বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৪৮ পি.এম
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে প্রতারণা চালানোর পাশাপাশি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী পরিচয়ে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত চেইনম্যান মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ সকল ঘটনায় করা ১১টি মামলায় আদালত ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার সত্যতা পেয়েছে। তবে এতো বড় অপরাধের পরও রহস্যজনক কারণে তাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও মুজিবুর রহমান এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগ আছে, তিনি এখনও মানুষকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি এভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মুজিবুর পূর্বাচলে জায়গা বিক্রির কথা বলে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে স্ট্যাম্প ও সই জালিয়াতি করে উল্টো ৬ কোটি টাকার 'মিথ্যা' মামলা ঠুকে দেয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পিবিআইয়ের তদন্তে ইতিমধ্যেই তার মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করেছেন, সেটিও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ‘পূর্বাচলে একটি প্লটের জন্য তিন কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না হওয়ায় এবং বারবার সময় টানায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে এক সকালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পিবিআই এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মুজিবুর একজন অনেক বড় মাপের প্রতারক। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, মুজিবুর যেসব তথ্য দিয়ে মামলা করেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে অনেক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে।’ ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘‘মজিবুর শুধু সাধারণ মানুষের সঙ্গেই প্রতারণা করেনি। সে পুলিশের অনেক সদস্যের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এমনকি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এমনকি পুলিশ সদর দপ্তরে সে ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে চিঠি লিখেছে। তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এর আগে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবে ‘জামিন’ নিয়ে ফের সে কারাগার থেকে বের হয়ে একই কাজ করে যাচ্ছে।’ কারা সূত্র জানায়, এর আগে সে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। তার প্রতারণার শিকার হয়ে একজন শিক্ষক এখন পথের ফকির। এক মুরব্বির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই মুরব্বি দাবি করেন, টাকা চাওয়ায় তাকে মিথ্যা কথা বলে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ডেকে এনে একটি নির্জন কক্ষে আটকিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে। এরপর অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে জোর পূর্ব স্টাম্পে সই করিয়ে নেয়। ওই ভুক্তভোগী এখন মামলা করে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল অর্থ ফেরত চান। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড মুজিবুর এখনো বহাল তবিয়তে আছে। যদিও মুজিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফ্ল্যাট ও গাড়ি থাকার বিষয় স্বীকার করি, তবে তার জন্য ব্যাংক লোন রয়েছে।’ তবে পুলিশের তদন্তে তার ব্যাংক লোনের পাশাপাশি বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার বিষয়ে দেওয়া তথ্য মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। মুজিবুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছেন। কখনও রাজউকের কর্মকর্তা হিসেবে, আবার কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পার্সোনাল অফিসার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছেন। পূর্বে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য ছিলেন বলে দাবি করেন, বর্তমানে তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা প্রচার করেন। তবে তার এসব তথ্যের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তার তথ্যে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, কখনও রাজউকের অথরাইজড অফিসার আবার কখনও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী- নিজেকে এভাবে উপস্থাপন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত এই চেইনম্যান মুজিবুর রহমান একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। প্রতারণার এই মাস্টারমাইন্ড এখন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক। চেইনম্যান মুজিবুর রহমান ঘুষ, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের কারণে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে বরখাস্ত হন। এরপর শুরু হয় তার বহুমুখী পরিচয়ের বিভিন্ন প্রতারণা। রাজউকের প্লট দেওয়ার নামে একাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি পিবিআই তদন্তে তার জালিয়াতির অনেক ভয়াবহ অভিযোগ ওঠে। সে একজন ভুক্তভোগীকে সব টাকা পরিশোধে কয়েকটি চেক প্রদান করেছিল। কিন্তু চেকগুলো ব্যাংকে ডিজঅনার হয়েছে। এমনই চিত্র দেখা গেছে, তার প্রতারণার শিকার ব্যক্তির সাথেও। মুজিবুরের সঙ্গে ফ্ল্যাট ওনার অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ রয়েছে, সে অনেকের সঙ্গেই এই রকম প্রতারণা করেছে। তার প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিটিভির সাবেক পরিচালক শেখ আব্দুল সালেক বলেন, ‘প্রতারক মজিবুর বহু সহজ সরল মানুষকে তার প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের এতগুলো ওয়ারেন্ট থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এত কিছুর পরও নতুন করে তার প্রতারণার বিভিন্ন প্রকল্প আমরা জানতে পারছি।’ ধানমন্ডি কনকর্ড নুসরাত অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘মজিবুর তাদের ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক, আমার ধারণা, সে প্রতারণার টাকায় এই ফ্ল্যাট কিনেছে। আমরা তার গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।’ একের পর এক প্রতারণা করার পরও কেন আইনের আওতায় আসছে না মুজিবুর, সেটাই প্রশ্ন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল সালেক বলেন, "এক হলো প্রশাসন চোখ বুঝে থাকা, অপরাধগুলো দেখে আমি দেখলাম না। এর চেয়ে বড় অন্যায়, সব জেনেশুনে তারা অ্যাকশনে না যাওয়া।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে আর্চ গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল এলজিইডি গৌরনদী-সরিকল জিসি সড়কে প্রায় দেড়শ' ফুট দৈর্ঘ্যরে আরসিসি ‘আর্চ গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। খরস্রোতা আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী খালের ওপর প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নান্দনিক এই সেতুটি শুধু সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, তা স্থানীয় বিশাল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নিবিড় নজরদারিতে নির্মিত এই সেতুটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নয়, এটি বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি গৌরনদীকে উন্নয়নের এক নতুন মাইলফলকে যুক্ত করেছে। এই সেতুটি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ যেকোনো অসুস্থ মানুষের জন্য দ্রুত চিকিৎসা সেবার আওতায় আসার প্রক্রিয়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
এছাড়া, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও এই আর্চ গার্ডার সেতুটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসন ভীষণভাবে স্বীকার করছে। একটি স্প্যানের ওপর নির্মিত এই আরসিসি সেতুটির রয়েছে দুটি এবাটমেন্ট ও ২২৪ মিটার সংযোগ সড়ক। এলজিইডির বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান জানান, আধুনিক নির্মাণশৈলীর এই সেতুটির নির্মাণে নিবিড় তদারকি এবং সবার মাঝে উন্নয়নমুখী কর্মপরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ ছিল। বরিশালের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কহিনুর এন্টারপ্রাইজ প্রায় ৩১ মাস সময়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ এবং সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে।
এলজিইডি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী উন্নয়নে ইতোমধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে সমৃদ্ধ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তুলেছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ইতোমধ্যে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট সহ বিভিন্ন গ্রোথ সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে এলজিইডি পল্লী অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকার কৃষি উৎপাদন ও বিপণনের পাশাপাশি বাজার সংযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানসহ স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও এলজিইডি ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হয়ে উঠেছে। গৌরনদীর পালরদীর আর্চ গার্ডার সেতুটিও ইতোমধ্যে সুদূর পল্লী এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের টেকসই ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে, এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার আহমদাবাদ হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজ হাতে ঘষামাজা সার্টিফিকেট, আর্থিক অনিয়ম এবং দায়িত্ব পালণে গুরুত্বর অসাদাচারণ সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাদরাসার গর্ভনিং বডির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে উপাধ্যক্ষ মো. অলিউল্লাহ্কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। গত ১৪ জুলাইয়ের এক চিঠিতে, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে তাকে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসাথে অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা তনয় সিংহকে প্রধান করে সাত সদস্যরের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা তনয় সিংহ বলেছেন, পদের মর্যাদার দিক থেকে মাদরাসার গর্ভনিং বডি তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার এখতিয়ার নেই। ইউএনও কিংবা জেলা প্রশাসক তাকে এ দায়িত্ব দিতে পারেন। মাদরাসার গর্ভনিং বডির সভাপতি মো. রুহুল আমিন জসিম জানিয়েছেন, নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করে সাত সদস্যরের তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা তনয় সিংহকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি মাদরাসায় এসে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
জানা গেছে, গত ২১ মে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য মো. আব্দুর রহিম ফরাজী মাদ্রাসার সভাপতি বরাবর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসঙ্গতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হালিম দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের নৈমিত্তিক ছুটির বিধান উপেক্ষা করে তিনি ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১৬ দিন ছুটি ভোগ করেছেন। পরবর্তীতে গভর্নিং বডির সদস্যরা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি বিষয়টিকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে এড়িয়ে যান।
এছাড়া অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকার পরেও নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল ছুটি গ্রহণ না করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে অধ্যক্ষের শিক্ষাগত সনদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তার দাখিল, আলিম ও ফাজিল পাসের সনদের একাধিকস্থানে ঘষামাজা ও কাটাকাটির চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সনদগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে অডিট কমিটির নিরীক্ষায় মাদ্রাসার অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে প্রভাব খাটিয়ে এসব অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাদ্রাসার এক নিরাপত্তারক্ষীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগসংক্রান্ত ফাইল পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দিতে বাধ্য করা হয়েছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই ফাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তারক্ষী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও, মাদ্রাসার গাছ ও পুরোনো আসবাবপত্র নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রিসহ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অতীতের আরও কিছু গুরুত্বর অভিযোগের কথা লিখিত অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারী মো. আব্দুর রহিম ফরাজী বলেছেন, অধ্যক্ষের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও আচরণে স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর নেতিবাচক প্রভাব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির ওপর পড়ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আহমদাবাদ হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার সকালে মাদরাসার গর্ভনিং বডির সভায় আমাকে মারধর করে চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমাকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং সাংবাদিক সম্মেলন করারও ঘোষণা দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরগুনার তালতলীতে কৃষিকার্ড বিতরণের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টায় উপজেলার মালিপাড়ায় একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষিকার্ড বিতরণের উদ্বোধন করেন।
এসময় উপজেলা কৃষি অফিসার আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও তালতলী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, জাকির হোসেন খলিফাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং সাধারণ কৃষকরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরে আজ বৃহস্পতিবার জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে সকাল ১০ টায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পুলিশ বিভাগ, জেলা পরিষদ, জেলা বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জুলাই শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকাল ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীর হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব ছাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াত আমীর তোফাজ্জল হোসেন ফরিদ এবং পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ