০৫:০১ পি.এম
অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ছবির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুগল ইমেজ সার্চ, পিন্টারেস্ট এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনগুলোতে এই ছবিগুলোর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এআই দ্বারা তৈরি ছবিগুলো এতটাই বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে যে, অনেক সময় আসল ছবি এবং কৃত্রিম ছবি আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এআই দ্বারা তৈরি নিম্নমানের বা অতিরিক্ত কনটেন্টের বিস্তার নিয়ে আলোচনার মধ্যে ‘এআই স্লপ’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অনলাইনে দেখা কোনো ছবির সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু লক্ষণ খেয়াল করলে সহজেই সন্দেহজনক ছবি চিহ্নিত করা সম্ভব।
এআই দিয়ে তৈরি ছবি চেনার ৬টি লক্ষণ জেনে নেওয়া যাক—
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
১. লেখায় অস্বাভাবিকতা
এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করার একটি সহজ পদ্ধতি হলো ছবির ভেতরে থাকা লেখা পরীক্ষা করা। পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, সাইনবোর্ড, টি-শার্ট অথবা বিজ্ঞাপনে লেখা যদি বিকৃত, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ বা অর্থহীন হয়, তাহলে ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক এআই মডেল লেখার ক্ষেত্রে উন্নতি করলেও ছবির ছোট ছোট অংশে ভুল থেকে যেতে পারে। তাই সন্দেহজনক ছবির লেখাগুলো জুম করে দেখা উচিত।
২. হাত ও শরীরের গঠনে অসংগতি
মানুষের হাত ও আঙুলের গঠন এআই-তৈরি ছবিতে প্রায়শই অস্বাভাবিক দেখা যায়। অতিরিক্ত আঙুল, জোড়া লেগে থাকা আঙুল, বিকৃত নখ অথবা অস্বাভাবিক গাঁট দেখা গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া কবজি, কনুই, ঘাড়, পা এবং শরীরের অনুপাতও লক্ষ্য করতে হবে। চোখ, নাক এবং দাঁতের গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকলে ছবিটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: ফেসবুকের ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন না নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করা ব্যবহারকারীরা
৩. অতিরিক্ত নিখুঁত চেহারা
এআই দ্বারা তৈরি ছবিতে অনেক সময় মানুষের ত্বক অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ, চোখ অতিরিক্ত উজ্জ্বল, চুল নিখুঁতভাবে সাজানো অথবা দাঁত অস্বাভাবিকভাবে সমান দেখা যায়। প্রথম দেখায় এসব ছবি আকর্ষণীয় মনে হলেও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে কৃত্রিমতার আভাস পাওয়া যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র নিখুঁত চেহারা দেখেই কোনো ছবিকে এআই-তৈরি বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
৪. অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত বস্তু ও পরিবেশ
খাবার, পণ্য অথবা বিজ্ঞাপনের ছবিতে এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ছবিতে খাবারের গঠন, রং, আলো এবং সাজসজ্জা কখনো কখনো অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখায়। বাস্তব দৃশ্যের স্বাভাবিক দাগ, অসম্পূর্ণতা অথবা আলো-ছায়ার বৈচিত্র্য অনুপস্থিত থাকলে ছবিটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত। তবে পেশাদার ফটোগ্রাফিতেও এ ধরনের নিখুঁত দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: টিকটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কনটেন্ট শনাক্তের উদ্যোগ জোরদার করছে
৫. আলো, ছায়া ও প্রতিফলনে অসংগতি
ছবির পেছনের দৃশ্য, ছায়া এবং প্রতিফলনেও এআইয়ের ভুল ধরা পড়তে পারে। যেমন, আলোর উৎসের সঙ্গে ছায়ার দিক না মেলা, আয়নায় প্রতিফলন অস্বাভাবিক হওয়া অথবা পটভূমির কোনো বস্তু বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া। ছবিতে অতিরিক্ত জটিল বা অস্বাভাবিক নকশা থাকলেও সেটি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
৬. সূক্ষ্ম বিবরণ অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া
এআই দ্বারা তৈরি বা সম্পাদিত ছবিতে কখনো কখনো সূক্ষ্ম বিবরণ অস্পষ্ট হয়ে যায়। ভবনের ইটের গাঁথুনি, গাছের পাতার স্বাভাবিক গঠন অথবা পোশাকের নকশা ভালোভাবে ফুটে না উঠলে ছবিটি পরীক্ষা করা উচিত। পুরোনো ছবি রঙিন করা বা ছবির মান উন্নত করার সময়ও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ফলে ছবি আঁকা বা কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে মনে হতে পারে।
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচারে বিপাকে পড়তে পারেন পুরোনো ফোনের ব্যবহারকারীরা
ছবি যাচাইয়ে কাজে আসতে পারে যেসব টুল
শুধু চোখের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত টুল ব্যবহার করেও ছবির উৎস এবং প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ‘সার্কেল টু সার্চ’ এবং গুগল লেন্সের ‘অ্যাবাউট দিস ইমেজ’ ফিচারের মাধ্যমে ছবিটি কোথায় প্রকাশিত হয়েছে বা এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য তথ্য খুঁজে দেখা যায়।
এছাড়া গুগলের জেমিনি অ্যাপে ছবি আপলোড করে সেটি বিশ্লেষণ করতে বলা যেতে পারে। গুগলের ‘SynthID’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কিছু ছবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাচাই-সুবিধাও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব টুলের ফলাফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
এআই ইমেজ ডিটেক্টর কি শতভাগ নির্ভরযোগ্য?
আরও পড়ুন: নিজের ছবি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে স্টিকার তৈরি করবেন যেভাবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দ্বারা তৈরি ছবি শনাক্ত করার কোনো পদ্ধতিই সব ক্ষেত্রে শতভাগ নির্ভুল নয়। কখনো এআই-তৈরি ছবিকে বাস্তব ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হতে পারে, আবার বাস্তব ছবিকেও ভুলভাবে কৃত্রিম বলে চিহ্নিত করা হতে পারে।
তাহলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিটেক্টরের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ছবির মূল উৎস, প্রকাশের সময়, প্রেক্ষাপট এবং দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা জরুরি। বিশেষ করে সংবাদ, ব্যক্তি অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি প্রকাশের আগে মূল উৎস যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন