শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৮ পি.এম
বর্তমানে স্মার্টফোনের সাহায্যে কয়েকটি আঙুলের ছোঁয়াতেই ঘরে বসে ওষুধ কেনা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ নির্বাচন, দাম পরিশোধ এবং বাড়িতে বসেই তা পাওয়ার সুবিধা অনেকের জন্য সময় ও পরিশ্রম সাশ্রয় করেছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন বা বাইরে গিয়ে ওষুধ কেনা তাদের জন্য অনলাইনে ওষুধ কেনার সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ওষুধ সাধারণ পণ্যের মতো নয়। ভুল ওষুধ, ভুল মাত্রা, নকল ওষুধ কিংবা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা ওষুধ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অনলাইনে ওষুধ কেনার সময় শুধুমাত্র দাম বা ছাড় দেখলেই হবে না। ওষুধের নাম, মাত্রা, প্রস্তুতকারক, মেয়াদ, মোড়ক এবং সংরক্ষণের বিষয়গুলোও ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অননুমোদিত অনলাইন উৎস থেকে নিম্নমানের বা নকল চিকিৎসা পণ্য পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনলাইনে ব্যবসার বিস্তারের ফলে এসব পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়ে গেছে।
সুতরাং, অনলাইনে ওষুধ কেনার আগে অন্তত এই পাঁচটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করা উচিত।
ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে ওষুধের নাম ও মাত্রা মিলিয়ে নিন।
অনলাইনে ওষুধ কেনার সময় প্রথমে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রটি সামনে রাখুন। এরপর কেনাকাটার তালিকায় যোগ করা ওষুধের নাম, মাত্রা এবং পরিমাণ ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
বিশেষ করে ওষুধের প্রধান সক্রিয় উপাদান এবং তার মাত্রা সঠিক কি না, তা খেয়াল করা জরুরি। অনলাইন ওষুধালয় যদি কোনো বিকল্প ওষুধ দেখায়, তবে নিজের সিদ্ধান্তে সেটি নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক বা ঔষধবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিয়ে তবেই পরিবর্তন করা নিরাপদ।
ব্যবস্থাপত্র জমা দেওয়ার পর কেনাকাটার তালিকায় ওষুধের তথ্য পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যবস্থাপত্রনির্ভর ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের নাম বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। নিরাপদ অনলাইন ওষুধালয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ব্যবস্থাপত্র চাওয়া।
বেশি ছাড় দেখেই ওষুধ কিনবেন না
অনলাইনে কোনো ওষুধের দাম বাজারের তুলনায় অনেক কম দেখলে সহজেই আকর্ষণ তৈরি হয়। তবে অস্বাভাবিক কম দাম দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
কম দাম মানেই ওষুধ নকল—এমন নয়। বৈধ ওষুধালয়ও বিভিন্ন সময় ছাড় দিতে পারে। তবে খুব বেশি ছাড়ের সঙ্গে যদি বিক্রেতার পরিচয়, ওষুধের উৎস বা অনুমোদন নিয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে সেই ওষুধ না কেনাই ভালো।
কেনার আগে দেখে নিন—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অনলাইনে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে সন্দেহজনকভাবে কম দামকে সতর্ক হওয়ার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হওয়া ওষুধ নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ বা অননুমোদিত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
ওষুধ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, জানুন
ওষুধের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন ও মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ নয়, কীভাবে সেটি সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু ওষুধ তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল। যেমন ইনসুলিন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় না থাকলে ওষুধের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সুতরাং, তাপমাত্রা সংবেদনশীল ওষুধ কেনার আগে বিক্রেতা কীভাবে তা সংরক্ষণ করছে এবং বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখছে কি না, তা জেনে নেওয়া উচিত।
অননুমোদিত অনলাইন উৎস থেকে ওষুধ কিনলে সেটি কোথায় তৈরি হয়েছে বা কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
সংকেত থাকলে যাচাই করে নিন
অনেক ওষুধের মোড়কে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সংকেত বা রেখা সংকেত থাকতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যদি এমন কোনো যাচাই ব্যবস্থা দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি ব্যবহার করে ওষুধের তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।
এর মাধ্যমে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, দলীয় নম্বর, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদের তারিখ যাচাই করার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে মোড়কে সংকেত থাকলেই ওষুধ আসল—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। সংকেতের পাশাপাশি মোড়কের অন্যান্য তথ্যও মিলিয়ে দেখতে হবে।
ওষুধ হাতে পাওয়ার পর মোড়কের অবস্থা, বানান, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদের তারিখ, ওষুধের চেহারা এবং নিরাপত্তা ছাপও পরীক্ষা করা উচিত।
ওষুধ হাতে পাওয়ার পরও সতর্ক থাকুন
অনলাইনে ওষুধের বায়না দেওয়ার পর কাজ শেষ নয়। ওষুধ হাতে পাওয়ার পরও কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করতে হবে।
প্রথমে অনলাইনের চালান বা বিলটি সামনে রাখুন। এরপর ওষুধের মোড়কের সঙ্গে চালানের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
বিশেষ করে খেয়াল করুন—
শুধু বাইরের বাক্স দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। ভেতরের পাতায় থাকা তথ্যও ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। বাইরের ও ভেতরের মোড়কে দলীয় নম্বর ও মেয়াদের তারিখ মিলছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি।
নিরাপদ অনলাইন ওষুধালয় চিনবেন যেভাবে
শুধু সুন্দরভাবে তৈরি করা জালক্ষেত্র বা বড় ছাড় দেখে কোনো অনলাইন ওষুধালয়কে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
নিরাপদ অনলাইন ওষুধালয়ের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ব্যবস্থাপত্রনির্ভর ওষুধের জন্য ব্যবস্থাপত্র চাওয়া, বিক্রেতার বাস্তব ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য থাকা এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য ঔষধবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকা—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে কিছু সতর্কসংকেতও রয়েছে। যেমন—
যেসব অনলাইন ওষুধালয় নিজেদের বাস্তব ঠিকানা বা দূরভাষ নম্বর প্রকাশ করে না কিংবা ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ব্যবস্থাপত্রনির্ভর ওষুধ বিক্রি করে, সেসব উৎস থেকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মোড়ক অস্বাভাবিক হলে ওষুধ খাবেন না
ওষুধ হাতে পাওয়ার পর যদি মনে হয় মোড়কটি আগের পরিচিত মোড়কের মতো নয়, তাহলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
যেমন—
এ ধরনের কোনো বিষয় চোখে পড়লে ওষুধটি না খেয়ে চিকিৎসক বা ঔষধবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
নকল ও নিম্নমানের ওষুধ কেন বিপজ্জনক
নকল বা নিম্নমানের ওষুধের ক্ষতি শুধু ওষুধ কাজ না করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে প্রয়োজনীয় সক্রিয় উপাদান কম বা বেশি থাকতে পারে। আবার ভুল সক্রিয় উপাদান কিংবা ক্ষতিকর কোনো উপাদানও থাকতে পারে।
ফলে রোগের চিকিৎসা ঠিকভাবে নাও হতে পারে। ভুল উপাদান থাকলে শরীরে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা অন্য ওষুধের সঙ্গে ক্ষতিকর বিক্রিয়াও হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অন্তত প্রতি ১০টি ওষুধের মধ্যে একটি নিম্নমানের বা নকল হতে পারে বলে অনুমান করা হয়। এসব চিকিৎসা পণ্য অনলাইন ও অনানুষ্ঠানিক বাজারেও পাওয়া যেতে পারে।
অনলাইনে ওষুধ কেনার আগে মনে রাখুন ৫ কথা।
অনলাইনে ওষুধ কেনার সময় দ্রুত একবার দেখে নিন—
প্রথমত: ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে ওষুধের নাম, মূল উপাদান, মাত্রা ও পরিমাণ মিলছে কি না।
দ্বিতীয়ত: শুধু ছাড় দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করেছেন কি না।
তৃতীয়ত: তাপমাত্রা সংবেদনশীল ওষুধ হলে সংরক্ষণ ও পৌঁছে দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখা হয়েছে কি না।
চতুর্থত: মোড়কে থাকা যাচাই সংকেত থাকলে প্রস্তুতকারকের দেওয়া ব্যবস্থা ব্যবহার করে দলীয় নম্বর ও মেয়াদের তথ্য পরীক্ষা করেছেন কি না।
পঞ্চমত: ওষুধ হাতে পাওয়ার পর চালান, মোড়ক, ভেতরের পাতা, দলীয় নম্বর ও মেয়াদের তারিখ মিলিয়ে নিয়েছেন কি না।
অনলাইনে ওষুধ কেনা সময় ও পরিশ্রম বাঁচায়। তবে সামান্য অসতর্কতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই ওষুধ কেনার সময় শুধুমাত্র দাম বা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি না দেখে বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা এবং ওষুধের গুণমানকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ করে ব্যবস্থাপত্রনির্ভর ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্র্যান্ড বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। ওষুধ হাতে পাওয়ার পর মোড়ক, দলীয় নম্বর, মেয়াদের তারিখ এবং চালান মিলিয়ে নিতে হবে। কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে বা ওষুধটি নিয়ে সন্দেহ হলে সেটি খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা ঔষধবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন প্রদান করেছে। এই চুক্তির মূল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যার আওতায় বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো সৌদির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিক্রি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্তি হিসেবে কাজ করবে, যা ন্যাটোর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যও অগ্রসর হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, সৌদির কাছে এফ-৩৫ হস্তান্তর হলেও অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি অনুসারে, ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্ব (কপিউএমএ) বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রিয়াদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুযোগে এফ-৩৫ বিমানের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি চীনের হাতে চলে যেতে পারে, যা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি এই চুক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে চুক্তিটি অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া, ইসরায়েলও রিয়াদের কাছে এফ-৩৫ আসার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কেবল তেল আবিবই এই প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে। তবে ওয়াশিংটন সৌদির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চাপ বৃদ্ধি করছে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায়। সম্প্রতি সৌদি আরব ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমাতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে ত্রিদেশীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে।
এমন এক সময়ে ওয়াশিংটনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা এসেছে, যখন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মারিবের আকাশে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে স্থানীয় প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ওয়াশিংটন এই সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত জানালেও, সাম্প্রতিক এই অস্ত্র চুক্তি রিয়াদ-ওয়াশিংটন সামরিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান তাভেঙ্গা মুকুহলানি। তিনি ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন।
বর্তমানে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মুকুহলানি আইসিসি বোর্ডে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছেন। ইমরান খাজা দায়িত্ব ছাড়ার পর মুকুহলানি তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
মুকুহলানি আইসিসির ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স (এফঅ্যান্ডসিএ) ও নমিনেশনস কমিটির সদস্য। পাশাপাশি তিনি আইসিসির এইচআর অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের জন্য মুকুহলানির নিয়োগ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম জিম্বাবুইয়ান।
এটি আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া।
২৪ বছর পর আবারও আফ্রিকার মাটিতে ফিরতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই ওয়ানডে আসর। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং আঞ্চলিক ক্রিকেট সম্পর্কে তার জ্ঞান বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মুকুহলানিকে অভিনন্দন জানিয়ে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, "আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে তাভেঙ্গা মুকুহলানির নিয়োগে আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ক্রিকেট প্রশাসনে তার অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক ক্রিকেট সম্পর্কে জ্ঞান এবং ক্রিকেটের উন্নয়নে তার অঙ্গীকার আইসিসি বোর্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।"
তিনি আরও বলেন, "মুকুহলানি তার সহকর্মী পরিচালকদের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটকে শক্তিশালী করতে এবং খেলাটির বিকাশের আরও সুযোগ তৈরি করতে তার সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। তার নিয়োগ জিম্বাবুয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কারণ, তিনিই প্রথম জিম্বাবুইয়ান যিনি আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান হলেন।"
দায়িত্ব পেয়ে মুকুহলানি বলেন, "আইসিসি বোর্ডের সহকর্মী পরিচালকদের আমার ওপর আস্থায় আমি গভীরভাবে সম্মানিত এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞ।"
তিনি বলেন, "আমাদের চেয়ারম্যান জয় শাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। ক্রিকেটের বিকাশ, সদস্য দেশগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি এবং নতুন দর্শক ও বাজারে পৌঁছানোর বিষয়ে তার নেতৃত্ব, উদ্যম ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা আইসিসিতে স্পষ্ট লক্ষ্য তৈরি করেছে।"
ক্রিকেটের সামনে থাকা নতুন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মুকুহলানি। তার ভাষায়, "ক্রিকেট এখন রোমাঞ্চকর এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অলিম্পিক গেমসে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন এবং বিশ্বজুড়ে খেলাটির সম্প্রসারণের কারণে। বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের স্বার্থে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে চেয়ারম্যান জয় শাহ ও বোর্ডের অন্য পরিচালকদের সহযোগিতা করার অপেক্ষায় আছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানের ট্রাভার্সি শহরে মার্কিন বিমানবাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিভাগের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের টেক্সাস ইউনিটের বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটি ছিল এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন সিরিজের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টেক্সাস ইউনিট জানায়, বিমানটি মিশিগানের ট্রাভার্সি শহরে বিধ্বস্ত হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পূর্বে জরুরি ইজেকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। যদিও যুদ্ধবিমানটি শহরের জনবহুল এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হলো, তা খতিয়ে দেখতে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এয়ার ন্যাশনাল গার্ড মূলত মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ রিজার্ভ বিভাগ, যার প্রধান কাজ দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মিশিগান থেকে নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর গ্রে পিটার্স সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন পাওয়ার বিষয়টি তো দূরের কথা, অনেক সাংবাদিক কি আদৌ টাকা পান, সেই ব্যাপারে আমার বিশ্বাস নেই। এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আমাদের সাংবাদিকদের চুরির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থার থেকে আমরা মুক্তি চাই। এই অবস্থার থেকে আমরা বাঁচতে চাই, এমনটাই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে)-এর সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারী জেলা পরিষদ মিলনায়নে নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়ন (এনপিইউজে)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএফইউজে সভাপতি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের পরিবর্তন হলে, তখন আপনারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। যখন আপনার ভাগ্য পরিবর্তিত হবে, তখন রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় উপকার হবে, যা হলো গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব। গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যম একসঙ্গে চলে। আর যদি গণমাধ্যম অন্ধকারে চলে যায়, তাহলে এই দেশের গণতন্ত্রও অন্ধকারে চলে যাবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা শুনে রাখুন, যদি এ দেশে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রাখতে চান, তাহলে আপনাদের গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন, তাদের দিকে নজর দিতে হবে। কলমের কাঁচের টাকা দিয়ে গণমাধ্যমকে বাঁচানো সম্ভব নয়। আপনাদের যদি সত্যিই বাঁচাতে হয়, তাহলে প্রত্যেক উপজেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রতিনিধির জন্য এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা অন্তত তাদের সংসারের জন্য সচ্ছল থাকতে পারেন। সেই পরিমাণ টাকা তাদের গণমাধ্যম থেকে পেতে হবে। যদি না করেন, তাহলে যে মিডিয়াগুলো এসব করছে, তাদেরকে যে সাপোর্ট দেন, সে সাপোর্ট বন্ধ করে দিন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াসিন মোহাম্মদ সিথুন। সভাটি সঞ্চালনা করেন ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির নীলফামারী প্রতিনিধি আরফিনুল ইসলাম। জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা সভায় বক্তব্য রাখেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ