প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সামরিক কাঠামোর ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটেছে। সম্প্রতি দেশটির সংসদ একটি নতুন আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে ব্যাপক পরিবর্তন এনে সেনাপ্রধানের ক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে পাস হয়েছে ‘পাকিস্তান ডিফেন্স ফোর্সেস অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট’-এর একটি সংশোধনী। এর ফলে গত বছর গঠিত ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান পদটি এখন সম্পূর্ণরূপে আইনি স্বীকৃতি লাভ করেছে।
বিলগুলো এত দ্রুত পাস হয়েছে যে, সেদিন সকালে মন্ত্রিসভা এগুলো অনুমোদন দেয় এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংসদে পাস হয়ে যায়। বিগত বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পর এই সামরিক পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছিল।
যা পরিবর্তন হলো
১৯৭৬ সালের পর দেশটির উচ্চ সামরিক কমান্ডে এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এতদিন তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য ‘জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির (সিজেসিএসসি) চেয়ারম্যান’ নামে একটি পদ ছিল, যা এখন সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’ নামক নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামোর প্রধান বা সিডিএফ হিসেবে বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী সিজেসিএসসি প্রধানের পদটি কেবল নামেমাত্র সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করত এবং নৌ বা বিমান বাহিনীর ওপর তার কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্তু নতুন আইনে সিডিএফ-কে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী— তিনটিরই সরাসরি ‘অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ’ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে তিন বাহিনীর সব অভিযানের জন্য তিনি সরাসরি সরকারের কাছে জবাবদিহি করবেন।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন আইনের ফলে সামরিক বাহিনীতে সেনাবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত কমান্ডের প্রধান পদটিও এখন কেবল সেনাবাহিনী থেকেই পূরণ করা হবে, যা থেকে নৌ ও বিমান বাহিনীকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্য দুই বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার ও পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
এ ছাড়া, সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা এতদিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকলেও, নতুন আইন অনুযায়ী এখন থেকে সেই ক্ষমতা একাই প্রয়োগ করতে পারবেন সিডিএফ। এর ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে কিনা, তা নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন