সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৭ পি.এম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান (৫২), সুলতান আহম্মেদ (৬৫) ও লিটন মণ্ডলকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে। তবে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার সময় বয়স, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, গ্রেপ্তারের কারণ ও সময়ের ব্যাপারে অসঙ্গতি এবং পুলিশের নথিতে ত্রুটি পাওয়ায় আদালত সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমানকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (সুন্দরগঞ্জ)-এর বিচারক পাঁপড়ি বড়ুয়া এ আদেশ জারি করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা আদালতের আদেশের বিষয়টি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে জানতে পারেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরক মামলায় তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার পর তাদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আসামি সুলতান আহম্মেদ আদালতে দাবি করেন, তার বয়স ৭২ বছরের বেশি। তিনি লিভার ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত বলেও জানান।
অন্যদিকে, আসামি লিটন মণ্ডল জানান, তাকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের ফরওয়ার্ডিংয়ে গ্রেপ্তারের সময় বিকেল সাড়ে ৩টা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আনিছুর রহমানকে আদালতে হাজির করার পর চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আসামিদের বয়স, গ্রেপ্তারের কারণ ও সময় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। একইসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্রুটি রয়েছে। এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করে কেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা জানতে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসিকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেছেন কি না, তা জানতে তাকেও আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দুই কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মামলা কিংবা অন্য কোনো অপরাধের মামলায় প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নজির রয়েছে। এ মামলায়ও তদন্তের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে আসামিদের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আদালত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করবেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা’র বাড়ির সামনে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। দুই মিনিট পর ৪টা ২৮ মিনিটে গোপালচরণ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এবং ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটে।
পরপর বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যায়।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
মামলার তদন্তে পুলিশ প্রথমে আওয়ামী লীগের শান্তিরাম ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানকে (৫২) গ্রেপ্তার করে। পরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আনছার আলীর ছেলে সুলতান আহম্মেদ (৬৫) এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড থানাপাড়ার কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে লিটন মণ্ডলকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন তাদের বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হলে বয়স, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। ভৌগোলিক অবস্থান ও বিশাল জনসংখ্যার কারণে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজুয়িকি কাতাওকা সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জাপান বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে জাপান।
কাতাওকা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান ইতোমধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ী করিডরকে কেন্দ্র করে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। আঞ্চলিক শিল্প ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি জানান, মাতারবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্প ও যমুনা রেলসেতুসহ অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তবে, জেট্রোর এই প্রতিনিধি মনে করেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়।
কাতাওকা বলেন, সড়ক, রেলপথ ও সমুদ্রবন্দরের মতো অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য ও মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, পরিবহন নেটওয়ার্কের মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ লজিস্টিকস ব্যবস্থা এবং সীমান্তপারের চলাচল সহজ করা গেলে আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও নিবিড় হবে।
বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার তাগিদ
জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসাবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন কাতাওকা। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে একটি সমস্যা সমাধানে একাধিক সংস্থার দ্বারস্থ হতে হলে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি বাড়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি একক যোগাযোগকেন্দ্র গড়ে তোলার পরামর্শ দেন, যা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করবে।
কাতাওকা বলেন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে শুধু আবেদন গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর আওতায় ‘কেস ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা দপ্তর একটি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বা সমস্যা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পালন করবে।
সরকারি সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশনের ওপরও জোর দেন তিনি। তার মতে, যতটা সম্ভব পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা গেলে স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে এবং ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের সুযোগ কমবে।
তিনি বলেন, দক্ষ অবকাঠামো, পূর্বানুমানযোগ্য নীতিমালা এবং সমন্বিত সরকারি সেবার সমন্বয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও সরবরাহব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা সহজ হবে।
কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যে নতুন সুযোগ
কাতাওকা বলেন, এসব উদ্যোগের অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যাপক অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে জাপান অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
কাতাওকার মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ী করিডরের সফল উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি বাংলাদেশের আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্প নেটওয়ার্কে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে হতাশাজনক শুরু করে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। এবার সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে মাঠে নামছে জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীরা। ফিফা আসিয়ান কাপের এই ম্যাচে জয়ী হওয়ার জন্য উভয় দলই মরিয়া। বাংলাদেশের সমর্থকরা টেলিভিশনের পাশাপাশি মোবাইল ফোনেও সরাসরি ম্যাচটি দেখতে পারবেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। মোবাইল ফোনে টফি অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচটি দেখার সুযোগও রয়েছে।
ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হেরে যায়। অন্যদিকে, স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ২–০ গোলে পরাজিত হয়ে আসর শুরু করেছে সিঙ্গাপুর। ফলে, দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য উভয় দলের রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের কোচ গ্যাভিন লি আগের ম্যাচের ফল ভুলে প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের সুখকর অভিজ্ঞতা নেই। গত মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ১–০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। হারহিস স্টুয়ার্টের একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিল সিঙ্গাপুর।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকেও দুই দলের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। বাংলাদেশ ১৮২তম স্থানে অবস্থান করছে, অন্যদিকে সিঙ্গাপুর ১৪৮তম স্থানে রয়েছে। তবে র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধান ভুলে মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ।
দলের আক্রমণভাগে হামজা চৌধুরীকে ঘিরে বাড়তি প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি রাকিব হোসেনের পরিশ্রম ও লড়াকু মানসিকতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলিও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিন পয়েন্টের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। তিনি খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও মাঠে লড়াই করার মানসিকতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে হামজা চৌধুরী ও রাকিব হোসেনের উদাহরণ তিনি সামনে এনেছেন।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। এই ম্যাচে পয়েন্ট হারালে টুর্নামেন্টে পরবর্তী পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চাইবে জামাল ভূঁইয়ার দল।
ম্যাচের তথ্য এক নজরে
ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর
টুর্নামেন্ট: ফিফা আসিয়ান কাপ
সময়: বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা
ভেন্যু: গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়াম, জাকার্তা
টিভি সম্প্রচার: টি স্পোর্টস
মোবাইলে দেখার মাধ্যম: টফি (Toffee) অ্যাপ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে, চীনা রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য।
বৈঠকের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সমাজসেবা অধিদপ্তর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত এবং সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর জন্য প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এই নির্দেশনা ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
সঠিক এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর পূর্বে উপকারভোগীদের মোবাইল এবং ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।
এছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে এবং ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ