ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাকের ধাক্কায় দুই শিশুসহ ১০ জন নিহত


ট্রাকের ধাক্কায় দুই শিশুসহ ১০ জন নিহত

মেক্সিকোর জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের একটি পণ্যবাহী ট্রাক একাধিক যানবাহনের ওপর উঠে গেলে দুর্ঘটনার কারণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। রোববার এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

একই স্থানে দুটি ট্রাকের মধ্যে এর আগে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার পর সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা কাজ করছিলেন, এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোকে তৃতীয় ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে নায়ারিত সিভিল প্রোটেকশন এজেন্সি জানায়, "আরও বড় আকারের দুর্ঘটনা" ঘটে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জালিস্কো ও পশ্চিমাঞ্চলীয় নায়ারিত অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী হোস্তোতিপাকিয়ো শহরের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানাচ্ছে।

নায়ারিতের সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা জানায়, দুটি ট্রাকের মধ্যে আগের একটি দুর্ঘটনার পর সড়ককর্মীরা উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছিলেন। এ সময় তৃতীয় একটি পণ্যবাহী ট্রাক সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোর ওপর উঠে যায়। এতে "আরও বড় ধরণের একটি দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার ফলে দুটি পণ্যবাহী ট্রাক ও আরও তিনটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। এতে মেক্সিকোর ন্যাশনাল গার্ডের একটি টহল ট্রাকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।

জালিস্কোর সিভিল প্রোটেকশন সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ১০ জনের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ন্যাশনাল গার্ডের দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চার নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন।

মেক্সিকোতে প্রায়শই ট্রাক ও বাসের মধ্যে মারত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে পুনরুদ্ধার করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুনভাবে সাজানোর উদ্যাগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে চিড়িয়াখানার অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। এক সময় রাজশাহীর মানুষের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। রাজশাহী চিড়িয়াখানার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করবো।

আজ সকালে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন। এর আগে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে রাজশাহী চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে পশুপাখির খাঁচা, রাইড সহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

তিনি বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এই চিড়িয়াখানাকে আধুনিকায়ন করে সাফারি পার্কের আওতায় এনে নতুনভাবে গড়ে তুলতে রাসিক প্রশাসকের এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিদর্শনে এসেছি। আগামীতে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলো কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে, তাদের বর্তমান অবস্থা কী, এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি রাজশাহীতে আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করেছে, যাতে নিরাপদভাবে মাংস সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

রাজশাহী নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নগর উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে রাসিক প্রশাসকের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী, যিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে এ সাফল্য অর্জন করেছেন। রাজশাহীতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, খাল খনন, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমামদের সম্মানি প্রদানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারকে ‘জনগণের সরকার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সরকার স্বল্প সময়ে মানুষের কল্যাণে অনেক কাজ করছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

পরিদর্শনকালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমসহ ঊর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবি’তে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার ও বৃত্তি প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


রাবি’তে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার ও বৃত্তি প্রদান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি সেমিনার ও ‘রেনু স্মৃতি ট্রাস্ট বৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে মমতাজউদ্দিন ভবনে দর্শন বিভাগের আয়োজনে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাবি উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ। এই সেমিনারে রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট মনোরোগ ও মাদকাসক্তি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. রাকিবুজ্জামান চৌধুরী।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে দর্শন সমিতির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোতাছিম বিল্লাহও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর এস এম কামরুজ্জামান, বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের উপস্থিতি ছিল। এই অনুষ্ঠানে বিভাগের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের ৪ জন করে শিক্ষার্থীকে ‘রেনু স্মৃতি ট্রাস্ট বৃত্তি’ প্রদান করা হয়। উপাচার্য বৃত্তিপ্রাপ্তদের হাতে চেক প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটিতে সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষিকা ড. আফরোজা সুলতানা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডে ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু : গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


তীব্র তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডে ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু : গবেষণা

গবেষণা অনুযায়ী, গত মে ও জুন মাসে তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অন্তত ২ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ সোমবার প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর (মেট অফিস) এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তারা আবহাওয়ার তথ্য, জলবায়ু মডেল ও তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত মৃত্যুর হার সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণা বিশ্লেষণ করে এই অনুমান নির্ধারণ করেছেন।

যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চলে মে ও জুন মাসে নজিরবিহীন দুটি তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। ইংল্যান্ডে ওই সময় মাসিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে মে মাসে ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুনে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

গবেষণায় আবহাওয়া অফিসের জলবায়ু বিশ্লেষণ দলের বিজ্ঞান ব্যবস্থাপক মার্ক ম্যাকার্থির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের সব অঞ্চলের জন্যই এগুলো ছিল চরম মাত্রার তাপপ্রবাহ। বিশেষ করে বছরের শুরুর দিকে এবং এই সময়ে এমন তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়া ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ঘটনা।’

সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের মৃত্যুর সরকারি তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) আগামী সপ্তাহগুলোতে তাপজনিত মৃত্যুর আনুমানিক হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।

সোমবার প্রকাশিত গবেষণায় ব্যবহৃত মডেলগুলো চরম তাপে জড়িত ঝুঁকির মাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মানব সুস্থতার জন্য যে ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে, তা তুলে ধরতে সহায়তা করে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার (ইউকেএইচএসএ) সেন্টার ফর ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ সিকিউরিটি-এর প্রধান লিয়া বেরাং ফোর্ড।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২১ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ৫৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ১৮ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে তাপপ্রবাহের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ মানুষ।

গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও ঘনঘন হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব না থাকলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকত।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা সংস্থা ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি (সিসিসি) গত বছর সতর্ক করে বলেছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য এখনও ‘প্রস্তুত নয়’।

গত মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ‘২০৫০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের প্রায় ৯২ শতাংশ বাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সীমা নির্ধারণ এবং হাসপাতাল ও স্কুলের মতো সরকারি ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনে বিনিয়োগের জন্য সরকারকে সুপারিশ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতি দমনে শুধু তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়: ফারজানা শারমীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


দুর্নীতি দমনে শুধু তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়: ফারজানা শারমীন

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন মন্তব্য করেছেন যে, দুর্নীতি দমনে শুধু তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এর জন্য কার্যকর প্রতিরোধ সৃষ্টি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অপরিহার্য।

তিনি উল্লেখ করেছেন, দুর্নীতি হলো উন্নয়ন চলার পথে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা, যা জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করে, বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটায়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, কোনো দেশের জন্য রাতারাতি দুর্নীতিমুক্ত হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ দুর্নীতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করা, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, দারিদ্র্য হ্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে সরকার একটি টেকসই উন্নয়নভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজ করছে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলনা করে তিনি আরও বলেন, দুই দেশই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।

এ সময় তিনি বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক রূপান্তরের পর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই জন্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন, স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ফারজানা শারমীন বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনোই সংঘাত বা সহিংসতার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত নয়, বরং সংবিধানসম্মত ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তা হতে হবে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা করা, বিশেষ করে তরুণদের ন্যায়সংগত প্রত্যাশা পূরণ করা এবং জনসেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সরকারের সঙ্গে জনগণের নিবিড় সংযোগ এবং কার্যকর সেবা নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করছে।

এর মধ্যে একটি উদ্যোগ হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি, যা কেবল আর্থিক সহায়তার জন্য নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে বিবেচিত হচ্ছে।

ফারজানা শারমীন আরও জানান, পরিবারই একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তাই পরিবারকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রান্তিক পরিবারের নারী প্রধানদের প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই সহায়তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিতরণ করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৬৭ হাজারের বেশি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আগামীতে পর্যায়ক্রমে দেশের নিম্ন আয়ের প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

ফারজানা শারমীন বলেছেন, এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কেবল আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, বরং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে এবং উৎপাদনশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

তার মতে, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়কে সরকারের ব্যয় হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত।

বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি সম্পর্কে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দশকে দেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কারণে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এসবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার এক দিকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফারজানা শারমীন বলেছেন, শুধু ভাতা বা সহায়তা দিয়ে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান।

সরকার পরিচালনায় নতুন নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন মন্তব্য করেছেন যে, ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নতুন চিন্তা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকাই অভিজ্ঞতার একমাত্র মানদণ্ড নয়। দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই একটি কার্যকর সরকার পরিচালনা সম্ভব।

বর্তমান সরকার তথ্য-উপাত্তভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ফারজানা শারমীন জানান।

আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একই সঙ্গে বিমসটেকের মাধ্যমে বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণে কাজ করতে আগ্রহী।

ফারজানা শারমীন বলেছেন, প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অধিক কল্যাণকর এবং এ অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, শ্রীলঙ্কা সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশই অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ফারজানা শারমীন মন্তব্য করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বহু নারী রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় রেখেছেন। বাংলাদেশেও নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দীর্ঘ ঐতিহ্য বিদ্যমান। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বিদ্যমান। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ওষুধশিল্প, কৃষি, পর্যটন, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ফারজানা শারমীন আশা প্রকাশ করেছেন যে, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধি পেলে, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%