ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজে নৌ জোট গঠনের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের, ইউরোপের অনীহা


হরমুজে নৌ জোট গঠনের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের, ইউরোপের অনীহা

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে উত্তপ্ত ও সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে একটি আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলি, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কিছু দেশ, এই উদ্যোগে এগিয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এর আগে, টেকসই যুদ্ধবিরতি হলে এমন একটি মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মতি জানিয়েছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করলেও তারা এখনও এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে চাইছে না।

विश্লেষকদের মতে, নৌ জোট গঠনের উদ্যোগ আটকে থাকার পেছনে ইউরোপীয় দেশগুলোর গভীর সতর্কতা কাজ করছে। তারা এমন একটি অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না, যা তারা শুরু করেনি এবং সমর্থনও করছেনা। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর স্পষ্ট সমর্থন না থাকা ইউরোপীয় দেশগুলোর অনীহা আরও বৃদ্ধি করেছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট এবং সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের সিনিয়র ফেলো এইচএ হেলিয়ার আল জাজিরাকে বলেন, ‘অন্যদের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের খুব বেশি আগ্রহ নেই। বিশেষ করে এর পেছনে যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর স্পষ্ট দাবি না থাকে।’

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের ধারণাটি প্রথম সামনে আনে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি চীনকেও এই উদ্যোগে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।

প্রাথমিকভাবে বেশিরভাগ দেশই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অথবা কোনো স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স তখনও অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খোলা রেখেছিল।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের প্রস্তাব নিয়ে প্রচার চালিয়ে যেতে থাকেন। একই সময়ে ট্রাম্পও সংঘাতে ওয়াশিংটনকে পর্যাপ্ত সহায়তা না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সমালোচনা করেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক একটি মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই মিশনের লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিশনটি হবে “সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও প্রতিরক্ষামূলক।”

এর পরের মাসে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা এই মিশনের অংশ হিসেবে ড্রোন, যুদ্ধবিমান এবং একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। মন্ত্রণালয়ের দাবি ছিল, কয়েক ডজন দেশ এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে মিশনটি শুরু হবে।

তবে, কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও উদ্যোগটি কার্যত আটকে আছে। যদিও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘সামুদ্রিক স্বাধীনতা এবং অবাধ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার’ বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সম্পূর্ণভাবে একমত’।

ইউরোপের একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, হরমুজ প্রণালিতে ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে একটি বহুজাতিক মিশনের পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার 30টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কারিগরি পর্যায়ে নতুন বৈঠক হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেন, স্ট্রিটিং ‘ভবিষ্যতের বহুজাতিক মিশনের পরিকল্পনা ও সমন্বয়’ নিয়ে আরও আলোচনার আশা করছেন।

তিনি বলেন, ‘মাঠের পরিস্থিতি এবং একটি টেকসই রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর কার্যক্রম শুরু করা নির্ভর করছে।’ তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাজ্য এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হেলিয়ার বলেন, হরমুজে নৌ জোট গঠনের উদ্যোগ বিলম্বিত হয়েছে, কারণ ‘রাজনীতি কখনোই কথাবার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নীতিগতভাবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে সমর্থন করতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো সক্রিয়ভাবে সমর্থন না করলে তারা এমন কোনো অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

তার মতে, আঞ্চলিক সরকারগুলো যেটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ মনে করে, এমন কোনো নিরাপত্তা কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষেও যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যেতে চায় না।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা অধ্যয়নের প্রভাষক আমজাদ রশিদ বলেন, ইউরোপের কোনো দেশ এতে যুক্ত হলে তাদের ভূমিকা সম্ভবত সীমিত, শর্তসাপেক্ষ এবং পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে আরও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করতে থাকা ইউরোপ এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘উত্তেজনা কমানো তথা স্থিতিশীলতা’ চায় বলে জানান রশিদ।

তিনি বলেন, ‘ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে। তারা এ বিষয়ে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেনি। ফলে ইউরোপীয় শক্তিগুলো এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে প্রস্তুত ছিল না এবং এখনো নেই, যে যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কাঠামো তৈরিতে তারা অংশ নেয়নি।’

হেলিয়ার মনে করেন, হরমুজে ইউরোপীয় অংশগ্রহণসহ একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক নৌ উপস্থিতি’ এখনও সম্ভব। তবে তিনি বিশ্বাস করেন না, এর চেয়ে ‘আরও শক্তিশালী কোনো জোট’ গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, ইউরোপের যেকোনো মিশন ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমিত থাকবে। এর মূল লক্ষ্য হবে জাহাজ চলাচলে আস্থা তৈরি করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া। এটি যেন বৃহত্তর কোনো নিরাপত্তা অভিযানে পরিণত না হয়, সেদিকেই গুরুত্ব থাকবে।’

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়, সেই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত অবসানের আলোচনায় অন্যতম বড় বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই জলপথ দিয়ে অবাধ ও বাধাহীন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, ইরান এই জলপথের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। দেশটি জাহাজগুলোকে তাদের অনুমোদিত নির্দিষ্ট রুট দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিতে চাইছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

গত বুধবার (৫ আগস্ট) ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য ওমানের সঙ্গে একটি নতুন প্রটোকল নিয়ে সমঝোতা “চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে” রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা দুই থেকে চার মাস কার্যকর থাকবে। নতুন নির্ধারিত জাহাজ চলাচলের রুটের বড় একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে এবং অন্য অংশ যাবে ওমানের জলসীমা দিয়ে। একই সঙ্গে বর্তমানে ব্যবহৃত অস্থায়ী রুটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর কখনো ফিরে আসবে কি না, তাতে তিনি সন্দিহান। ইরান বুঝতে পেরেছে যে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে। এটি একটি কৌশলগত সম্পদ। আমার মনে হয় না, তারা সহজে এর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষককে লাভবান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


‘ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষককে লাভবান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে’

সারাদেশে সকল ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য ন্যায্য দাম পেতে পারে, সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, এটি বলেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পাট ও পেঁয়াজের বাজার পরিদর্শন করার পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, কৃষক যেন কোনোভাবেই ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে প্রান্তিক কৃষকের স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মজুতদারদের সতর্ক করে আইনমন্ত্রী বলেন, মজুতদারের সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তাই ভেবে চিন্তে মজুত করবেন। বাজার পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী শৈলকুপার বিভিন্ন হাট এবং বাজার ঘুরে দেখেন। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলোর সমাধানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সাধারণ কৃষক ও চাষিরা যাতে কোনোক্রমে ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের কাজ করেন। এ সময় শৈলকুপার বিএনপির নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণঅভ্যুত্থানে প্রথম বেইমানি করেছেন ডা. শফিকুর রহমান: বলেন রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


গণঅভ্যুত্থানে প্রথম বেইমানি করেছেন ডা. শফিকুর রহমান: বলেন রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে তিনি ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মুরারীদহ মিয়ার দালান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন।

পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় রাশেদ খান উল্লেখ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন।

এছাড়া, নাহিদ ইসলামের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের আগে নাহিদ ইসলাম সঠিক পথেই ছিলেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ফাঁদে পা দেয়ার পর থেকেই তিনি বিপথগামী হয়ে গেছেন।

এ সময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি এবং কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়াকাটায় একটি জালে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


কুয়াকাটায় একটি জালে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরার ট্রলারের জালে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। নিলামের মাধ্যমে এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, যা দীর্ঘদিন পর জেলেদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে।

জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে আলমগীর মাঝির জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ট্রলারটি মাছ নিয়ে মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছালে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়।

আড়ত সূত্রে জানা যায়, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ২ হাজার ৮৭৫ টাকা) দরে বিক্রি হয়ে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকার দরে প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা হারে বিক্রি হয়ে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর জানান, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পাওয়া গেছে। একবার জাল ফেলতেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘ সময়ের লোকসানের পর এই ধরনের মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি থাকায় জেলেরা ভালো মূল্য পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা মিলছে না। তবে এরই মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর এবং জেলেদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, একদিনের এই বেশি আহরণকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখা উচিত নয়; বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তবে আরও বেশি ইলিশ মিলতে পারে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অ বৈ ধ বসতি স্থাপনকারীদের নারকীয় তা ণ্ড ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অ বৈ ধ বসতি স্থাপনকারীদের নারকীয় তা ণ্ড ব

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গ্রামে গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘরে হামলার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগও চলছে।

অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হচ্ছে গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়। অন্যদিকে গাজায় লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন অনিশ্চয়তায় কাটছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যেই ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক গ্রামে তারা সহিংস হামলা চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শুক্রবার বেথলেহেমের আবু নুজাইম গ্রামে হামলা চালায় সেটেলাররা। ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং বেশ কয়েকজন হতাহত হন।

গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় ইসরাইলিরা অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা করে। গাড়ির জানালা ভেঙে মরিচের গুঁড়া স্প্রে করা হয়, ফলে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা পরে গ্রামের প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেয়।

পশ্চিম তীরের হেবরনে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা সহিংস আক্রমণ করে যাচ্ছে। মাসাফের ইয়াত্তায় তুবা এলাকায় ফিলিস্তিনি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে, এর ফলে তিনটি পরিবার, ১৪ শিশু সহ, বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

হামলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ পশুখাদ্য নষ্ট হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, বছরের প্রথম সাত মাসেই বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধে দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

শুক্রবার পশ্চিম তীরের নাবলুস ও বেথলেহেম গভর্নরেটজুড়ে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীরা। এতে দুইজন প্যারামেডিক সহ ছয়জন ফিলিস্তিনি আহত হন। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানায়, নাবলুসের পূর্বে অবস্থিত বেইত ফুরিক-এই তাদের কর্মীরা ইসরাইলি বাহিনীর হাতে মার খাওয়া এক ব্যক্তির চিকিৎসা প্রদান করেন।

গাজার আকাশে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোনের তৎপরতা কিছুটা কমলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অনিশ্চয়তা কাটেনি। তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে লাখো ফিলিস্তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অতিরিক্ত ভিড়, বিশুদ্ধ পানির সংকট, ইঁদুরের উপদ্রব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা বিভিন্ন রোগে ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ জানাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির পরও শত শত শিশু নিহত হয়েছে। প্রতিদিনই হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে সেনা পাঠাতে অনুমোদন দিয়েছে উগান্ডার সংসদ। মরক্কোও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ধাপ শেষ হলে গাজায় এই বাহিনী মোতায়েন হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%