ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের পাকা রাস্তার স্বপ্ন অধরাই


কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের পাকা রাস্তার স্বপ্ন অধরাই

স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের অধিবাসীদের জন্য পাকা রাস্তার স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস দেওয়া হলেও রাস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবে ঘটেনি। বর্ষাকালে কাদাপানি এবং শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে বাড়তি শ্রমিক এবং পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ মাঠে ধান, গম, মসুর, কলাইসহ বিভিন্ন প্রকারের ফসলের আবাদ হয়। প্রতিদিন কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ কৃষিকাজ এবং যাতায়াতের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বর্ষাকালে রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকে। তখন পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে কাদাপানি না থাকলেও গর্ত, উঁচু-নিচু মাটি এবং খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বাইসাইকেল এবং মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ বিপাকে পড়ে। অনেক সময় পায়ে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আরও পড়ুন: কুবি শিক্ষকপুত্র অপ্রতিম হত্যা: ৩১ দিনে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফসল উৎপাদনের পর তা মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়াটা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় এবং শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সময়মতো ফসল পরিবহন করতে না পারায় কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় থাকেন।

কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, "মাঠে ফসল ফলাতে সার, বীজ, কীটনাশক এবং শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। ফসল ঘরে তোলার সময় এই রাস্তার কারণে নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তা ভালো না থাকায় ফসল পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হোক।"

কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, "বর্ষার সময় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। ফসল নিয়ে মাঠ থেকে বের হওয়া যায় না বললেই চলে। শুষ্ক মৌসুমেও গর্তের কারণে সমস্যা হয়। রাস্তা ভালো হলে কৃষিকাজের খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং আমরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাড়িতে নিতে পারব।"

কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুর্ভোগ সহ্য করছেন। কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বছরের পর বছর রাস্তা পাকা করার কথা শুনছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমরা আর আশ্বাস নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চাই।"

আরও পড়ুন: সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ বগুড়ায় পৌঁছেছে

স্থানীয় বাসিন্দা মহাব্বত আলী বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। বর্ষায় কাদা জমলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাতায়াত করতেও সমস্যা হয়। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় রাস্তা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।"

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানান, "নির্বাচনের আগে রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। আমাদের এলাকার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট করছেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।"

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তারা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার এবং টেকসইভাবে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ৭০টি রাস্তা সংস্কার, নির্মাণ এবং পাকাকরণ করেছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানার ওসির তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বললেন তিনি

তিনি আরও জানান, এত দিন রাস্তাটির আইডি না থাকায় পাকাকরণের কাজ করা সম্ভব হয়নি। আইডি পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন তিনি। এ ছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বরাবর রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, "উপজেলার যেসব রাস্তার এখনো আইডি হয়নি, সেগুলোর আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের রাস্তাটির আইডি করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়েও আবেদন করা হয়েছে। আইডি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কবে রাস্তাটি পাকা হবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন আড়ুয়াশালুয়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ এবং কৃষকেরা।

আরও পড়ুন: ভেঙে পড়ার ছয় বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোই পাঁচ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৌলভীবাজারে তিন বছর ধরে বন্ধ সড়ক পাকাকরণ, কোটি টাকার সেতু কাজে আসছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২২ পি.এম


মৌলভীবাজারে তিন বছর ধরে বন্ধ সড়ক পাকাকরণ, কোটি টাকার সেতু কাজে আসছে না

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে বন বিভাগের আপত্তির কারণে দেড় কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণকাজ বন্ধ রয়েছে। এই প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা বর্তমানে অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকার ফলে এর শেষ প্রান্তে নির্মিত কাওয়ারগলা সেতুটিও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ব্যবহার করতে না পারার কারণে এলাকাবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, রুরাল অ্যাকসেস ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আদমপুরের রাজকান্দি বনসংলগ্ন আদখানিবাজার-ভায়া কাওয়ারগলা সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কাজটি পেয়েছিল ঢাকার মতিঝিলের এমইউ অ্যান্ড জিইউ (জেবি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে কাজ শুরু হওয়ার পরপরই আদমপুর রাজকান্দি বন বিভাগ সড়ক নির্মাণে আপত্তি জানায়। বন বিভাগ এ বিষয়ে এলজিইডিকে লিখিত চিঠিও দেয়। তবে এর মধ্যেই সড়কের বক্স মেকাডমের কাজ এবং ইটের খোয়া ফেলার কাজ সম্পন্ন হয়।

২০২১ সালে বন বিভাগের বাধার কারণে কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বন বিভাগের আপত্তির কারণে ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকল্পটির দরপত্র বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। সড়কটির পাকাকরণকাজ এরপর স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ ও ২০২১ সালে দুই কিস্তিতে মোট ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের ৩০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। অথচ ঠিকাদারকে কাজের তুলনায় বেশি বিল দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আদখানিবাজার-ভায়া কাওয়ারগলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছু জায়গায় সড়ক দেবে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ইটের খোয়ার ফাঁকে ঘাস ও আগাছা জন্মেছে। দূর থেকে দেখলে সড়কটিকে মাটির রাস্তা বলে মনে হয়। রাজকান্দি বনের ভেতরের প্রায় ৫০০ মিটার অংশ ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে, যা দিয়ে হেঁটে চলাচল করতেও স্থানীয় বাসিন্দারা ভয় পান।

সড়কটির শেষ প্রান্তে পাহাড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত কাওয়ারগলা সেতুটিও কার্যকর নয়। স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক অসমাপ্ত থাকায় এটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেতু ও এর আশপাশে আগাছা জন্মেছে, ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

দক্ষিণ কোনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রমিজ মিয়া বলেন, “সড়কে ইটের খোয়া ফেলার পর আর কোনো কাজ হয়নি। বনের কারণে যদি সমস্যা থাকে, তাহলে অন্তত গ্রামের ভেতরের অংশটুকু পাকা করা হলে মানুষ উপকৃত হতো। এখন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে বড় বড় গর্ত হয়েছে। যানবাহন চলাচল করতে পারে না।”

কাওয়ারগলা গ্রামের সোহান আহমদ বলেন, সড়কটি অসমাপ্ত থাকায় সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো কোনো কাজে আসছে না। জনস্বার্থে সড়কটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, সড়ক ও সেতু চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসত। বন বিভাগ ও এলজিইডির সমন্বয়হীনতার কারণে সাধারণ মানুষকে এভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যা কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, বন বিভাগের আপত্তির কারণে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে সড়কটির কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। বরাদ্দ করা অর্থের বিপরীতে যতটুকু কাজ হয়েছে, নিয়ম মেনেই ঠিকাদারকে সেই পরিমাণ বিল দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প কোনো সমাধান বের করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউমার্কেটে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ৩ নেতার পদ স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


নিউমার্কেটে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ৩ নেতার পদ স্থগিত

রাজধানীর নিউমার্কেটের গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং দখলচেষ্টার অভিযোগে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের তিন নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী, তাঁর ছেলে এবং মার্কেটের ব্যবস্থাপককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

পদ স্থগিত হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম এবং সদস্য শেখ পারভেজ মোশাররফ ও সাগর খান।

আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের পদ স্থগিত করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এ সময় দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম, তাঁর ছেলে এবং মার্কেটের ব্যবস্থাপক জুয়েল রানাকে মারধর ও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, দোকানটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার পর এক ব্যক্তি এর মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে একদল লোক দোকানে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং মালামাল বাইরে ফেলে দেয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর মানিব্যাগসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন এই ব্যবসায়ী।

মার্কেটের ব্যবস্থাপক জুয়েল রানার ভাষ্য, দোকানটির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটে। এতে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। বিরোধটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে অদ্ভুত স্থাপত্যের পর্যটনস্থল, বিশাল নাগরদোলার চড়ার সুযোগ নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে অদ্ভুত স্থাপত্যের পর্যটনস্থল, বিশাল নাগরদোলার চড়ার সুযোগ নেই

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য রয়েছে কিছু জনপ্রিয় স্থান, যেমন নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টি, অথবা সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ। তবে এর বাইরেও একটি পর্যটনস্থল রয়েছে, যেখানে বিশাল নাগরদোলা, অদ্ভুত স্থাপনা এবং বিচিত্র সংগ্রহ রয়েছে। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সেখানকার বিশাল নাগরদোলা দেখা গেলেও তাতে চড়ার সুযোগ নেই।

এই জায়গাটি উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এবং এর নাম ‘হাউস অন দ্য রক’। যারা সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে কিছু ব্যতিক্রমী দেখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। কনটেন্ট নির্মাতা খাইলের একটি ভিডিওতে এই কমপ্লেক্সের বিচিত্র আয়োজন তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, এর মতো অভিজ্ঞতা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।

কেন এত অদ্ভুত ‘হাউস অন দ্য রক’?

খাইল নিজের পোস্টে ‘হাউস অন দ্য রক’-কে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অদ্ভুত পর্যটনস্থল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে জায়গাটির প্রতি মুগ্ধতা। তার দৃষ্টিতে, এখানকার কিছু প্রদর্শনী অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়, আবার কিছু দেখে মনে হয় যেন অদ্ভুত কোনো স্বপ্নের জগতে চলে এসেছেন। অ্যালেক্স জর্ডান ১৯৬০ সালে এই বাড়িটি নির্মাণ করেন।

কমপ্লেক্সটির অন্যতম আলোচিত স্থাপনাগুলির মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর নাগরদোলা। এতে ২৬৯টি পশুর অবয়ব, ২০ হাজার আলো এবং ১৮২টি ঝাড়বাতি রয়েছে। বিশাল এই আয়োজন দেখলে যে কারও চোখ আটকে যেতে পারে। তবে নাগরদোলাটি অন্যান্য নাগরদোলার মতো নয়। এতে চড়ার অনুমতি নেই কোনো পর্যটকের। দূর থেকে এর বিশালতা ও সাজসজ্জা দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

এখানকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ‘ইনফিনিটি রুম’। দীর্ঘ, অনুভূমিক শিখরের মতো দেখতে এই অংশটি উইসকনসিনের উপত্যকার ওপর দিয়ে প্রায় ২০০ ফুট প্রসারিত হয়েছে। এর নকশা ও অবস্থান দর্শকদের জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

এক ঘরে বিশাল নাগরদোলা, অন্য ঘরে স্বয়ংক্রিয় বাদ্যযন্ত্রের দল। যন্ত্রগুলি নিজে থেকেই বাজতে থাকে। কোথাও আবার মাথার ওপর ঝুলতে দেখা যায় বিশাল এক সামুদ্রিক প্রাণীর অবয়ব। একের পর এক ঘর ঘুরে দেখলে বোঝা যায়, প্রতিটি অংশের সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীর ধরন আলাদা। ফলে পুরো কমপ্লেক্স ঘুরে দেখার সময় একঘেয়ে হওয়ার সুযোগ কম।

এখানে রয়েছে ক্ষুদ্রাকৃতির পুতুলবাড়ির বিশাল সংগ্রহ। এসব বাড়ির নকশায় ঔপনিবেশিক আমল থেকে ভিক্টোরীয় যুগের স্থাপত্যশৈলীর নমুনা দেখা যায়। এ ছাড়া এখানে ২০০টিরও বেশি জাহাজের মডেল রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র, গয়না এবং নানা ধরনের ব্যতিক্রমী সামগ্রীও প্রদর্শিত হয় এই কমপ্লেক্সে।

খাইল জায়গাটিকে ‘ভৌতিক’ ও ‘সুন্দর’ দুইভাবেই বর্ণনা করেছেন। তার মতে, অদ্ভুত স্থাপনা ও অপ্রচলিত সংগ্রহ দেখতে যারা পছন্দ করেন, তাদের কাছে ‘হাউস অন দ্য রক’ ভালো লাগবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে অন্যরকম কিছু দেখতে চাইলে জায়গাটি ভ্রমণের পরিকল্পনায় রাখা উচিত।

কখন যাবেন, কতক্ষণ সময় রাখবেন?

‘হাউস অন দ্য রক’ প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন কমপ্লেক্সটি বিকেল ৫টায় বন্ধ হয়ে যায়। ‘আলটিমেট এক্সপেরিয়েন্স’ ট্যুরের শেষ বুকিংয়ের সময় দুপুর ২টা। এই ট্যুরে ঘুরে দেখতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

কমপ্লেক্সের কয়েকটি অংশ দুপুর ২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সব প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে দিনের শুরুতেই পৌঁছানো ভালো। এতে বিভিন্ন সংগ্রহ ও স্থাপনা দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমিউনিটি ব্যাংকে হেড অব সার্ভিস কোয়ালিটি ডিভিশনে চাকরির আবেদন ৩১ অক্টোবর শেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


কমিউনিটি ব্যাংকে হেড অব সার্ভিস কোয়ালিটি ডিভিশনে চাকরির আবেদন ৩১ অক্টোবর শেষ

কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি জনবল নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

পদের নাম: হেড অব সার্ভিস কোয়ালিটি ডিভিশন

পদসংখ্যা: ১

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি

অন্যান্য যোগ্যতা: শাখা, সহায়তা বিভাগ এবং কন্টাক্ট সেন্টারে পরিষেবা নিরীক্ষা পরিচালনায় দক্ষতা রয়েছে।

অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১০ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: অফিসে

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: ঢাকা

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুবিধা: ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%