রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৬ পি.এম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন হরিণটানা থানায় মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ও ৩৪ (পরস্পর যোগসাজশ) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেস ভবনে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে সেখান থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মেসে মিল না দিয়েও খাবার খাওয়া নিয়ে আজমুলের সঙ্গে কয়েকজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তি তাকে মারধর করে ছাদে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে আজমুলকে নির্যাতন ও চড়-থাপ্পড়ের পাশাপাশি তার মাথার চুল একপাশ দিয়ে কেটে দেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। পরে তিনি ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ গলির ওই মেসে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় আজমুলকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ফোন করে চুরির ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা চাওয়ার পরপরই ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, আজমুলকে কীভাবে মারধর করা হয়েছিল, মারধরের পর তাকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনোভাবে তিনি নিচে পড়ে গিয়েছিলেন—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগের বিরোধের বিষয়ে ওসি বলেন, মেসের মধ্যে তাদের আগে থেকেই ঝামেলা চলছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কর্ণাটকের রায়চুর জেলায় এক নারীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ পাথর দিয়ে হত্যা করার সন্দেহ প্রকাশ করেছে। অভিযুক্তরা নারীর নিথর দেহের ওপর তার দেড় বছরের মেয়েকে রেখে চলে যায়। শিশুটিকে পরে মায়ের দেহ আঁকড়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিন্ধানুর উপবিভাগের আরএইচ ক্যাম্প-৫ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম স্নেহা। ২৫ বছর বয়সী স্নেহা আরএইচ ক্যাম্প-৪ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার লাশ গ্রামের উপকণ্ঠের একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর পুলিশ তার স্বামী ও প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পুলিশের ধারণা, ভারী পাথর দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে স্নেহাকে। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তার দেড় বছরের কন্যাসন্তানটিকে রক্তাক্ত মরদেহের ওপর বসিয়ে রেখে চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠে স্নেহার দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। তখন শিশুটি তার নিথর মাকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, নারীর দেহে তখনও মৃদু শ্বাস বইছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর সিন্ধনুর গ্রামীণ থানা-পুলিশ বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন নিহত নারীর স্বামী অমিত এবং তার কথিত প্রেমিক শুভম।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে অমিতের সঙ্গে স্নেহার বিয়ে হয়। তবে বিগত চার মাস ধরে শুভম নামের এক যুবকের সঙ্গে তিনি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ এবং অপরাধী কে তা নিশ্চিত করতে আটক স্বামী ও কথিত প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের জন্য নিহত নারীর মরদেহ সিন্ধনুর তালুক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় দেশীয় অস্ত্রসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নড়াইল আদালত চত্বরের একটি আইনজীবীর চেম্বারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আদালত চত্বর, যা একটি সুরক্ষিত স্থান, সেখানে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের ঘটনাটি গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন- কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া চরকান্দিপাড়া গ্রামের এস্কেন্দার শেখ (৪৫), মো. আমিনুর শিকদার (৫৬), মো. হাফেজ শেখ (২৫), মো. তৈয়বুর রহমান (৫৫), মো. সেকেন্দার আলী (৫৮), মো. হাসানুর রহমান (৫৫), মো. রিয়াজুল শিকদার (২৭), মো. আরিফুল শেখ (২২), মো. তারেক শেখ (৩২), মো. জুলফিকার রহমান (৪০) এবং মো. শরিফুল মোল্যা (৪০)। তারা সকলেই কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চর কান্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে ওই ব্যক্তিরা একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য নড়াইল আদালতে গিয়েছিলেন। হাজিরা দেওয়ার পূর্বে তারা আদালত চত্বরের আইনজীবীর চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদা, চাপাতি ও দারসহ একাধিক ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আইনজীবীর চেম্বারে এবং আদালতের মতো বিচারালয় প্রাঙ্গণে এ ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসামিদের উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব বিরোধের কারণে বড় ধরনের সহিংসতার উদ্দেশ্যে তারা এসব অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সারোয়ার ১১ জনের আটক হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে তারা ঠিক কী মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন এবং অস্ত্রগুলোর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার আজিমপুর এলাকায় এক যুবক বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছেন। পরে তাকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে, দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের পার্কিং করা বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় লোকজন ওই যুবককে আটক করে। আটকের পর উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, আটক যুবক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে এই তথ্যটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন জানান, বাসে আগুন দিতে গিয়ে স্থানীয়রা ওই যুবককে ধরে উত্তম-মধ্যম দেয়, যার ফলে তার শরীরের কয়েক জায়গায় গুরুতর ইনজুরি হয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে আসার পর জরুরিভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে দুপুরের দিকে আবারও থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে পার্কিং অবস্থায় থাকা একটি লোকাল বাসে আগুন লেগেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১টার সময় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
রাতের বেলায় পার্কিং করা বাসের চালক বা হেলপার কেউ একজন ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে আগুন লাগার সময় ওই বাসের মধ্যে চালক বা হেলপার উপস্থিত ছিলেন না, যা রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। গোয়ালন্দ থানার পুলিশ এই বিষয়টি তদন্ত করছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ১টার দিকে দৌলতদিয়া থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে চলাচলকারী ‘মা ক্লাসিক পরিবহনের’ বাসটি হঠাৎ করেই আগুনে জ্বলতে শুরু করে। এ সময় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কিন্তু তখন পর্যন্ত বাসটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে গেছে। দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালে অন্যান্য বাসের মধ্যে পুড়ে যাওয়া বাসটি কিছুটা দূরে পার্ক করা ছিল।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘বাসটির আসন এবং ভেতরের ডেকোরেশন সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। এটি বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়েছে, নাকি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ