বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ পি.এম
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা ও সুপারিশ প্রদানের জন্য সরকার ‘জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির (কমিটি ও অফিসিয়েটিং)।
প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১০ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি করে নয় সদস্যের একটি সচিবালয় গঠন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, তথ্য ও সম্প্রচারসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
কমিটির কার্যপরিধিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জাতীয় পুরস্কারের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা করা, বিভিন্ন জাতীয় পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা এবং এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে সুপারিশ করা। এছাড়া নতুন জাতীয় পুরস্কারের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সুপারিশ প্রদান এবং কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত কমিটি গঠনসংক্রান্ত পূর্বের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যথেষ্ট নয়, এমন মন্তব্য করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, যৌন হয়রানি সংক্রান্ত সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ইউজিসি ভবনে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমিটি গঠন করা হলেও ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না। নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিটি ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ, প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউজিসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি তদারকি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত ও উচ্চশিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ১৬ শতাংশই প্রদেয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
ইউজিসির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির প্রধান, ইউজিসি এবং ইউএন উইমেনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসলে সেখানে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। পরে আলীপুরের সিফাত ফিসে দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে এসব ইলিশ প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এফবি আব্দুল্লাহ নামের ট্রলারটির মাঝি বাদশা মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ জন জেলে এক দিন আগে গভীর সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যায়। এ সময় ট্রলারে প্রায় দেড় লাখ টাকার বাজার-সদাই নেয়া হয়। এক দিন সাগরে অবস্থানের পর পশ্চিমের বয়া সংলগ্ন এলাকায় জেলেদের জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে। পরে সিফাত ফিসে দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়। এসব মাছের মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
ট্রলারের মাঝি বাদশা মিয়া বাসসকে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে সাগরে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। হঠাৎ পশ্চিমের বয়া এলাকায় জাল ফেললে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছগুলো তুলনামূলক ছোট। প্রায় ৩০ লাখ টাকায় এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে।"
সিফাত ফিসের মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাসসকে বলেন, "হঠাৎ একটি ট্রলার ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে আসে। দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেচাকেনা হয়েছে। নিয়মিত এভাবে ইলিশ পাওয়া গেলে মৎস্য ব্যবসায়ীদের আগের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যবসায় গতি ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।"
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বাসসকে বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরে কিছুদিন ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টি হলে ইলিশের আহরণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ ইলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।"
আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন এ বন্দরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের বেচাকেনা হয়। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইলিশের এ প্রাচুর্য অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মৎস্য ব্যবসায়ে আরও গতি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ ব্যবসায়ীদের অটোমেটেড রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর প্রদানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এড়াতে এটি অত্যন্ত জরুরি।
আজ বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই মিলনায়তনে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট, ট্যাক্স, শুল্ক আইন এবং ব্যক্তিগত ই-রিটার্ন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও পরিমার্জন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এর অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ।
সূচনা বক্তব্যে তাসকীন আহমেদ উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ভ্যাট, আয়কর, কাস্টমস ডিউটি এবং ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার জন্য সংশোধিত নীতিমালা সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারের প্রবর্তিত অটোমেটেড রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের জ্ঞান অর্জন জরুরি, যাতে তারা কর প্রদানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এড়াতে পারে এবং জিডিপিতে করের অবদান বাড়াতে পারে।
নির্ঝর আহমেদ বলেন, রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তারা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থের জোগান দিয়ে থাকেন। সুতরাং, ব্যবসায়ের সব ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পরিবর্তিত নিয়মনীতি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের বাজেটে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন, ব্যাংক হিসাব খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়নসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব উদ্যোক্তার এখনও ভ্যাট নিবন্ধন নেই, তাদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
নির্ঝর আহমেদ জানান, ভ্যাট আইনের ৬৪ ধারায় প্রতি এক কর মেয়াদের পরিবর্তে তিন কর মেয়াদে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে।
তিনি বলেন, আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিলের ক্ষেত্রে দাবিকৃত করের ১০ শতাংশ জমা দেওয়ার বিধান সংশোধন করে আপিলাত ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ এবং হাইকোর্টের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় অনেকাংশে কমবে।
কর্মশালায় আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বিষয়ে দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ও ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির উপদেষ্টা স্নেহাশীষ বড়ুয়া এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তারা অংশগ্রহণকারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন।
কর্মশালায় ডিসিসিআইয়ের সদস্যভুক্ত শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় ডিসিসিআই পরিচালক এম মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রামের হালিশহর এক্সেস রোডে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের অসঙ্গতি এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকার কারণে উৎসব সুপার শপকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উৎসব সুপার মার্কেটের আউটলেটে অভিযান পরিচালনা করে সিডিএ’র স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। এই অভিযানে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনও নেতৃত্ব দেন।
সিডিএ কর্মকর্তাদের মতে, পরিদর্শনের সময় বাণিজ্যিক ভবনটির অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধা পাওয়া যায়নি। ভবন কর্তৃপক্ষ জানায় যে, তারা রাস্তার জায়গা ব্যবহার করে গাড়ি রাখছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেটিকে অনুমোদিত পার্কিং ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি।
অভিযানের সময় ভবন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে পারেনি। পরবর্তীতে ভবনটির বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে নকশার সঙ্গে অসঙ্গতি শনাক্ত করা হয়।
এসব অনিয়মের কারণে সিডিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮ লাখ টাকা জরিমানা করে এবং জরিমানা পরিশোধ না করলে দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।
এছাড়া, নকশার ব্যত্যয় থাকা অংশগুলো সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করতে আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হয়েছে।
সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন জানান, ভবন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা অনুমোদিত নকশা অনুসারে ব্যত্যয় অংশ সংশোধন এবং পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় একই এলাকায় নির্মাণাধীন আরেকটি ভবনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করে সিডিএ। সড়কের জন্য নির্ধারিত জায়গা না ছাড়ার অভিযোগে ভবনটির সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মালিককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এলাকার একটি রেস্টুরেন্টেও অনুমোদন ও ব্যবহারবিধি যাচাই করতে অভিযান চালায় সিডিএ। কর্মকর্তারা সেখানে যান রেস্টুরেন্টটিতে পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং অনুমোদিত নকশার সঙ্গে কার্যক্রমের মিল আছে কি না, তা দেখতে।
তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও রেস্টুরেন্টের মালিক বা দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় রেস্টুরেন্টটি সিলগালা করে দেয় সিডিএ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ