০৬:৫৩ পি.এম
হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া কমানোর দাবিতে কাফনের কাপড় পরে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন রংপুরের আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুর বিভাগীয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। এ সময় তারা হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে দ্রুত ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।
অনশনরত আলু চাষি আনিছুল ইসলাম বলেন, ‘সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এক কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৬ টাকা। হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয়সহ সেই খরচ দাঁড়ায় ২৫ থেকে ২৬ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকায়। আমরা চাষ করে লোকসান করছি, আর হিমাগার মালিকরা বসে থেকেই কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। সরকার দ্রুত হিমাগার ভাড়া কমিয়ে কৃষকদের বাঁচানোর উদ্যোগ নিক।’
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
হাজীরহাট এলাকার আলু চাষি শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘রাজশাহীতে কেজিপ্রতি হিমাগার ভাড়া ছয় টাকা হলেও রংপুরে নেয়া হচ্ছে সাত টাকা। আমরা চাই সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা কেজি ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। গত বছর আলুতে লোকসান হয়েছে, এবারও একই পরিস্থিতি হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।’
রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘দুই বছর আগেও প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। চলতি মৌসুমে তা বাড়িয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করা হয়েছে। একদিকে বাজারে আলুর দাম কম, অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকারের প্রতি অনুরোধ, হিমাগারের ভাড়া কমিয়ে আলু রফতানির উদ্যোগ নেয়া এবং লোকসান হওয়া আলু চাষিদের তালিকা করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হোক।’
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
সমিতির সহসভাপতি তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী অঞ্চলের তুলনায় রংপুরে প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করে দেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে জেলায় জেলায় কমিটি করে ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
বিক্ষোভকারীরা জানান, চলতি বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা এমনিতেই লোকসানের মুখে রয়েছেন। এর ওপর অতিরিক্ত হিমাগারভাড়া তাদের সংকট আরও গভীর করেছে। হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রশাসনের মাধ্যমে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন