০৮:০৫ পি.এম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা ভোলায় গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
আজ শুক্রবারের সকালে ভোলার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল, তার পাশাপাশি থেমে থেমে কখনো হালকা আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, এর তথ্য জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এদিকে, ভোলার মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলার নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলসমূহ জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া, দক্ষিণ সাকুচিয়া, হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
সেখানকার চরকলাতলী, ঢালচর এবং কাজীর চরেও জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুছা বাসস’কে জানিয়ে বলেন, জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন এবং পানিবন্দী মানুষকে রক্ষায় আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সমন্বয়ে কাজ করছি।
তিনি জানান, অসহায় সম্বলহীনদের তালিকা প্রণয়ণের কাজ শেষে তাদের সহযোগিতা করারও চেষ্টা চলছে।
এছাড়া জেলার চরফ্যাশনের ঢাল চর কুকরী-মুকরী, চর পাতিলা, কচ্ছপিয়া, ভোলা সদরের ইলিশা, রামদাসপুর, মাঝের চর, বরাইপুর, দৌলতখানের মদনপুর, হাজীপুর চর নেয়ামতপুরে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানির উচ্চতা এখন কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার অধিবাসী ও জনপ্রতিনিধিগণ।
পানির এই প্রবাহ এখন নিম্নমুখী হওয়ায় সেখানকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষেরা এখন শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বাসস’কে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
এর প্রভাবে গত কয়েকদিন ভোলায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সর্বমোট ৩৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে আজ শুক্রবার দুপুরের পর থেকে এই বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যহারে কমে এসেছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
এদিকে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বাসস’কে জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে গত কয়েকদিন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বর্তমানে জোয়ার ও বৃষ্টির পানি কমতে শুরু করেছে।
এতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে পানি আরও কমে আসবে বলা হচ্ছে।
ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্গত জনপদগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ওইসব এলাকার অসহায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য্য উপকরণ রয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষ যেন সাহায্য-সহযোগিতা থেকে বাদ না পড়েন, সেজন্য তার প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার সময় রিপোর্ট লেখার পর, জেলাজুড়ে থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়া এবং মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন