বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩০ পি.এম
মেট্রোরেলের চলন্ত অবস্থায় পেছনের একটি দরজা হঠাৎ খুলে যাওয়ার কারণে উত্তরা-মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল প্রায় ২৬ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এই ঘটনা ঘটে।
বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমআরটি পুলিশের (অপারেশন) পরিদর্শক মো. মহসীন শেখ।
তিনি জানিয়েছেন, সকালে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি মেট্রোরেলের পেছনের দরজা চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ খুলে যায়। বিষয়টি জানার পর যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে উত্তরা-মতিঝিল রুটে মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত শেষে সকাল ৮টা ৩ মিনিটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
ফলে ওই রুটে প্রায় ২৬ মিনিট মেট্রোরেল সার্ভিস ব্যাহত হয়। বর্তমানে এমআরটি পুলিশ জানিয়েছে যে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কারো জীবনে ভালোবাসার মানুষটি পাশে থাকলেও, আবার কেউ নিজের মতো করেই জীবন অতিবাহিত করছেন। কেউ দুজন মিলে স্বপ্ন সাজাচ্ছেন, আবার কেউ একাই নিজের গল্প লিখে যাচ্ছেন। তবে সিঙ্গেল থাকা মানেই জীবন অসম্পূর্ণ—এমনটি বলা যায় না। বরং অনেক সময় সিঙ্গেল থাকা হতে পারে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার একটি সুযোগ।
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গেল ডে বা দিবস। যারা এখনও কোনো সম্পর্কের মধ্যে জড়াননি অথবা জীবনের কোনো এক পর্যায়ে সিঙ্গেল হয়ে গেছেন, তাদের জন্য এই দিনটি হতে পারে নিজের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর উপলক্ষ।
ভালোবাসার মানুষদের জন্য বছরের বিভিন্ন দিনে থাকে নানা আয়োজন। ভালোবাসা দিবস, জুটিদের উদযাপন কিংবা বিভিন্ন রোমান্টিক আয়োজনের ভিড়ে সিঙ্গেলদের অনেকেরই কখনো নিঃসঙ্গ লাগতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের হাসিমুখের ছবি দেখে মনে হতে পারে, নিজের জীবনটাই যেন অসম্পূর্ণ।
তবে জীবনের পূর্ণতা কেবল কারও সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। সিঙ্গেল থাকারও রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। নিজের পছন্দের জায়গায় একাই ঘুরে বেড়ানো, পছন্দের খাবার খাওয়া, গভীর রাত পর্যন্ত প্রিয় গান শোনা কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগও পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বড় কথা, এই সময়টুকু নিজের জন্য।
অনেকে বলেন, অন্য কাউকে ভালোবাসার আগে নিজেকে ভালোবাসতে জানতে হয়। আর নিজেকে ভালোবাসার সুন্দর সময়গুলোর একটি হতে পারে সিঙ্গেল থাকার সময়। নিজের ভুলগুলোকে ক্ষমা করা, নিজের যত্ন নেওয়া এবং নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়াও ভালোবাসারই অংশ।
সিঙ্গেল দিবস শুরু হলো যেভাবে
সিঙ্গেল দিবস ঘিরে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রচলন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটি পালনের কথা বলা হলেও, চীনে বহুল পরিচিত সিঙ্গেল দিবস পালিত হয় ১১ নভেম্বর।
১১ নভেম্বরের তারিখে চারটি এক থাকায় দিনটি সিঙ্গেলদের প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধারণা করা হয়, ১৯৯০-এর দশকে চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রচলন শুরু হয়। পরে তা দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সিঙ্গেল দিবসের সবচেয়ে সুন্দর বার্তাটি হতে পারে—সিঙ্গেল থাকা মানেই একাকী থাকা নয়।
তাহলে আজ নিজের জীবন নিয়ে মন খারাপ না করে নিজেকেই একটু সময় দেওয়া যেতে পারে। বহুদিন ধরে কেনার কথা ভাবছেন এমন কিছু কিনে ফেলুন। প্রিয় কোনো খাবারের দোকানে গিয়ে নিজের পছন্দের খাবার খান। কোথাও ঘুরে আসুন। কিংবা কিছুই না করে ঘরে বসে প্রিয় গান শুনে, বই পড়ে নিজের মতো করে সময় কাটিয়ে দিন।
কারণ সব ভালোবাসার গল্পে দুজন মানুষ লাগে না। কখনো কখনো একজন মানুষও নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটা লিখতে পারেন।
আজ সিঙ্গেল দিবস—আজকের দিনটা তাই অন্য কারও জন্য নয়, নিজের জন্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিয়ালের মাংস খাওয়ার ফলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, আবার জোঁকের তেল নাকি বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সারাতে সক্ষম। বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত এইসব লোকবিশ্বাসের পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিয়ালের মাংস বা তক্ষকের কথিত ঔষধি গুণের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং এসব গুজব ও লোকবিশ্বাসের কারণে বন্যপ্রাণী নিধন এবং পাচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শিয়ালের মাংসে কি সত্যিই রোগ সারে?
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিয়ালকে অশুভ ও ক্ষতিকর প্রাণী হিসেবে দেখা হয় এবং এর মাংসের ঔষধি গুণ নিয়ে নানা বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে, শিয়ালের মাংস খেলে হাঁপানি, বাতসহ দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন রোগ ভালো হয়ে যায়।
সম্প্রতি বরিশালে সাতটি শিয়াল পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শিয়ালের মাংস খাওয়ার এই লোকবিশ্বাসের কথা সামনে এসেছে।
তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান মন্তব্য করেন যে, শিয়ালের মাংসে কোনো ঔষধি গুণ নেই। এটি মূলত একটি ভ্রান্ত ধারণা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতও জানান, শিয়ালের মাংস রোগ সারাতে সক্ষম এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আধুনিক ফার্মাকোলজিতেও এ ধরনের তথ্য নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিয়ালকে ঘিরে প্রচলিত এসব ধারণা মূলত লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে উদ্ভূত।
তক্ষক নিয়ে কোটি টাকার গুজব
বাংলাদেশে তক্ষককে ঘিরে বহু কোটি টাকার গল্প ও প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। ক্যানসারসহ দুরারোগ্য ব্যাধি সারানো কিংবা যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করার মতো কথিত গুণের কথা বলে তক্ষকের দাম কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে।
এমনকি কথিত ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কিন্তু তক্ষকের এসব কথিত ঔষধি গুণ বা কোটি টাকার বৈধ বাজারমূল্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এসব গুজবের কারণে তক্ষক ধরার প্রবণতা বেড়েছে এবং পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান বলেন, তক্ষককে ঘিরে একটি প্রতারণার চক্র গড়ে উঠেছে। আগে মানুষ বেশি তক্ষক ধরলেও বর্তমানে এ প্রবণতা কিছুটা কমেছে।
জোঁকের তেল এবং লিচ থেরাপি এক নয়।
জোঁক দিয়ে চিকিৎসার ইতিহাস নতুন নয়। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতিতে জীবন্ত জোঁক ব্যবহার করে চিকিৎসার কথা জানা যায়। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থাতেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে মেডিকেল লিচ বা জোঁক ব্যবহারের চিকিৎসাপদ্ধতি রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, লিচ থেরাপি এবং বাজারে বিক্রি হওয়া তথাকথিত ‘জোঁকের তেল’ এক বিষয় নয়।
হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আয়ুর্বেদিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মনির আহাম্মেদ বলেন, নির্দিষ্ট প্রজাতির ‘মেডিকেটেড’ জোঁক ব্যবহার করে কিছু ক্ষেত্রে লিচ থেরাপি দেওয়া হয়। তবে বাজারে প্রচলিত জোঁকের তেল বাত, ব্যথা বা যৌনসমস্যা সারানোর দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতও বলেন, জোঁকের তেলের ঔষধি গুণের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
অর্থাৎ, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রিত লিচ থেরাপির ব্যবহার থাকলেও, সেটিকে জোঁকের তেল বিক্রির দাবির সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, অজানা উৎসের প্রাণীর মাংস বা দেহজাত উপাদান খাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে বন্যপ্রাণীর দেহে থাকা জীবাণু, পরজীবী বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
ফলে রোগ সারানোর আশায় এসব উপাদান ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
আইনেও নিষিদ্ধ শিয়াল ও তক্ষক শিকার
বাংলাদেশের ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা), ২০২৬’ আইনে খেঁকশিয়াল, পাতিশিয়াল ও তক্ষককে সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, গবেষণা বা বৈজ্ঞানিক প্রয়োজন ছাড়া কিংবা প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট না থাকলে এসব প্রাণী শিকার, উত্যক্ত, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না।
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, শিয়াল ও তক্ষক নিয়ে দেশে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। তবে তক্ষকের কথিত আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যেরও কোনো ভিত্তি নেই।
আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বন বিভাগ, পুলিশ, কাস্টমস, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী বা আলামত জব্দ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
সংরক্ষণে বাড়ছে উদ্বেগ
আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের রেড লিস্টে খেঁকশিয়ালকে ‘ভালনারেবল’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এবং তক্ষককে ‘লিস্ট কনসার্ন’ বা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
২০২৬ সালের মূল্যায়নেও তক্ষক ‘লিস্ট কনসার্ন’ অবস্থানে রয়েছে। তবে আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলমের মতে, বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো তক্ষককে বাণিজ্যিকভাবে প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, একটি প্রাণী আন্তর্জাতিকভাবে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে না থাকলেও স্থানীয়ভাবে অতিরিক্ত শিকার ও বাণিজ্যের কারণে তার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, শিয়ালের মাংস, তক্ষক বা জোঁকের তেলকে ঘিরে প্রচলিত অধিকাংশ রোগ নিরাময়ের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এসব লোকবিশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। একই সঙ্গে কুসংস্কারের কারণে বন্যপ্রাণী নিধন বন্ধ করাও জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে পরিমার্জিত পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাপাখানাগুলোতে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই মুদ্রণের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ছাপাখানা থেকে মাঠপর্যায়ে বই গ্রহণের প্রতিটি ধাপে মান রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তদারকির অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং দল সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে মানদণ্ড পূরণ না করায় বিভিন্ন প্রেসের প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল ও বিনষ্ট করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, কেবল মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নয়, বই গ্রহণের সময় মাঠপর্যায়ে কোনো অনিয়ম বা শৈথিল্য দেখা দিলে পাঠ্যবই গ্রহীতা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে। যেকোনো মূল্যে সরকার এ বছর নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত বই পৌঁছানোর জন্য বদ্ধপরিকর।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ গোলাম ফখরুল মাওলা বলেন, "এ বছর বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বইয়ের ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত পাঠ্যবই উপজেলায় পৌঁছাতে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি নিরলস কাজ করছে।"
চেয়ারম্যান আরও বলেন, "অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অসাধু চক্রের আঁতাতের সুযোগ থাকলেও এবার পাঠ্যবই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ওপর প্রত্যক্ষ মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিসিভ করার পরও বইয়ের মান নিয়ে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।"
স্তরভিত্তিক মুদ্রণের হালনাগাদ চিত্র
এনসিটিবির ২২ সেপ্টেম্বরের উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এবারের বইয়ের মুদ্রণ কাজ গত বছরের তুলনায় এক মাস আগেই শুরু হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রেসে এসব বইয়ের ছাপার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৩টি (৭৪.৪৫ শতাংশ) ছাপানো শেষ হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক স্তরে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬টি (৩৬.৯৬ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক স্তরে ২২ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯২টি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০টি (৭ শতাংশ) ছাপা শেষ হয়েছে।
এনসিটিবির বিতরণ শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, "ইতোমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে বাঞ্ছারামপুর ও সরাইলসহ দেশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় বই সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বই পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে। কেবল ইংরেজি ভার্সন ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিশেষ বইসমূহ জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।"
এনসিটিবি জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মোট ১১৩টির মধ্যে বর্তমানে সারাদেশে ৯১টি প্রেসে বই ছাপার কাজ চলছে। সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামলাতে বড় প্রেসগুলোতে জেনারেটর ব্যাকআপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। নতুন বইয়ের কাগজের জিএসএম ও প্রিন্টিং মান নিশ্চিত করতে পিডিআই (প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন) এজেন্সির পাশাপাশি ল্যাব টেস্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি ৯টি প্রেসের কাগজের নমুনা বিসিএসআইআরে ল্যাব টেস্ট করিয়ে মানসম্মত পাওয়া গেছে।
তিনস্তরে মনিটরিং ও গোয়েন্দা নজরদারি
এনসিটিবি জানায়, পাঠ্যবইয়ের মুদ্রণ প্রক্রিয়া ও সরবরাহ চেইনে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি যেন না হয়, সেজন্য এনসিটিবির একদল চৌকস কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ টিমের পাশাপাশি মাঠে কাজে লাগানো হয়েছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
সংস্থাটি আরও জানায়, এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় মিলে মোট ৫৩টি মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এর মধ্যে এনসিটিবির নিজস্ব ৩৩টি মনিটরিং টিম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭টি টিম সার্বক্ষণিক ছাপাখানাগুলোতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। এ ছাড়া এনসিটিবির সচিব ও সদস্যদের নেতৃত্বে ৫টি বিশেষ টিম সরাসরি মাঠে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। মনিটরিং কর্মকর্তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত সরাসরি প্রেসে অবস্থান করছেন।
মান রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বইয়ের কাগজের উজ্জ্বলতা (৮৫ শতাংশ) ও মুদ্রণ মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবির তদারকির পাশাপাশি নিয়োগকৃত পিডিআই এজেন্সির মাধ্যমে কেমিক্যাল ও গুণগত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। র্যান্ডম ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ৯টি প্রেসের কাগজের নমুনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে, যার সবকটি নমুনা মানসম্মত বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া মানদণ্ড পূরণ না করায় বিভিন্ন প্রেসের প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল ও বিনষ্ট করা হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহে কোনো ধরনের নিম্নমানের কাগজের বই বরদাশত করা হবে না। সরকার বাজারদর যাচাই করে এবার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে, যাতে কম মূল্যের অজুহাতে কেউ নিম্নমানের বই তৈরির সুযোগ না পায়। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, "শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে আমাদের রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রেস মালিকদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই সরবরাহ শেষ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে নিয়োজিত টিমগুলো প্রতিদিন প্রেসে অবস্থান করে কাজ তদারকি করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য— বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা যেন নতুন ক্লাসের পুরো সেট বই হাতে পায়।" সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সাইক্লিস্ট সবুর হোসেন অসুস্থতার কারণে পুরুষদের সাইক্লিংয়ের রোড রেসিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তিনি গত দুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ সেবন করার পরও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেস ফিরে পাননি সবুর।
রোড রেসিংয়ে নামার কথা ছিল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তার। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত এই ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে এই ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন আরেক সাইক্লিস্ট শাহাদাত হোসেন। কিন্তু তিনিও পুরো রেস শেষ করতে পারেননি। প্রথম ল্যাপ শেষ করার পরেই তিনি প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাসান জানান, জ্বরে শারীরিকভাবে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও ফিটনেস ফিরে পেতে চেষ্টা করেছিলেন সবুর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মতো ফিট হতে পারেননি তিনি। তাই বাধ্য হয়ে রোড রেসিং থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন এই সাইক্লিস্ট।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ