ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশৃঙ্খলা ব্যাপক ভারতে


বিশৃঙ্খলা ব্যাপক ভারতে

শিক্ষা সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি বর্তমানে ভারতের একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান শাসক দল বিজেপি নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে। এই আন্দোলনের শেষ কোথায় হবে, তা এখনও অজানা। ভারতের কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে।

আন্দোলনরত যুব নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকদের ওপর পুলিশ চড়াও হইলে আন্দোলন মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবার হাজারো মানুষ সমবেত হন। তবে, দিল্লির এই আন্দোলন আর সীমাবদ্ধ নেই। এটি ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেরালা রাজ্য, যেখানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে।

অন্যদিকে, রাজস্থান থেকে মানুষ এসে দিল্লিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই দাবি করেছেন এবং আন্দোলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সোমবার (২০ জুলাই) আয়োজিত প্রতিবাদে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। তারা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করেন।

মধ্যাঞ্চলীয় দিল্লি ব্যাপক সহিংসতার সাক্ষী হয়, যখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করলে অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারী আহত হন। পুলিশ প্রতিবাদস্থলের মঞ্চ এবং অস্থায়ী তাঁবুগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ১১৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত লাঠি এবং কাঁদানে গ্যাসের বিষয়ে পুলিশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার কোন মন্তব্য করেনি। তবে, বিরোধী দলগুলো তীব্র সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে।

সিজেপি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে ওঠে। তিনি সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের দিকে ঝুঁকে পড়া বেকার তরুণদের বোঝাতে কাকরোচ (তেলাপোকা) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এই মন্তব্যের ফলে বহু মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে, প্রধান বিচারপতি পরে ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি কেবল ভুয়া ও বানোয়াট ডিগ্রিধারিদের উদ্দেশ্য কর এটি বলেছিলেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সোমবারের বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে যে, সিজেপি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল না হওয়া সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষকে রাজপথে নামাতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবাদকারীরা গত এক মাস ধরে দিল্লির ৩০০ বছরের পুরনো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘জন্তর মন্তরে’ অবস্থান করছেন। ২৮ জুন অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের সাথে যোগ দিয়ে অননির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।

শনিবার পুলিশ তাকে জোরপূর্বক প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায় যেখানে তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আন্দোলন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোদীর বিরুদ্ধে সর্বজনীন অসন্তোষ প্রকাশের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ওয়াংচুক এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বেশিরভাগ প্রধান বিরোধী দল, কৃষক নেতা, অ্যাক্টিভিস্ট এবং বলিউড তারকা সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সমর্থন পেয়েছেন।

বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক ছিল এবং তিনি মোদীকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে যুব-বিরোধী প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

সোমবারের আগ পর্যন্ত সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসেনি। অবশেষে সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি শোনেন।

নাড্ডা, তিনিও ক্ষমতাসীন বিজেপির একজন শীর্ষ নেতা, বলেন, বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি প্রতিবাদকারীদের তাদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করতে এবং প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করার অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, নাড্ডার সাথে ১০ মিনিটের বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ছাড়া শেষ হয়েছে। সিজেপির আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এই বৈঠকের জন্য চার ঘণ্টা অপেক্ষা করার বিষয়টি সময়ের অপচয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল যে সিজেপি হয়তো বৈঠকের পর তাদের প্রতিবাদ স্থগিত করতে রাজি হবে।

কিন্তু দিনভর চলা সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেলে তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়।

দিনের বেলা প্রতিবাদকারীদের আহতদের জন্তর মন্তরে নিয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজন মাথা ফেটে রক্তে ভেসে যাওয়া যুবক ছিলেন, যাকে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসার ব্যবস্থা করছিলেন এবং অন্য একজনের পা ভেঙে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিবাদকারীরা নাড্ডার সাথে সাক্ষাৎ করার সময়েই পুলিশের আধা-সামরিক বাহিনী জন্তর মন্তর খালি করতে আসে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাদা পোশাকের কর্মকর্তা ছিলেন, যাদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। তারা ইউনিফর্ম পরা পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে এবং তাদের লাঠিপেটা করতে শুরু করে।

মাইকে বারবার ঘোষণা হতে থাকে- এখনই চলে যান, এই প্রতিবাদ শেষ।

প্রতিবাদকারীরা আতঙ্কে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, পুলিশ ব্যারিকেড টপকাতে গিয়ে অনেকে মাটিতে পড়ে যান, কেউ কেউ লাঠির আঘাতে আহত হন, ভাই-বোন ও বন্ধুবান্ধবরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং নারীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এই অপারেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। কয়েক মিনিট পর, তাকে বাইরে পাঠানো হয় যাতে আমাকে পৌঁছে দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ইন্টারনেট ফের চালুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনী নারীদেরসহ প্রতিবাদকারীদের বেধড়ক পেটাচ্ছে এবং অনেকেই অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন।

সোমবার রাতে সিজেপি আবারও জন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং সামাজিক মাধ্যমে লেখা হয়: "এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শেষ হচ্ছে না!"

"পুলিশি বর্বরতা সত্ত্বেও সিজেপির সাহসী প্রতিবাদকারীরা ফিরে এসেছে। দিল্লিবাসী, বাইরে আসুন এবং জন্তর মন্তরে আমাদের সাথে যোগ দিন—এটি হয় এখন, না হয় কখনোই নয়! ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে!"—এই ছিল বার্তাটি।

পুলিশ পরবর্তীতে দাবি করে যে, প্রতিবাদকারীরা "উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণ" প্রদর্শন করেছে এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে।

পুলিশ আরও জানায়, "প্রতিবাদকারীরা পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে আক্রমণ করে, ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে।" সিজেপি পুলিশের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রথম আক্রমণকারী হওয়ার অভিযোগ এনেছে।

তাদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে আহত বা আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে সমর্থকদের যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

"আমাদের সমর্থকদের কাছে, বিশেষ করে পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারা মারধরের শিকার মেয়েদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আমরা আরও ভালো ব্যবস্থা নিতে পারতাম। দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণ থেকে আপনাদের রক্ষা করতে আমার আরো উদ্যোগী হওয়া উচিত ছিল," দিপকে এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে উল্লেখ করেন।

অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, এক আহত নারী সমর্থকের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি তাকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

সিজেপি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছে। ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET)-এর প্রশ্ন ফাঁসের পর তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে তাদের মূল দাবিতে পরিণত করেছে।

৩ মে অনুষ্ঠিত এই মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রায় ২২.৮ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়ার পর পরীক্ষাটি বাতিল হয়ে যায় এবং কয়েক সপ্তাহ পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এই কেলেঙ্কারিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এ পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, প্রধানের এই ফাঁসের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত। তবে তিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সিজেপি ও তাদের সমর্থকদের "বিশৃঙ্খলা সৃষ্টকারী উপাদানের বি-টিম" আখ্যায়িত করেছেন।

তবে সোমবারের বিশাল জনসমাগম, সহিংসতা এবং সিজেপির অবস্থান না ছাড়ার অনড় মনোভাব এই আন্দোলনকে দীর্ঘ সময় আলোচনার কেন্দ্রে রাখবে বলেই মনে হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় শ্যালককে অপহরণে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ছুরিকাঘাতে খুন হলেন দুলাভাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


বগুড়ায় শ্যালককে অপহরণে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ছুরিকাঘাতে খুন হলেন দুলাভাই

বগুড়ার শাজাহানপুর এলাকায় শ্যালককে অপহরণ থেকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন রঞ্জু মিয়া (৫০) নামে এক দিনমজুর। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তার ছেলে মো. জোবায়াত (২৫) এবং শ্যালক খোরশেদ আলম (৩৫)।

এই ঘটনা ঘটেছে সোমবার (২০ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ঘাষিড়া গ্রামে।

নিহত রঞ্জু মিয়া ওই এলাকার ফজলার রহমানের ছেলে এবং পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন।

স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, শাজাহানপুর উপজেলার ঘাষিড়া এলাকায় স্থানীয় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছিল। খোরশেদ আলম যখন সেই কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করছিল, তখন চক্রের সদস্যরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই জেরে সোমবার রাতে তারা একটি ইটভাটার সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করে অপহরণের চেষ্টা করতে থাকে।

খোরশেদের চিৎকার শুনে তাঁর দুলাভাই রঞ্জু মিয়া এবং ছেলে জোবায়েত এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপরও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রঞ্জু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক বিজনেসের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পাবনার সাঁথিয়ায় এক লিবিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে পুলিশের মাধ্যমে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যুবকের নাম আলিফ (২৩)। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রবাসী বাদশা আলীর স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলা আতাইকুলা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকার স্থানীয় একটি বাড়ি থেকে মরদেহটির উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

আলিফ পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং তিনি রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রইজ শেখের ছেলে ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বাদশা দুই বছর আগে লিবিয়া যান। পরে বাদশার স্ত্রীর সঙ্গে আলিফের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে আলিফ ওই নারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। এর পর মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশ আলিফের মরদেহ উদ্ধার করে, যা গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জালিয়াতির অভিযোগে পঞ্চগড়ের কলেজ অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


জালিয়াতির অভিযোগে পঞ্চগড়ের কলেজ অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্ক

পঞ্চগড়ে সনদ-সংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠে একটি বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার ২২ বছর ধরে সনদ জটিলতার কারণে এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। তবে চলতি বছরের জুন মাসে অধ্যক্ষ এমপিওভুক্ত হয়েছেন একই সনদের ভিত্তিতে। এর ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হকের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।

কলেজটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্তির জন্য কয়েক দফা আবেদন করেছেন। আবেদনের সঙ্গে তিনি ঢাকার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত এমবিএ ডিগ্রির সনদ জমা দেন। কিন্তু ২০২০ সালের ২৬ জুলাই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫৭.০৩.০০০০.০২৮.১৮.০১১.১৮-৫৭৭ নম্বর স্মারকের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ একরামুল হকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এবং তার এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত নয়। একই সঙ্গে তাঁর প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না।

এমপিও নীতিমালা-১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক পদে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাগত সনদও যাচাইকৃত হয়নি এবং পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র ও ছাড়পত্র ছিল না। এসব কারণে ওই সময় অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পরবর্তীতে একই সনদের ভিত্তিতে তিনি কীভাবে এমপিওভুক্ত হলেন, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজে গিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ একরামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, 'সমস্ত কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেই অধিদপ্তর থেকে আমি এমপিওভুক্তির চিঠি পেয়েছি।'

তবে ২০২০ সালে তার এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত নয় বলে উল্লেখ থাকার পরও কীভাবে তিনি এমপিওভুক্ত হলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, 'পরে অধিদপ্তর থেকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়েছে।' তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মো. খোরশেদ আলম মুঠোফোনে জানান, 'বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মন্তব্য করব।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু হলো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু হলো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা

প্রতিভা অন্বেষণমূলক মেগা ইভেন্ট ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাতীয় পর্বের উদ্বোধন করেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম, অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান এবং সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে গত ২ মে সিলেট থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে সফলভাবে বিভাগীয় ধাপ শেষ করে এখন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দল-মত নির্বিশেষে পুরো জাতিকে এক সুতোয় গাঁথা যায়। দেশের জার্সিতে মাঠে নামলে সবাই কেবল বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হন। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এই উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৮টি ইভেন্ট দিয়ে খেলা শুরু হলেও নতুন করে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়ে মোট ইভেন্টের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০টিতে। প্রথম আসর শেষ হওয়ার আগে থেকে পহেলা জুলাই থেকে দ্বিতীয় আসরের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন কোনো বিভাগীয় শহর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

এছাড়া দেশের ৪,৫৮৯টি ইউনিয়ন ও ৫০৩টি উপজেলা পর্যায় থেকে দল গঠন করে এই প্রতিযোগিতা বছরব্যাপী চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান প্রজন্মকে মুঠোফোনের আসক্তি এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাবা-মা চান তাদের সন্তান সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠুক। আর সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয় পর্যায় এবং বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে যেসব খুদে ক্রীড়াবিদ অসাধারণ নৈপুণ্য দেখাবে, তাদের চিহ্নিত করে বিকেএসপিতে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার যাবতীয় দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাঁতার প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগীতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৪ টায় আর্মি স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতার বর্ণাঢ্য সমাপনী ও সেরা ক্রীড়াবিদদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%