শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
কয়রায় জমি নিয়ে বিরোধের ফলে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১নং কয়রা গ্রামের বাবর আলী গাজীর পুত্র আজিজুল হক অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ২২ অক্টোবর তার প্রতিপক্ষ একই গ্রামের নজরুল ইসলাম মন্টু জমি দখলের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রকৃত ঘটানাটি হলো যে, আমি কয়রা মৌজায় ১নং কয়রা গ্রামে ১৯ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছি।" ২১ অক্টোবর ঐ জায়গার ঘেড়াবেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি নতুন করে ঘেড়াবেড়া দিয়েছেন।
আজিজুল হক বলেন, "আমার ভোগদখলীয় জায়গায় আমি কাজ করেছি। ঐ বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষরা ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে।" তিনি আরও জানান, নজরুল ইসলাম মন্টু পূর্বে তার কাছে জমির ঝামেলা আছে বলে টাকার দাবি করেছেন। তিনি তার আবদার মিটাতে না পারায়, মন্টু অনেক দিন ধরে তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
আজিজুল হক দাবি করেন, জমি দখলের কোন ঘটনা ঘটেনি এবং ঘটনার তদন্ত করলে সকল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে বিমানবন্দর অবকাঠামোয় হামলার কারণে ফ্লাইট বাতিলের ফলে সেখানে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমান সংস্থা ও সফর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রেখে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এ তথ্য ভারতের গণমাধ্যম দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েসি বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফ্লাইট বাতিলের কারণে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় প্রায় চার হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী আটকা পড়েছেন।
এক্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওয়েসি উল্লেখ করেন, ‘ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে যাওয়া প্রায় ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী মক্কা ও মদিনায় আটকে আছেন। এসব বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করায় তারা ফিরতে পারছেন না।’ তিনি আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বড় আকারের বিমান চলাচলের অনুমতি দিতে অথবা বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-এ প্রতি আহ্বান জানান।
ওয়েসির উদ্বেগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে কাজ করছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত এক সপ্তাহে উপলব্ধ বিভিন্ন ফ্লাইটের মাধ্যমে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার ওমরাহ যাত্রীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক শিডিউল ফ্লাইটে আরও ১০ হাজারের বেশি ওমরাহ যাত্রী দেশে ফিরেছেন।
সৌদি আরবে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জরুরি সহায়তার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি কন্ট্রোল রুমের নম্বরও চালু করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে পরসিয়া জাহান তানিয়া আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসনের চর উত্তর ভুতেরদিয়া, চর হোগলপাতিয়া, চর ফতেপুর, শিলনদিয়া ও নতুনচর এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
পরসিয়া জাহান তানিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের একজন নেত্রী। তিনি দক্ষিণ চর ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তানিয়া জানান, তিনি এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ এবং মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন। নির্বাচিত হলে, তিনি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার জন্য আগ্রহী।
স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যেই পরসিয়া জাহান তানিয়া আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের অধিবাসীদের জন্য পাকা রাস্তার স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস দেওয়া হলেও রাস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবে ঘটেনি। বর্ষাকালে কাদাপানি এবং শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে বাড়তি শ্রমিক এবং পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ মাঠে ধান, গম, মসুর, কলাইসহ বিভিন্ন প্রকারের ফসলের আবাদ হয়। প্রতিদিন কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ কৃষিকাজ এবং যাতায়াতের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বর্ষাকালে রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকে। তখন পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে কাদাপানি না থাকলেও গর্ত, উঁচু-নিচু মাটি এবং খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বাইসাইকেল এবং মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ বিপাকে পড়ে। অনেক সময় পায়ে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফসল উৎপাদনের পর তা মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়াটা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় এবং শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সময়মতো ফসল পরিবহন করতে না পারায় কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় থাকেন।
কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, "মাঠে ফসল ফলাতে সার, বীজ, কীটনাশক এবং শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। ফসল ঘরে তোলার সময় এই রাস্তার কারণে নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তা ভালো না থাকায় ফসল পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হোক।"
কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, "বর্ষার সময় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। ফসল নিয়ে মাঠ থেকে বের হওয়া যায় না বললেই চলে। শুষ্ক মৌসুমেও গর্তের কারণে সমস্যা হয়। রাস্তা ভালো হলে কৃষিকাজের খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং আমরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাড়িতে নিতে পারব।"
কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুর্ভোগ সহ্য করছেন। কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বছরের পর বছর রাস্তা পাকা করার কথা শুনছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমরা আর আশ্বাস নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দা মহাব্বত আলী বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। বর্ষায় কাদা জমলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাতায়াত করতেও সমস্যা হয়। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় রাস্তা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।"
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানান, "নির্বাচনের আগে রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। আমাদের এলাকার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট করছেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।"
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তারা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার এবং টেকসইভাবে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ৭০টি রাস্তা সংস্কার, নির্মাণ এবং পাকাকরণ করেছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, এত দিন রাস্তাটির আইডি না থাকায় পাকাকরণের কাজ করা সম্ভব হয়নি। আইডি পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন তিনি। এ ছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বরাবর রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, "উপজেলার যেসব রাস্তার এখনো আইডি হয়নি, সেগুলোর আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের রাস্তাটির আইডি করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়েও আবেদন করা হয়েছে। আইডি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কবে রাস্তাটি পাকা হবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন আড়ুয়াশালুয়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ এবং কৃষকেরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে বন বিভাগের আপত্তির কারণে দেড় কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণকাজ বন্ধ রয়েছে। এই প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা বর্তমানে অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে।
সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকার ফলে এর শেষ প্রান্তে নির্মিত কাওয়ারগলা সেতুটিও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ব্যবহার করতে না পারার কারণে এলাকাবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, রুরাল অ্যাকসেস ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আদমপুরের রাজকান্দি বনসংলগ্ন আদখানিবাজার-ভায়া কাওয়ারগলা সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কাজটি পেয়েছিল ঢাকার মতিঝিলের এমইউ অ্যান্ড জিইউ (জেবি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে কাজ শুরু হওয়ার পরপরই আদমপুর রাজকান্দি বন বিভাগ সড়ক নির্মাণে আপত্তি জানায়। বন বিভাগ এ বিষয়ে এলজিইডিকে লিখিত চিঠিও দেয়। তবে এর মধ্যেই সড়কের বক্স মেকাডমের কাজ এবং ইটের খোয়া ফেলার কাজ সম্পন্ন হয়।
২০২১ সালে বন বিভাগের বাধার কারণে কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বন বিভাগের আপত্তির কারণে ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকল্পটির দরপত্র বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। সড়কটির পাকাকরণকাজ এরপর স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ ও ২০২১ সালে দুই কিস্তিতে মোট ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের ৩০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। অথচ ঠিকাদারকে কাজের তুলনায় বেশি বিল দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আদখানিবাজার-ভায়া কাওয়ারগলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছু জায়গায় সড়ক দেবে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ইটের খোয়ার ফাঁকে ঘাস ও আগাছা জন্মেছে। দূর থেকে দেখলে সড়কটিকে মাটির রাস্তা বলে মনে হয়। রাজকান্দি বনের ভেতরের প্রায় ৫০০ মিটার অংশ ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে, যা দিয়ে হেঁটে চলাচল করতেও স্থানীয় বাসিন্দারা ভয় পান।
সড়কটির শেষ প্রান্তে পাহাড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত কাওয়ারগলা সেতুটিও কার্যকর নয়। স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক অসমাপ্ত থাকায় এটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেতু ও এর আশপাশে আগাছা জন্মেছে, ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
দক্ষিণ কোনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রমিজ মিয়া বলেন, “সড়কে ইটের খোয়া ফেলার পর আর কোনো কাজ হয়নি। বনের কারণে যদি সমস্যা থাকে, তাহলে অন্তত গ্রামের ভেতরের অংশটুকু পাকা করা হলে মানুষ উপকৃত হতো। এখন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে বড় বড় গর্ত হয়েছে। যানবাহন চলাচল করতে পারে না।”
কাওয়ারগলা গ্রামের সোহান আহমদ বলেন, সড়কটি অসমাপ্ত থাকায় সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো কোনো কাজে আসছে না। জনস্বার্থে সড়কটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, সড়ক ও সেতু চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসত। বন বিভাগ ও এলজিইডির সমন্বয়হীনতার কারণে সাধারণ মানুষকে এভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যা কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, বন বিভাগের আপত্তির কারণে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে সড়কটির কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। বরাদ্দ করা অর্থের বিপরীতে যতটুকু কাজ হয়েছে, নিয়ম মেনেই ঠিকাদারকে সেই পরিমাণ বিল দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প কোনো সমাধান বের করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ