ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে, চীনা রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য।

বৈঠকের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা সময়মতো পৌঁছাতে নতুন নির্দেশনা দিল সমাজসেবা অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা সময়মতো পৌঁছাতে নতুন নির্দেশনা দিল সমাজসেবা অধিদপ্তর

সমাজসেবা অধিদপ্তর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত এবং সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর জন্য প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।

এই নির্দেশনা ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

সঠিক এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর পূর্বে উপকারভোগীদের মোবাইল এবং ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।

এছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে এবং ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনার জন্মদিনে চবিতে ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর দাবি, প্রক্টর বলছেন ‘এডিটেড’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


শেখ হাসিনার জন্মদিনে চবিতে ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর দাবি, প্রক্টর বলছেন ‘এডিটেড’

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রধান ফটকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ছবিটি ‘এডিটেড’ হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের মধ্যে ব্যানারটি নতুন করে টানানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা আবরার শাহরিয়ারের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের প্রধান ফটকে পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে একটি ব্যানার টানানো হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান দাবি করেছেন যে, ব্যানারটি নতুন করে টানানো হয়নি। তিনি বলেন, "এর পূর্বেও আলাওল হলের সামনে এ ধরনের ব্যানার টানানো হয়েছিল। এগুলো আগেই তোলা ছবি। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নতুন করে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে।"

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় আরটিভি নিউজকে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যেসব নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দোসর রয়েছে, তারাই এদেরকে পেট্রোনাইজ করার চেষ্টা করছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই, তারা যেন অতি দ্রুত যারা এই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পেছন থেকে পেট্রোনাইজ করছে তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসে।"

তিনি আরও বলেন, "ছাত্রলীগকে মোকাবিলায় কোনো দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একদম ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যানার লাগানো, পোস্টার লাগানো এগুলো সব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছি।"

কিছুদিন আগে তাদের নিষিদ্ধ সংগঠনের এক নেতা ফেসবুকে লাইভে এসে প্রোগ্রাম করার ঘোষণা দেয় এবং খবর পাওয়া গেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে তারা প্রোগ্রাম করেছে।

তিনি জানান, "এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। আমরা ছাত্রসংগঠন হিসেবে তাদেরকে মোকাবিলা করতে পারি না, আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।"

সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, "তাদের মধ্যে এখন একটি আত্মবিশ্বাস চলে এসেছে যে তাদের নেত্রী ফিরবে, তারা আবারও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে।"

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যে অংশ তাদেরকে সহযোগিতা করছে, এতগুলো সিকিউরিটি গার্ড, পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা প্রোগ্রাম করে চলে যায়? এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। চাকসু জিএস ও শিবির নেতা সাইদ বিন হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি একটি প্রোগ্রামে আছেন।

এ নিয়ে শাখা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ খালেদ আর টিভি নিউজকে বলেন, "আলাওল হল সহ বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সঙ্গে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখা যায়।"

তিনি অভিযোগ করেন, "এটির অন্যতম কারণ হলো প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থার গ্রহণ না করা।"

শিবির নেতা ও চাকসু যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, "যে ব্যানারটি টানানো হয়েছে, সেটি আসলেই রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতের কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।"

এ ধরনের ঘটনা কেন বারবার ঘটছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা প্রতিবারই এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর পর প্রশাসনকে জানাই।"

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, "যে ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা এডিটেড।"

তিনি জানান, "আমরা রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে টহলে ছিলাম। এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা না। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।"

উল্লেখ্য যে এর আগে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর একই স্থানে রাতের আঁধারে ব্যানার লাগিয়েছিল নিষিদ্ধ সংগঠনটি। পরে সকালে শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ার পরপরই ব্যানারটি সরিয়ে ফেলা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার সুরক্ষা আইনকে নিপীড়নমূলক হতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


সাইবার সুরক্ষা আইনকে নিপীড়নমূলক হতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ যাতে নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং সাংবাদিক বা গণমাধ্যম এর শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সর্বদা সতর্ক রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ ও বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে এই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনার জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত কন্সালটেশন সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী প্রেস ব্রিফিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধন আনার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া বিলটি পূর্বে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা নির্দেশ দিয়েছে যে, সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ করা হবে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেজন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং সাইবার স্পেসের ব্যবহারকারীরা তাদের মূল্যবান মতামত পাঠিয়েছেন, যা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিভিন্ন সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এটি সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক। গত ১০ সেপ্টেম্বর সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তারা পরবর্তী সভায় সুস্পষ্ট লিখিত মতামত প্রদান করবেন অথবা ওয়েবসাইটে পাঠাবেন। অনেকেই আজকের বক্তব্যে মতামতের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহবুব আনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও কিছু সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা প্রয়োজন, যাতে গণমাধ্যম কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজ না হয় এবং আইনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ‘সেভিং ক্লজ’ বা সুরক্ষা অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করা যায়। সরকার এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে যে- কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ আসার পর তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে কাউকে ঝুলে থাকতে না হয়, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Time Limit) নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সার্বিক সমন্বয় ও পরামর্শ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়ার সমন্বয় করবে। এই সমন্বিত কার্যক্রমে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং আইটি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্যানেল সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবেন এবং ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর্যায়সমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়ার আগে পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনেরা আবারও মতামত প্রদানের পূর্ণ স্বাধীনতা পান। প্রাপ্ত মতামত গ্রহণযোগ্য হলে তাও খসড়ায় যুক্ত করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর বিলটি কেবিনেটের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। তবে সংসদে নেওয়া হলেও তাড়াহুড়ো করে তা পাস করা হবে না; সংসদীয় আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার স্পেসের বিভিন্ন অপরাধ ও সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি (Social and Religious Harmony) এবং পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের (International Standards) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তামিলনাড়ুতে সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলে ২২ ক্যারেটের সোনার আংটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


তামিলনাড়ুতে সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলে ২২ ক্যারেটের সোনার আংটি

ভারতের তামিলনাড়ু সরকার সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলে নবজাতককে এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার প্রকল্প শুরু করেছে। এই প্রকল্পের নাম ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টাম’ বা ‘মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প’। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নবজাতকেরা ২২ ক্যারেটের সোনার আংটি পাবেন।

মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজ্য সরকার এ জন্য বছরে ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে।

এই প্রকল্পের আওতায় তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকেরা সুবিধা পাবেন। তবে, কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, শিশুর মাকে তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড ইনফ্যান্ট কোহর্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ (PICME) ব্যবস্থায় নিবন্ধিত থাকতে হবে। মায়ের ‘রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ’ (RCH) আইডি থাকা বাধ্যতামূলক।

২০২৬ সালের ২২ জুন বা এর পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই সুবিধার আওতায় আসবে। প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের জন্য বিশেষ বিতরণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি সোনার আংটিতে আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকবে এবং আংটিগুলো বিশেষ প্যাকেটে সরবরাহ করা হবে, যাতে প্যাকেট খোলা হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা যায়।

তামিলনাড়ুর ১০৭টি হাব বা বিতরণকেন্দ্র ব্যবহার করে প্রকল্প উদ্বোধনের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের আংটি বিতরণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ শিশুকে আংটি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রকল্প চালুর পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই আংটি দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

তামিলনাড়ু সরকারের মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নবজাতককে সোনার আংটি উপহার দেওয়া নয়। বরং, মাতৃত্বকে সম্মান জানানো, গর্ভবতী নারী ও মায়েদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করা।

তামিল সংস্কৃতিতে শিশুর জন্মের পর মায়ের ভাইয়ের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সেই পারিবারিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম’ বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরুণ রাজ। তিনি বলেন, সন্তান জন্মের পর একজন মামা তাঁর বোন ও নবজাতকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সেই সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাচ্ছে।

তবে বিরোধী শিবির প্রকল্পটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে। ডিএমকের নেতা টিকে এস এলাঙ্গোভান বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন বাড়ছে, তখন বিনা মূল্যে সোনার আংটি দেওয়া তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করবে না। তিনি কৃষকদের দুর্ভোগ ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাছাড়া, সোনার আংটি কেনার কাজে তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস করপোরেশনকে ব্যবহার করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এই সংস্থাটি সাধারণত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার দায়িত্ব পালন করে। নবজাতকদের জন্য সোনার আংটি কেনার ক্ষেত্রে এই সংস্থাকে ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটিকে মাতৃত্বের সম্মান ও জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও এর ব্যয়, বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%