প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। ভৌগোলিক অবস্থান ও বিশাল জনসংখ্যার কারণে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজুয়িকি কাতাওকা সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জাপান বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে জাপান।
কাতাওকা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান ইতোমধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ী করিডরকে কেন্দ্র করে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। আঞ্চলিক শিল্প ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি জানান, মাতারবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্প ও যমুনা রেলসেতুসহ অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তবে, জেট্রোর এই প্রতিনিধি মনে করেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়।
কাতাওকা বলেন, সড়ক, রেলপথ ও সমুদ্রবন্দরের মতো অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য ও মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, পরিবহন নেটওয়ার্কের মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ লজিস্টিকস ব্যবস্থা এবং সীমান্তপারের চলাচল সহজ করা গেলে আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও নিবিড় হবে।
বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার তাগিদ
জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসাবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন কাতাওকা। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে একটি সমস্যা সমাধানে একাধিক সংস্থার দ্বারস্থ হতে হলে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি বাড়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি একক যোগাযোগকেন্দ্র গড়ে তোলার পরামর্শ দেন, যা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করবে।
কাতাওকা বলেন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে শুধু আবেদন গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর আওতায় ‘কেস ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা দপ্তর একটি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বা সমস্যা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পালন করবে।
সরকারি সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশনের ওপরও জোর দেন তিনি। তার মতে, যতটা সম্ভব পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা গেলে স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে এবং ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের সুযোগ কমবে।
তিনি বলেন, দক্ষ অবকাঠামো, পূর্বানুমানযোগ্য নীতিমালা এবং সমন্বিত সরকারি সেবার সমন্বয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও সরবরাহব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা সহজ হবে।
কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যে নতুন সুযোগ
কাতাওকা বলেন, এসব উদ্যোগের অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যাপক অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে জাপান অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
কাতাওকার মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ী করিডরের সফল উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি বাংলাদেশের আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্প নেটওয়ার্কে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন