ওই ব্যক্তি হাম প্রতিরোধের টিকা নেননি এবং সবচেয়ে বেশি হাম আক্রান্ত এলাকা ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টিতে বসবাস করতেন।

ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আমিশ জনগোষ্ঠীর বসবাস। ২০২৫ সালের হিসাবে সেখানে প্রায় ৪৪ হাজার আমিশ বাসিন্দা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের ধর্মে টিকার বিরোধিতা করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ঐতিহাসিকভাবে এই জনগণের টিকা নেওয়ার হার সাধারণ মানুষের তুলনায় কম।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে কিন্ডারগার্টেনে পড়া শিশুদের মধ্যে হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা নেওয়ার হার ছিল ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে কোনো জনগণের অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া প্রয়োজন।

জন গোল্ডম্যান বলেন, ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টি বিশেষ কোনো এলাকা নয়। যেকোনো কাউন্টিতে যদি টিকা না নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি থাকে, সেখানে একই ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো এলাকায় এখনো হাম ছড়ায়নি, তার অর্থ শুধু সেখানে এখনো হাম ভাইরাস পৌঁছায়নি।

এর আগে দক্ষিণ ক্যারোলিনার হাম প্রাদুর্ভাবকে প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব হিসেবে ধরা হয়েছিল। সেখানে ইউক্রেন থেকে কয়েক দশক ধরে আসা অভিবাসীদের একটি জনগণের সঙ্গে সংক্রমণের যোগসূত্র পাওয়া যায়।

সেখানে ব্যাপকভাবে টিকা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হাম চলাকালে দক্ষিণ ক্যারোলিনার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৮২ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ায় হাম প্রাদুর্ভাবের জবাবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮ হাজার ৮৪৩টি টিকা দেওয়া হয়েছে।

পেনসিলভানিয়ার সীমান্তবর্তী ওহাইও অঙ্গরাজ্যেও হাম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে ২১০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

ওহাইওর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গিয়গা, অ্যাশটাবুলা ও ওয়েন কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত মানুষ টিকা না নিলে পেনসিলভানিয়ার এই প্রাদুর্ভাব আরও কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%