০৭:২২ পি.এম
সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করার কারণে আবারও পালানোর পরিকল্পনা করায় অসন্তুষ্ট হয়ে বাবা আবু বক্কর নিজেই ১৭ বছর বয়সী মেয়ে রায়কা আক্তার রিয়াকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার দায় স্বীকার করেছেন।
রবিবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি এ বিষয়টি জানিয়েছেন, বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামের নানাবাড়ির পুকুরঘাটে রিয়াকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই হত্যা মামলার বিষয়ে অভিযুক্ত বাবা আবু বক্করকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে রবিবার আদালতে হাজির করার পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আবু বক্কর জানান যে, প্রায় এক বছর আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামের এক যুবকের সঙ্গে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টির ঘটনা ঘটে। পরে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে এক মাসের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা রিয়াকে ফিরিয়ে আনেন। উল্লেখযোগ্য যে, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে পালিয়ে থাকার পরেও তাদের বিয়ের আইনত কার্যকর হয়নি।
পরবর্তীতে, মেয়েকে প্রেমিকের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে রিয়াকে তিন থেকে চার মাসের জন্য বিয়ানীবাজার উপজেলার ইনাম গ্রামে নানাবাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে থেকেও রিয়া কৌশলে শাহিনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করতে শুরু করে। সম্প্রতি তার প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর প্রস্তুতির খবর জানতে পেরে আবু বক্কর ক্ষুব্ধ হয়ে যান। এরপর শুক্রবার নানাবাড়ির পুকুরঘাটে দা দিয়ে কুপিয়ে মেয়েকে হত্যার ঘটনা ঘটান, বলে তার স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহত রিয়ার মা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন