ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা জোরদারে সেনা মোতায়েন


দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা জোরদারে সেনা মোতায়েন

লেবাননের সেনাবাহিনী মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্যে ইসরাইলের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত তিনটি ‘পাইলট জোন’-এর একটিতে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে।

এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই সময়, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময়, লেবাননে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, এখনও দেশের কিছু এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী তথাকথিত তিনটি পাইলট জোনের মধ্যে শুধুমাত্র একটির উপকণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যান্য দখলকৃত এলাকা নিয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি।

বাকি দুটি পাইলট জোনে পূর্ব থেকেই লেবাননের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সেনাবাহিনী একটি বিবৃতিতে জানায়, ‘আজ সকালে নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জাওতার আল-গারবিয়া এলাকায় সেনা ইউনিট মোতায়েন শুরু হয়েছে।’

লেবাননের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, লেবাননের পতাকা বহনকারী কয়েকটি সামরিক যান ইসরাইলের ভাষায় ‘নিরাপত্তা অঞ্চলের’ সীমানায় অবস্থিত গ্রামে প্রবেশ করছে।

হিজবুল্লাহ, ইরানের সমর্থনে মার্চ মাসে ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা চালানোর মাধ্যমে লেবাননকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এর পরই ইসরাইল লেবাননে অভিযান শুরু করে।

গত মাসে লেবানন ও ইসরাইল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

হিজবুল্লাহ বারবার এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিরস্ত্র হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের পুরো সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘পাইলট এলাকাগুলোর একটিতে’ নিজেদের বাহিনীর অবস্থান পুনর্বিন্যাস করবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুবাই পুলিশ বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


দুবাই পুলিশ বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার জন্য কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে সম্প্রতি দুবাই পুলিশ দুদককে চিঠি দিয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এর জবাব দুই-এক দিনের মধ্যে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার নথিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে দুবাই পুলিশ। এরপর দেশে ফেরানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মাত্র দুই দিনের মধ্যে সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত করে কমিশন প্রত্যর্পণপত্র পাঠায়।

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, চিঠির জবাবে এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত পাঠানোর জন্য নীতিগত সম্মতি দেওয়ার মাধ্যমে মামলাসহ কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করে দুবাই পুলিশ সম্প্রতি চিঠি পাঠিয়েছে। আমরা তাদের পাঠানো চিঠি হাতে পেয়ে জবাব প্রস্তুত করতে শুরু করেছি।

বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অকথ্য সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ছয়টি মামলা করা হয়েছে দুদক কর্তৃক। এর মধ্যে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার বিচারকাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনাটির প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার উচ্চতর তদন্তের জন্য দুটি কমিটি গঠনসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রায় ৮ ঘণ্টা ব্যাপী অবরোধের পর শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার কারণে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিকভাবে চালু হয়।

মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় প্রশাসনের, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি তদন্ত কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর তদন্ত করবে এবং অপর এক কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হবে।

সভায় আরেকটি সিদ্ধান্ত ছিল, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হবে। তবে তিনি যদি চান, তাহলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এই ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস আমরা পেয়েছি। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান জানান, রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে এবং কয়েকটি দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে আমরা পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন করেছিলাম অবরোধ তুলে নিতে। শিক্ষার্থীদের যে চার দফা দাবি ছিল, তার সবগুলোই মোটামুটিভাবে পূরণ করতে পেরেছি। যে ব্যক্তিটি মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে, সে ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটি এবং রেলের জন্যও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়েছিল এবং বহু যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

পরে, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এমনকী, পরবর্তীতে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ শনাক্তে বিনামূল্যে বিশেষ ক্যাম্প হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


রাজশাহীতে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ শনাক্তে বিনামূল্যে বিশেষ ক্যাম্প হচ্ছে

উত্তরবঙ্গের শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত করা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল রাজশাহী।

আগামী ২২ থেকে ২৪ জুলাই প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে চীনের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবদুল মান্নান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চীনের FUWAI YUNNAN CARDIOVASCULAR HOSPITAL, CHINESE ACADEMY OF MEDICAL SCIENCES (FYCH)-এর সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি দল এবং এনআইসিভিডির পরিচালকসহ আটজন পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দল ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।

২১ জুলাই পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি শিশুর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের হৃদরোগের তীব্রতা ও জটিলতা নির্ণয় করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেবেন।

যদি প্রয়োজন হয়, রোগীদের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা অথবা আরও উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাসপাতালটি বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার জন্য সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ টাকার ওষুধ হাসপাতালের ভর্তি দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

নতুন ক্যাথল্যাব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে অন্তত ১০০ জন গরিব রোগী ৫০ শতাংশ ছাড়ে এবং ৫০ জন দরিদ্র রোগী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এনজিওগ্রামের সুযোগ পাবেন।

এছাড়া নতুন ল্যাব রিএজেন্ট ব্যবহারের ফলে হৃদরোগসংক্রান্ত ব্যয়বহুল ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।

লিখিত বক্তব্যে সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দ ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা গেলে আরও বেশি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ সরাসরি বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এতে তাদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বল্প ব্যয়ে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের পরিচালক (মেডিকেল) অধ্যাপক ডা. রইছ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, প্রশাসনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ওয়াসিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খোকন, নির্বাহী সদস্য এনামুল হকসহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশৃঙ্খলা ব্যাপক ভারতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


বিশৃঙ্খলা ব্যাপক ভারতে

শিক্ষা সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি বর্তমানে ভারতের একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান শাসক দল বিজেপি নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে। এই আন্দোলনের শেষ কোথায় হবে, তা এখনও অজানা। ভারতের কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে।

আন্দোলনরত যুব নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকদের ওপর পুলিশ চড়াও হইলে আন্দোলন মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবার হাজারো মানুষ সমবেত হন। তবে, দিল্লির এই আন্দোলন আর সীমাবদ্ধ নেই। এটি ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেরালা রাজ্য, যেখানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে।

অন্যদিকে, রাজস্থান থেকে মানুষ এসে দিল্লিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই দাবি করেছেন এবং আন্দোলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের অভিযোগ করেছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) আয়োজিত প্রতিবাদে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। তারা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করেন।

মধ্যাঞ্চলীয় দিল্লি ব্যাপক সহিংসতার সাক্ষী হয়, যখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করলে অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারী আহত হন। পুলিশ প্রতিবাদস্থলের মঞ্চ এবং অস্থায়ী তাঁবুগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ১১৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত লাঠি এবং কাঁদানে গ্যাসের বিষয়ে পুলিশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার কোন মন্তব্য করেনি। তবে, বিরোধী দলগুলো তীব্র সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে।

সিজেপি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে ওঠে। তিনি সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের দিকে ঝুঁকে পড়া বেকার তরুণদের বোঝাতে কাকরোচ (তেলাপোকা) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এই মন্তব্যের ফলে বহু মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে, প্রধান বিচারপতি পরে ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি কেবল ভুয়া ও বানোয়াট ডিগ্রিধারিদের উদ্দেশ্য কর এটি বলেছিলেন।

সোমবারের বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে যে, সিজেপি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল না হওয়া সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষকে রাজপথে নামাতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবাদকারীরা গত এক মাস ধরে দিল্লির ৩০০ বছরের পুরনো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘জন্তর মন্তরে’ অবস্থান করছেন। ২৮ জুন অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের সাথে যোগ দিয়ে অননির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।

শনিবার পুলিশ তাকে জোরপূর্বক প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায় যেখানে তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আন্দোলন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোদীর বিরুদ্ধে সর্বজনীন অসন্তোষ প্রকাশের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াংচুক এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বেশিরভাগ প্রধান বিরোধী দল, কৃষক নেতা, অ্যাক্টিভিস্ট এবং বলিউড তারকা সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সমর্থন পেয়েছেন।

বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক ছিল এবং তিনি মোদীকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে যুব-বিরোধী প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

সোমবারের আগ পর্যন্ত সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসেনি। অবশেষে সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি শোনেন।

নাড্ডা, তিনিও ক্ষমতাসীন বিজেপির একজন শীর্ষ নেতা, বলেন, বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি প্রতিবাদকারীদের তাদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করতে এবং প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করার অনুরোধ করেন।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, নাড্ডার সাথে ১০ মিনিটের বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ছাড়া শেষ হয়েছে। সিজেপির আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এই বৈঠকের জন্য চার ঘণ্টা অপেক্ষা করার বিষয়টি সময়ের অপচয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল যে সিজেপি হয়তো বৈঠকের পর তাদের প্রতিবাদ স্থগিত করতে রাজি হবে।

কিন্তু দিনভর চলা সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেলে তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়।

দিনের বেলা প্রতিবাদকারীদের আহতদের জন্তর মন্তরে নিয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজন মাথা ফেটে রক্তে ভেসে যাওয়া যুবক ছিলেন, যাকে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসার ব্যবস্থা করছিলেন এবং অন্য একজনের পা ভেঙে গিয়েছিল।

প্রতিবাদকারীরা নাড্ডার সাথে সাক্ষাৎ করার সময়েই পুলিশের আধা-সামরিক বাহিনী জন্তর মন্তর খালি করতে আসে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাদা পোশাকের কর্মকর্তা ছিলেন, যাদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। তারা ইউনিফর্ম পরা পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে এবং তাদের লাঠিপেটা করতে শুরু করে।

মাইকে বারবার ঘোষণা হতে থাকে- এখনই চলে যান, এই প্রতিবাদ শেষ।

প্রতিবাদকারীরা আতঙ্কে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, পুলিশ ব্যারিকেড টপকাতে গিয়ে অনেকে মাটিতে পড়ে যান, কেউ কেউ লাঠির আঘাতে আহত হন, ভাই-বোন ও বন্ধুবান্ধবরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং নারীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এই অপারেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। কয়েক মিনিট পর, তাকে বাইরে পাঠানো হয় যাতে আমাকে পৌঁছে দিতে পারেন।

ইন্টারনেট ফের চালুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনী নারীদেরসহ প্রতিবাদকারীদের বেধড়ক পেটাচ্ছে এবং অনেকেই অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন।

সোমবার রাতে সিজেপি আবারও জন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং সামাজিক মাধ্যমে লেখা হয়: "এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শেষ হচ্ছে না!"

"পুলিশি বর্বরতা সত্ত্বেও সিজেপির সাহসী প্রতিবাদকারীরা ফিরে এসেছে। দিল্লিবাসী, বাইরে আসুন এবং জন্তর মন্তরে আমাদের সাথে যোগ দিন—এটি হয় এখন, না হয় কখনোই নয়! ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে!"—এই ছিল বার্তাটি।

পুলিশ পরবর্তীতে দাবি করে যে, প্রতিবাদকারীরা "উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণ" প্রদর্শন করেছে এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে।

পুলিশ আরও জানায়, "প্রতিবাদকারীরা পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে আক্রমণ করে, ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে।" সিজেপি পুলিশের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রথম আক্রমণকারী হওয়ার অভিযোগ এনেছে।

তাদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে আহত বা আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে সমর্থকদের যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

"আমাদের সমর্থকদের কাছে, বিশেষ করে পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারা মারধরের শিকার মেয়েদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আমরা আরও ভালো ব্যবস্থা নিতে পারতাম। দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণ থেকে আপনাদের রক্ষা করতে আমার আরো উদ্যোগী হওয়া উচিত ছিল," দিপকে এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে উল্লেখ করেন।

অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, এক আহত নারী সমর্থকের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি তাকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

সিজেপি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছে। ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET)-এর প্রশ্ন ফাঁসের পর তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে তাদের মূল দাবিতে পরিণত করেছে।

৩ মে অনুষ্ঠিত এই মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রায় ২২.৮ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়ার পর পরীক্ষাটি বাতিল হয়ে যায় এবং কয়েক সপ্তাহ পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এই কেলেঙ্কারিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এ পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, প্রধানের এই ফাঁসের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত। তবে তিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সিজেপি ও তাদের সমর্থকদের "বিশৃঙ্খলা সৃষ্টকারী উপাদানের বি-টিম" আখ্যায়িত করেছেন।

তবে সোমবারের বিশাল জনসমাগম, সহিংসতা এবং সিজেপির অবস্থান না ছাড়ার অনড় মনোভাব এই আন্দোলনকে দীর্ঘ সময় আলোচনার কেন্দ্রে রাখবে বলেই মনে হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%