শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪২ পি.এম
শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; ডাকযোগে বর্তমানে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে গত দুই মাসে প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। প্রথম কেজির জন্য ১০ টাকা, পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য ৫ টাকা এই মাশুলে স্পিড পোস্ট সেবা কার্যক্রম চলছে।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। মহাপরিচালক জানান, দেশের আইন অনুযায়ী অবৈধ নয়, এমন যেকোনো পণ্য ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা সম্ভব। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ারড্রবের মতো বড় আসবাবপত্রও পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা, এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এবং কীটনাশক স্প্রে মেশিনও ডাকযোগে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে, যা আগে কখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জানার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য বৈদেশিক ইএমএস সেবাও রয়েছে।
তিনি বলেন, সেবাটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ডাক অধিদপ্তর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করেছে। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা এবং প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে, নিরাপত্তার কারণে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না।
এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী আসাদুল বলেন, "টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়।"
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এই সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারা নিজ উদ্যোগে সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।
এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্র ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তঃজেলা বাসাবদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে।
সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মাধ্যমে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল এবং ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল- সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রপ্তানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও ও কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা চলবে।
মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য।
উল্লেখ্য, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আরএফএল গ্রুপ জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন জমা দিতে পারবেন।
পদের নাম: সার্ভিস ইনচার্জ
বিভাগ: ব্যাটারি
লোকবল নিয়োগ: ১০ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে ডিপ্লোমা বা বিএসসি
অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীদের ব্যাটারি, স্টোরেজ সেল, সাইকেল, ড্রাই সেল (ব্যাটারি), বৈদ্যুতিক তার/ক্যাবল এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৩ থেকে ৭ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ
বয়সসীমা: ২৪ থেকে ৩৫ বছর
কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
প্রার্থীদের জন্য অন্যান্য সুবিধা হিসেবে প্রভিডেন্ট ফান্ড, ভ্রমণ ভাতা, মোবাইল বিল, পারফরম্যান্স বোনাস, দুপুরের খাবার সুবিধা, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট, বছরে ২টি উৎসব বোনাস এবং ছুটির বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা হবে।
আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির অধীনে দেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের সুযোগ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন আকাক্সক্ষার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
তিনি জানান, নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করবেন, যা সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে হবে।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের অধিবেশনে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন অধিকার ঘোষণার ৪০তম বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
তিনি এই নির্বাচনের বিষয়টি জাতীয় গৌরবের সাথে যুক্ত করে বলেন, সাইপ্রাস প্রায় এক দশক ধরে এই পদের জন্য প্রচারণা চালালেও বাংলাদেশ এই সভাপতিত্ব লাভ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের ৮৩টি মিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার কারণে এই কূটনৈতিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে নারীসহ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস, সহনশীলতা ও আত্মত্যাগের কারণে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশেষ সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের ওয়ান-স্টপ সেবা দিতে সরকার ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে এবং কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ করছে। এছাড়া নাগরিকদের সব তথ্য একটি একক ডেটাবেজে নিয়ে আসতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কাজ চলছে।
তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজতর করতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ ‘প্রবাসী কার্ড’ ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ, ঐতিহ্য, পর্যটন, সৃজনশীল শিল্প এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলোর প্রচারণায় প্রবাসীদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহারের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুই বছর আগে শিক্ষার্থীদের ১৭ দফা আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) উত্তাল হয়ে উঠেছিল। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে একটি প্রধান দাবি ছিল চট্টগ্রামের হামিদচরে নির্মাণাধীন ১০৬.৬৬ একরের স্থায়ী ক্যাম্পাসে দ্রুত স্থানান্তর।
এছাড়া, সেমিস্টার ও ক্রেডিট ফি যৌক্তিককরণ, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসন, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মেরিটাইম খাতে গ্র্যাজুয়েটদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও ছিল। কিন্তু দুই বছর পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ মৌলিক দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সংশয় বিরাজ করছে।
২০২৪ সালের ৪ মার্চ চট্টগ্রামের হামিদচরে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ধাপে একাডেমিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করেও বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও মিরপুর-১২-এর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে স্থানান্তরের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি প্রদানের পর রেজিস্ট্রার কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম এই আশ্বাস দেন।
শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা
অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এখনও তীব্র শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহার রাফি জানান, ওরিয়েন্টেশনে স্থায়ী ক্যাম্পাসে দ্রুত স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু ফাইনাল ইয়ার শেষ হতে চললেও সেই ১০৬ একরের দেখা মিলছে না। শিক্ষক সংকটের কারণে তাদের এখনও এক্সটার্নাল ফ্যাকাল্টির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এছাড়া, কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ধীরগতি রয়েছে বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।
নাম পরিবর্তনসহ কিছু দাবিতে অগ্রগতি
আন্দোলনের ফলে ১৭ দফার কিছু দাবি পূরণ হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি' করা হয় এবং সংশোধিত ফি কাঠামো ও হলের ফি সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের মতে, ফি পুরোপুরি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধার সুরাহা এখনও হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ডিন পর্যায়ে ঘন ঘন রদবদলকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
মেরিটাইম ল’ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিম সাজিদ জীম ও মেরিন ফিশারিজ বিভাগের আবদুল মালেক জানান, তারা কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে ছিলেন না; বরং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পরিবেশ চেয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি নয়, তারা বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চান।
অন্যদিকে, ১৭ দফায় অন্তর্ভুক্ত ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বিএমইউ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহানুর রহমান মুকুট বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরার মুক্ত সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
আধা-বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতি আর ঘনঘন প্রশাসনিক রদবদলের মাঝে দাঁড়িয়ে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি এখন চট্টগ্রামের হামিদচরের দিকে—কবে শেষ হবে এই দীর্ঘ প্রহর আর কবে শুরু হবে স্বপ্নের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাত্রা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সামরিক কাঠামোর ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটেছে। সম্প্রতি দেশটির সংসদ একটি নতুন আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে ব্যাপক পরিবর্তন এনে সেনাপ্রধানের ক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে পাস হয়েছে ‘পাকিস্তান ডিফেন্স ফোর্সেস অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট’-এর একটি সংশোধনী। এর ফলে গত বছর গঠিত ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান পদটি এখন সম্পূর্ণরূপে আইনি স্বীকৃতি লাভ করেছে।
বিলগুলো এত দ্রুত পাস হয়েছে যে, সেদিন সকালে মন্ত্রিসভা এগুলো অনুমোদন দেয় এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংসদে পাস হয়ে যায়। বিগত বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পর এই সামরিক পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছিল।
যা পরিবর্তন হলো
১৯৭৬ সালের পর দেশটির উচ্চ সামরিক কমান্ডে এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এতদিন তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য ‘জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির (সিজেসিএসসি) চেয়ারম্যান’ নামে একটি পদ ছিল, যা এখন সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’ নামক নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামোর প্রধান বা সিডিএফ হিসেবে বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী সিজেসিএসসি প্রধানের পদটি কেবল নামেমাত্র সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করত এবং নৌ বা বিমান বাহিনীর ওপর তার কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্তু নতুন আইনে সিডিএফ-কে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী— তিনটিরই সরাসরি ‘অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ’ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে তিন বাহিনীর সব অভিযানের জন্য তিনি সরাসরি সরকারের কাছে জবাবদিহি করবেন।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন আইনের ফলে সামরিক বাহিনীতে সেনাবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত কমান্ডের প্রধান পদটিও এখন কেবল সেনাবাহিনী থেকেই পূরণ করা হবে, যা থেকে নৌ ও বিমান বাহিনীকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্য দুই বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার ও পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
এ ছাড়া, সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা এতদিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকলেও, নতুন আইন অনুযায়ী এখন থেকে সেই ক্ষমতা একাই প্রয়োগ করতে পারবেন সিডিএফ। এর ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে কিনা, তা নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ