০৭:২৫ পি.এম
সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। পানি নামার সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন চিহ্ন ভেসে উঠতে শুরু করেছে। মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে একজন বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা এবং কুশিয়ারাসহ সকল নদীর পানি কমছেন। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে এখনো প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন বলছে, কোথাও নদী ভাঙন বা বন্যার খবর পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে আশ্রয় কেন্দ্রসহ পাড়া প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়া মানুষ নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে, পানি কমলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। রাস্তা-ঘাট এবং ঘরবাড়িতে কাদা থাকায় বানভাসিরা অসহনীয় দুর্ভোগ পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। তার পরপরই লস্করপুর, লামাতাসি এবং পইল ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়, যার কারণে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। এখন বন্যার পানি কমছে এবং রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ভেসে উঠছে। বর্ষণ এবং নদীর পানির কারণে কৃষিজমিতে ধানের চারা এবং সবজির বিপুল ক্ষতি হয়েছে। মাছ ভেসে যাওয়ায় ঘেরের মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং সহায়তা প্রদান করা হবে। এরপরেও ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চলছে।
মৌলভীবাজারের প্রতিনিধি জানান, বন্যা কবলিত রাজনগর এবং কমলগঞ্জ উপজেলায় পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যায় আউস এবং আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে এবং পুকুর ও খামারের মাছগুলোও ভেসে গেছে। বিভিন্ন স্থানে গ্রামীণ রাস্তা ভেঙে গেছে। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজারে রাজনগর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের একজন বৃদ্ধ বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের শিব্বির আহমেদ জানিয়েছেন, নদীর তীর ভেঙে বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর ভাঙনের ফলে আরও কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
জেলা প্রশাসন সূত্র থেকে জানা গেছে, দুই উপজেলার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার এবং ১১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক খালিদ বিন ওয়ালিদ জানিয়েছেন, নদীর পানি ধীরগতিতে কমছে। বৃষ্টি না হলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
এদিকে, টানা চার দিন বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও, রানীগঞ্জ এবং আশারকান্দি ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী-রৌয়াইল গ্রামের পাকা সড়কটি বালিশ্রী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ভেঙে কুশিয়ারা নদীর পানিতে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকা জনিত কারণে এলাকার লোকজন নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন